ওমরাহ কাকে বলে? হজ আর ওমরাহর মাঝে পার্থক্য কি? এটি কি বার বার করতে হয়?

জিজ্ঞাসা–৪৭৪: ওমরাহ হজ কি? হজ আর ওমরাহর মাঝে পার্থক্য কি? হজ জীবনে কয়বার করতে হয় আর উমরা কতবার করতে হয়? উমরাহ কখন ফরজ হয়? কোন সময় করতে হয়?–এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন দয়া করে। Ahona ahmed

জবাব:

এক. ওমরাহ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলোالزيارة والقصد জিয়ারত বা সফর ও ইচ্ছা। শরীয়তের পরিভাষায় ওমরাহ বলা হয়-

زيارة بيت الله الحرام على وَجْهٍ مخصوص، وهو النُّسك المعروف المتركِّب من الإحرام والتلبية، والطَّواف بالبيت، والسَّعي بين الصفا والمروة، والحلْق أو التقصير

শরীয়ত নির্দেশিত বিশেষ পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহর জিয়ারত করা। বিশেষ পদ্ধতিটি হল, ইহরাম, তালবিয়া, ক্বা’বা শরীরে চর্তুদিকে তাওয়াফ করা, সাফা ও মারওয়া’র মধ্যস্থলে সাঈ করা এবং মাথা মুণ্ডনো। (http://www.alukah.net)

দুই. হজ ও ওমরাহর মধ্যে অনেক ধরনের পার্থক্য বিদ্যমান। এ পার্থক্যটা গুরুত্ব এবং পদ্ধতির মধ্যে। যেমন,
১. হজ ফরয; প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তাদের জীবনকালে এটি পালন করা বাধ্যতামূলক যদি তারা শারীরিকভাবে উপযুক্ত এবং আর্থিকভাবে এটি করতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে ওমরাহ সুন্নত।
২. হজ এক নির্দিষ্ট সময়ে করতে হয় কিন্তু ওমরাহ বৎসরে যে কোন সময়ই করা যায়। তবে ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত ওমরাহ করা মাকরূহ।
৩. ওমরাহর মধ্যে আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান, দু’নামায এক সাথে আদায় করা ও খুতবার বিধান নেই। তাওয়াফে কুদূম এবং তাওয়াফে বিদা’ও নেই কিন্তু এই সব কাজ হজের মধ্যে রয়েছে।
৪. ওমরাহর মধ্যে তাওয়াফ আরম্ভ করার সময় তালবিয়াহ পড়া মওকুফ করা হয়। আর হজের মধ্যে জামরাতুল আক্বাবাহ’তে রামী (কংকর নিক্ষেপ) করার সময় মওকূফ করা হয়।
৫. ওমরাহ নষ্ট হলে বা জানাবত (ওই নাপাকী যা দ্বারা গোসল ফরয হয়।) অবস্থায় তাওয়াফ করলে (দম হিসেবে) একটা ছাগল বা মেষ জবেহ করা যথেষ্ট, কিন্তু হজে যথেষ্ট নয় বরং পরবর্তী বছর পুনরায় সম্পন্ন করতে হয়।

তিন. ওমরাহ সুন্নত; ফরজ নয়। এর দলিল হচ্ছে, জাবির রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, ওমরাহ বাধ্যতামূলক কিনা? তিনি উত্তর দিয়েছেন, لا، وأن تعتَمِرَ خيرٌ لك না। তবে ওমরাহ করা তোমার জন্য কল্যাণকর। (তিরমিযী ৯৩১)

বার বার হজ ওমরাহ করা জ্রুরি নয়। তবে হ্যাঁ, সামর্থ্য থাকলে বার বার হজ ওমরাহ করা যেতে পারে। কেননা, হাদিসে হজ-ওমরাহ বার বার করার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যেমন-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏ تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ ‏‏ ‏

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাযি. বর্ণনা করেন যে,  তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা হজ ও ওমরা একটার পর অপরটা কর; কারণ এ দুটো আমল দারিদ্র ও গুনাহ বিদূরিত করে দেয়। যেমন ভাটার আগুনে লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা-জং দূরিভূত হয়ে থাকে। একটি কবুল হজ্জের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। ( ইবনু মাজাহ ২৮৮৭, তিরমিযী ৮১০)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
আরো পড়ুন–

 নগদ টাকা নাই, জমি আছে; হজ ফরজ হয়েছে কিনা?
 হজ্ব আদায়ে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বদলী হজ্ব করা
এক সফরে একাধিক ওমরাহ করা
মসজিদে নববীতে চল্লিশ ওয়াক্ত নামায জরুরি মনে করা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =