দুঃশাসন চেনার উপায়

দুঃশাসন চেনার উপায়

দুঃশাসন চেনার উপায়

শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকী উসমানী

অনুবাদ
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

হামদ ও সালাতের পর!
দুঃসময় থেকে মুক্তি কামনা
হযরত সাঈদ বিন সামআ’ন রহ. ছিলেন একজন বিশিষ্ট তাবেয়ী। তিনি বলেন, আমি বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-কে বালক ও নির্বোধদের শাসন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে দেখেছি।
এর দ্বারা বুঝা যায়, অল্পবয়স্ক অনভিজ্ঞ অর্বাচীন নির্বোধের হাতে যদি শাসন ক্ষমতা চলে যায় তাহলে মানুষের জন্য তা নিঃসন্দেহে দুঃসময়। তাই সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. উক্ত দোয়া করতেন।

দুঃসময়ের তিনটি আলামত
সাঈদ বিন সামআ’ন রহ. বলেন, তিনি যখন এভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, দুঃশাসনের আলামত কী? নির্বোধ শাসকের শাসনকাল চেনার উপায় কী? তিনি উত্তর দিলেন,

أن تُقْطَعَ الأرحامُ ، ويُطاعَ المُغْوِي ، ويُعصَى المرشِدُ

এমন যুগ চেনার জন্য তিনটি আলামত রয়েছে–
এক. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।
দুই.  বিভ্রান্তকারীদের অনুসরণ করা হবে।
তিন. কল্যাণের পথ প্রদর্শনকারীদেরকে উপেক্ষা করা হবে।
যে যুগে উক্ত তিন আলামত পাওয়া যাবে, বুঝে নিবে, সে যুগটাই নির্বোধ ও বালকদের শাসনকাল।

কেয়ামতের  একটি আলামত

أَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ

নগ্নপদ, নগ্নদেহ, অপরের কাছে হাত পাতে এমন লোক ও ছাগলের রাখালেরা আকাশছোঁয়া ভবন নিয়ে পরস্পরে গর্ব করে বেড়াবে।
অর্থাৎ যাদের অতীত ও বর্তমান উভয়টাই কলঙ্কময়। দুর্নীতি ও অসৎ পথে যাদের ব্যাপক আনাগোনা। যারা শিক্ষা থেকে ছিল অনেক দূরে। এক কথায়– যারা হীন ও ইতরশ্রেণীর; তারাই শাসক বনে যাবে। নিজেদের সুরম্য অট্টালিকা নিয়ে গর্ব করে বেড়াবে।

কর্ম যেমন, শাসক তেমন
সাহাবী আবূ হুরায়রা রাযি.-এর প্রার্থনা থেকে বোঝা যায়, অযোগ্য লোকের শাসন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। যদি কেউ এজাতীয় দুঃশাসনের শিকার হয়–যেমনটি বর্তমানে আমরা হয়েছি– তখন তার করণীয় কী?
এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ বলেন, মনে রাখবে, তোমাদের অপকর্মের কারণেই তোমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় অত্যাচারী শাসক।
যেমন-এক হাদীসে এসেছে,

كَمَا تَكُونُوا كَذَلِكَ يُؤَمَّرُ عَلَيْكُمْ
তোমরা যেমন হবে তেমন শাসক তোমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।

অপর হাদীসে এসেছে,

إنما أَعْمَالَكُمْ عُمَّالُكُمْ

তোমাদের কর্মকাণ্ডই এক পর্যায়ে তোমাদের শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।

সুতরাং তোমাদের আমল-কর্ম খারাপ হলে দুষ্টু শাসকগণ তোমাদের ঘাড়ে চেপে বসবে। এ বিষয়ে শব্দ ভিন্নতাসহ আরো বহু হাদীস রয়েছে।

এমন সময়ে আমাদের কি করা উচিত?
এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যখন তোমাদের উপর দুঃশাসন চেপে বসবে তখন শাসকদের মন্দ বলো না। তাদেরকে গালি দিও না। অর্থাৎ দুর্নীতিবাজ ধাপ্পাবাজ ইত্যাদি শব্দ-তীর দ্বারা তাদের কুৎসা বলো না। বরং আল্লাহমুখী হয়ে এভাবে প্রার্থনা করো– হে আল্লাহ আপনি আমাদের উপর দয়া করুন। আমাদের বদ আমলগুলো মাফ করে দিন। আমাদেরকে শুদ্ধ করে দিন। নেক সৎ নীতিবান ও আল্লাহভীরু শাসক আমাদেরকে দান করুন।
দোয়া করার এ পদ্ধতি হাদীস শরীফে এসেছে।
এর মাধ্যমে দুঃসময়ে আমাদের করণীয় কী; তা বলে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সকাল-সন্ধ্যা শাসকদের গালমন্দ না বলে বরং আল্লাহমুখী হন এবং নিজের অপকর্মগুলো শুধরে নিন।

আমরা কী করছি!
অথচ আমরা এর বিপরীত পথে চলছি। সকাল-সন্ধ্যা শুধু এই বলে কান্নাকাটি করছি যে, আমাদের শাসক খারাপ। আমাদের ঘাড়ে বসে আছে অযোগ্য শাসকগোষ্ঠী। দু’চার জন লোক একত্র হলেই এই গল্পে মেতে উঠি। হাপিত্যেশের তুবড়িতে মুখের ফেনা বের করে ছাড়ি। শাসক ও প্রশাসনের উপর অভিসম্পাত ছুঁড়ি। এসব তো আমরাই করি।
কিন্তু একবারের জন্য কি ভেবে দেখেছি, আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহমুখী হয়ে কি এই দোয়া করেছি যে, হে আল্লাহ আমাদের পাপের ফলে আমাদের উপর দুঃশাসন চেপে বসে আছে! আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন। এই দুষ্ট শাসক হটিয়ে আমাদের জন্য একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক দান করুন।
বলুন, আমরা কয়জনে এই দোয়া করি! অথচ সমালোচনার জগতে কেউ পিছিয়ে নেই। দিনরাত শাসকদের মন্দ বলছি। এমন কোনো আসর-আড্ডা নেই, যা এ থেকে মুক্ত। কিন্তু কখনো দুঃশাসন থেকে মুক্তি চেয়ে আমরা দোয়া করি নি।
আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এই দোয়া করতে পারি। এই দোয়া না করার অর্থ হবে– রাসূলুল্লাহ প্রদর্শিত পথে আমাদের আমল হচ্ছে না।
অতএব সমালোচনা নয় বরং আল্লাহমুখী হোন। নিজের আমলকে শুদ্ধ করুন। আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দোয়া করুন। ইনশাআল্লাহ তিনি আমাদের উপর দয়া করবেন।

আল্লাহমুখী হন
হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, দুনিয়ার সকল শাসক ও নেতার অন্তর আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। তোমরা যদি আল্লাহকে খুশি কর, তার দিকে ফিরে আসো তাহলে তিনি তাদের অন্তরকে ঘুরিয়ে দিবেন এবং তাদের অন্তরে কল্যাণ সৃষ্টি করে দিবেন। আর যদি এদের মধ্যে কল্যাণ না থাকে তাহলে এদেরকে হটিয়ে তিনি এদের পরিবর্তে ভালো শাসকদান করবেন।
সুতরাং শুধু গালমন্দ আর সমালোচনা দ্বারা কোনো ফায়দা নেই। বরং আসল কর্তব্য হল, আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য তাঁর দিকে ফিরে আসা। কিন্তু দিলের দরদ নিয়ে খুব কম মানুষই এই কাজ করে। অথচ এই কাজ না করলে তো আল্লাহর সাহায্য আসবে না। আর আমরা আমাদের কাজ করলে আল্লাহ তার কাজ করবেন। তাই সমালোচনা না করে নিজের কাজ করুন। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন এবং নিজেকে শুদ্ধ করার ফিকির করুন।

দুঃশাসনের প্রথম ও দ্বিতীয় আলামত
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. দুঃশাসনের প্রথম  আলামত এই বলেছেন, আত্মীয়তার বন্ধন ব্যাপকহারে ছিন্ন হবে। অর্থাৎ আত্মীয়দের অধিকার পদদলিত করা হবে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় আলামত বলেছেন, পথভ্রষ্টকারীদের ব্যাপকহারে অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ যে যত বেশি গোমরাহ হবে, সাধারণ মানুষের মাঝে তাকে অনুসরণ করার প্রবণতা তত বেশি হবে। বর্তমানে এর বাস্তবতা নিজের চোখে দেখুন। বর্তমানে যে যত বেশি অন্যকে বিপথে নিতে পারছে, যার নিকট কোরআন ও হাদিসের ইলম নেই, উপরন্তু সে মূর্খ-প্রতারক– এমন লোক একটু চাপাবাজি দেখালেই জনসাধারণ তার পেছনে ছোটা শুরু করে। এরপর সে জনসাধারণকে ইচ্ছে মতো নিজের পেছনে ঘোরাতে থাকে। সে নিজে পথভ্রষ্ট, মানুষকেও পথভ্রষ্ট করে ছাড়ে। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সে মহান পথপ্রদর্শক সেজে বসে। মানুষও দেখেনা যে, কোরআন-সুন্নাহর মাপকাঠিতে তার অবস্থানটা কোথায়? আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন।

আগা খানের মহল
একবার সুইজারল্যান্ড গিয়েছিলাম। পথিমধ্যে একটি চোখ-ধাঁধানো অট্টালিকা পড়ল। আমার সঙ্গের এক ভদ্রলোক বললেন, এটা আগা খানের মহল। লেকের পাড়ের মহলটিকে মনে হল, দুনিয়ার জান্নাত। কারণ, ওই দেশের ঘরবাড়ি সাধারণত ছোটখাটো হয়। বড় বাড়ি ও ভবন ওই দেশের জন্য কল্পনার ব্যাপার। অথচ আগা খানের মহলের ব্যপ্তি তিন কিলোমিটারের কম নয়। মহলে রয়েছে সবুজ বাগান ঝর্ণা ও বিশাল প্রাসাদ। চাকর-চাকরানীর অভাব নাই। তাদের নিকট তো সব ধরনের অশ্লীলতা ও বিলাসিতা বৈধ। মদ পানের আসর সব সময় সেখানে জমজমাট থাকে।

আগাখানদের নিকট একটি প্রশ্ন
আমি আমার সঙ্গীকে বললাম, সবাই তো নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছে তাদের নেতা বিলাসিতার সাগরে ডুবে আছে। একজন সাধারণ মুসলমানও যেসব বিষয় হারাম মনে করে, তাদের নেতা সেসব বিষয় অনায়াসে রপ্ত করছে। এরপরেও তার অনুসারীরা তাকে নেতা মনে করে কিভাবে?!
আমার কথা শুনে আমার এক সঙ্গী বললেন, মজার ব্যাপার হলো, আপনার এই কথাটি আমি তার এক অনুসারীকে বলেছিলাম। তাকেও বলেছিলাম, তোমরা যদি একজন নেককার মানুষকে নিজেদের নেতা হিসেবে মেনে নিতে তাহলে সেটা হতো বুদ্ধিমানের কাজ। অথচ তোমরা নেতা বানিয়ে রেখেছ এমন এক ব্যক্তিকে যে বিলাসিতার সাগরে ডুবে আছে।

আগা খানের অনুসারী জবাব
আগা খানের ওই অনুসারী তখন আমাকে উত্তর দিল, আমাদের নেতা তো মহান! তিনি দুনিয়ার এই সাধারণ প্রাসাদগুলোকেই পেয়ে তুষ্ট! তার আসল মাকাম তো হল জান্নাত। কিন্তু তিনি সে জান্নাতে না গিয়ে আমাদেরকে হেদায়েত করার উদ্দেশ্যে এসেছেন দুনিয়াতে। সুতরাং এটাতো আমাদের জন্য তার অনেক বড় ত্যাগ।  দুনিয়ার এসব নেয়ামত জান্নাতের নেয়ামতের তুলনায় তো কিছু নয়। অথচ তিনি সেসব নেয়ামত ত্যাগ করেছেন আমাদের এই জন্য!
আসলে হাদিসে এ ধরনের চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে যে, দুঃশাসনের একটি আলামত হবে, স্বচক্ষে দেখতে পাবে, লোকটি বিপথে আছে। তবুও মানুষ তার অনুসরণ করবে ব্যাপকহারে।

অনুসরণ করা হচ্ছে ভন্ডদের
দেখুন, মূর্খ পীরদের আধিপত্যও আজ বেশ রমরমা। তাদের সাম্রাজ্যে গেলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। সাজানো গদি জমজমাট আড্ডা পানাহারের ধুমধাম তো রয়েছেই। পাশাপাশি রয়েছে নানা প্রকার বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা। এরপরেও এসব মূর্খদের ভক্তের অভাব নাই। ভক্তরা বলে, এ পৃথিবীর বুকে আমার পীর আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েতের প্রদর্শক।
হাদিসে উল্লেখিত গোমরাহকারী এরাই। মানুষ এদের অনুসরণ করছে। কারণ, এদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ভেলকিবাজি। যেমন, সম্মোহিত করে কারো হৃদয়ে কম্পন সৃষ্টি করে দেওয়া। কেউ বা পীরের সোহবতে ভালো স্বপ্ন দেখে। কেউ বা এখানে বসে খানায় কা’বাতে নামাজ পড়ে আসে। আরও কত কী! এসব ভেল্কিবাজির কারণে সাধারণ মানুষ ভণ্ডপীরদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা মনে করে, উনি মহান পথপ্রদর্শক। আসমান থেকে নাযিল হয়েছে। ফলে তিনি যা করবেন তাই মানতে হবে। হারামকে হালাল বললে, জায়েজকে নাজায়েজ বললে তাও মেনে নিতে হবে। দেখার প্রয়োজন নেই, শরীয়ত কী বলে। নাউজুবিল্লাহ।

দুঃশাসনের তৃতীয় আলামত
তৃতীয় আলামত হলো, আল্লাহর যেসব বান্দা সুন্নতের অনুসারী। যারা নিজেদের জীবনকে শরীয়তসম্মতভাবে চালানোর চেষ্টা রাখেন এবং দীন সম্পর্কে যারা সঠিক জ্ঞান রাখেন। তাদের নিকট কোনো ব্যক্তি এলে কষ্টের কাজ দিবে। ফরজ আদায়ের কথা বলবে। নামাজ পড়ার কথা বলবে। জবানের হেফাজতের কথা বলবে। গুনাহ ত্যাগ করার কথা বলবে এবং বলবে অমুক কাজ করো আর অমুক কাজ ছাড়। আর এসব কাজ করতে কষ্ট হয়। তাই মানুষ এদের নিকট আসতে চায় না।
মোট কথা, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেছেন, বিভ্রান্ত ও গোমরাহ লোকদের অনায়াসে অনুসরণ করা হবে এবং যারা হেদায়েতের সঠিক পথ দেখায় তাদের অবাধ্যতা করা হবে। তারা যদি বলেন, অমুক কাজ হারাম–করা যাবে না। উত্তরে বলা হবে, আপনি হারাম বলার কে? এখানে হারাম হওয়ার কী আছে? অমুক বিধান আর এ বিধানের মাঝে পার্থক্য কী? যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি না বলছেন আপনার কথা মানবো না। উপরন্তু তাদেরকে গালি দেওয়া হয় এবং বলা হয়, ‘মোল্লারা দীনকে কঠিন ও সংকীর্ণ করে ফেলেছে। এদের কারণে বাঁচাও মুশকিল।’ এ ধরনের সকল ফিতনাই আমাদের যুগে বিদ্যমান।

