ওই ব্যক্তির তাওবা যে তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে এবং মামাতো ভাইকে উত্তেজনার সঙ্গে চুমো দিয়েছে…

জিজ্ঞাসা–৮৭১: আসসালামুয়ালাইকুম। হুজুর,  এক পুরুষ ছোট বেলায় তার চাচাতো ভাই এর ছেলে এবং মামাতো ভাইকে শাওয়াত এর সাথে কিস করে কয়েকবার। তারা একে অন্যর লজ্জাস্থান দ্বারা কিছু করে নি শুধু কিস করেছে একে অপরকে। শুধু একজন হস্তমৈথুন করেছে (যে তওবা করেছে সে) কিন্তু অন্যজনের শরীরের সাথে তার লজ্জাস্থান লাগায় নি শুধু শাওয়াত নিয়ে কিস করেছে। একজন এখন তওবা করে দ্বীন সাধ্যমতো মানার চেষ্টা করতেছে। অন্যজন নামাজ পড়ে কিন্তু এই গুনাহ থেকে তওবা করেছে কি না তা ওপর জন জানে না। ১। এখন যে তওবা করেছে সে কি পবিত্র নারীকে বিবাহ করতে পারবে? ২। তাদের এই গুনাহর জন্য দুনিয়াতে কি শাস্তির বিধান আছে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক? তাদের কি তাও পেতে হবে নাকি শুধু তওবা করলে হবে? ৩। তারা কি এই গুনাহ এর জন্য সমকামী হিসেবে সাব্যস্ত হবে? যেহেতু তারা পায়ুপথে কিছু করে নি? ৪। আর যে তওবা করে নি সে কি পবিত্র নারীকে বিবাহ করতে পারবে? যদি সে তওবা না করে তাহলে কি তার বিবাহ বৈধ হবে? ৫। সঠিক তওবা এই গুনাহ থেকে কিভাবে করতে হবে? ৬। এর মাধ্যমে কি হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে?–হুসেন আলী।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক: যেহেতু তাওবা করার পর আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, সুতরাং যিনি তাওবা করেন নি, তার জন্য আবশ্যক হল, তাওবা করে নেয়া। আর যিনি তাওবা করেছেন, তার জন্য কর্তব্য হল, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ না হওয়া। দেখুন, আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন,

قُلْ يَاعِبَادِي الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ।(সূরা যুমার ৫৩)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারীর পরকালীন শাস্তির ওয়াদার কথা উল্লেখের পর বলেন,

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًارَّحِيمًا
তবে যে তাওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(সূরা আল ফুরকান ৭০)

সুতরাং মূল বিষয় হল, তাওবা। তাওবা করার পর ‘পবিত্র নারীকে বিয়ে করা যাবে না’, ‘দুনিয়ার শাস্তি পেতে হবে কিনা?’, ‘তারা সমকামী হিসেবে সাব্যস্ত হবে কিনা?’–এজাতীয় অহেতুক চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

দুই: আর তাওবার মূল হল, লজ্জিত হওয়া। এমনকি সহিহ বুখারীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে এসেছে, মাশায়েখগণ এও বলেছেন, يَكْفِي فِي التَّوْبَةِ تَحَقُّقُ النَّدَمِ লজ্জিত হওয়াটা পাওয়া গেলেই চলবে, তাওবা হয়ে যাবে। হাদিসেও আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, النَّدَمُ تَوْبَةٌ লজ্জিত হওয়াটাই তাওবা। (সহিহ ইবন হিব্বান ২/৩৭৯)

সুতরাং আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হোন এবং তাওবা করেছেন; এটা বুঝানোর জন্য অধিকহারে ইস্তেফার করুন। ভবিষ্যতে আর এপাপকর্মে লিপ্ত হবেন না বলে দৃঢ় সংকল্প করুন। এই কাজে পুনরায় জড়িয়ে পড়া থেকে পরিপূর্ণ সতর্ক থাকুন। নেক কাজের প্রতি মনোযোগী হোন এবং তাওবা করার সময় আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা রাখুন। মনে রাখবেন, আমাদের গুনাহর চাইতে তাঁর রহমতের সংখ্যা আরো বেশি। আমরা যে পরিমাণে গুনাহ করতে পারি, তিনি এর চাইতে বেশি মাফ করতে পারেন।

তিন: উক্ত অনৈতিক কাজের মাধ্যমে হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে না। আব্দুল আযীয বুখারী রহ. বলেন, 

لا تثبت الحرمة باللواطة

লিওয়াতাহ অর্থাৎ পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে হুরমাত ( মুসাহারাত) সাব্যস্ত হয় না। (কাশফুল আসরার ১/৫৮০, কদিমি কুতুবখানা, করাচী)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − seven =