ফিতনা থেকে বাঁচার পথ
এসব ফেতনা থেকে বাঁচার উপায় হল, আপনি যার নিকটে যাবেন। যাকে আপনার নেতা বানাবেন। যাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবেন। দেখবেন, সে সুন্নতের অনুসরণ করে কি-না। সর্বপ্রথম এটা দেখুন। সে কত বৈচিত্রময় কারামতি দেখাতে পারে–এসব দেখবেন না। কারণ, অলৌকিক কোনো তেলেসমাতি দেখানোর সাথে দীনের কোনো সম্পর্ক নাই।

একজন পীর সমাচার
একবার এক পীর সাহেবের একটি পামপ্লেট দেখেছি। সেখানে লেখা ছিল– যে পীর সাহেব এখানে বসে নিজের মুরিদদেরকে হেরাম শরীফে নামাজ পড়াতে পারবেন না, সে পীর হওয়ার যোগ্য নয়। অর্থাৎ যে পীর মুরিদকে সম্মোহিত করে করাচিতে বসে তাকে হারাম শরীফ দেখানোর ভেল্কি দেখাতে পারে, সেই পীর হওয়ার যোগ্য। একে জিজ্ঞেস করুন, এই জাতীয় কথা কোরআনের কোন আয়াতে আছে কিংবা হাদীসের কোন কিতাবে আছে? সে উত্তর দিতে পারবে না। কারণ, কোরআন হাদিসে এ ধরনের কোনো কথা নেই।

রাসুল -এর তরিকা
রাসূলুল্লাহ মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। মদীনায় থাকা অবস্থায় বাইতুল্লাহর কথা স্মরণ করে মনের দুঃখ প্রকাশ করতেন। একবার বেলাল রাযি. জ্বরে পড়েছিলেন। তখন তিনি মক্কার কথা স্মরণ করে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, হে আল্লাহ! আমার আঁখিযুগল মক্কার পাহাড় দেখতে পাবে কখন? কিন্তু রাসূলুল্লাহ একবারের জন্যও তাকে বলেননি যে, আসো, তোমাকে মক্কার হারামে নামাজ পড়িয়ে দিচ্ছি। তাহলে রাসুল -ও কি শায়েখ বা পীর হওয়ার যোগ্য নয়!! নাউজুবিল্লাহ। আসলে পীর হওয়ার জন্য অলৌকিক ঘটনা দেখানো জরুরী নয়। এটা পীর হওয়ার মাপকাঠিও নয়।

হ্যাঁ, এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে একটি মাপকাঠির সন্ধান দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তরের অধিক ফেরকা হবে। এরা মানুষকে জাহান্নামের দিকে টানবে। এসবই ধ্বংসের পথ। আমি এবং আমার সাহাবারা যে পথে রয়েছে ওই পথই একমাত্র জান্নাতের পথ। তোমরা এই পথ কে আঁকড়ে ধরো।
সুতরাং যে রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করে সে-ই শুধু পীর হতে পারবে।

সারকথা
অতএব কারো অনুসরণ করার পূর্বে দেখুন, সে কী পরিমাণ সুন্নত মেনে চলে। কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী কতটুকু আমল করে। যদি সে এই মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারে তাহলে তার অনুসরণ করুন। অন্যথায় থাক তাকে এড়িয়ে চলুন। এই মাপকাঠিটিতে উত্তীর্ণ হতে না পারলে সে যত বড় তেলেসমাতি দেখাক না কেন এবং আপনাদেরকে সম্মোহিত করুক না কেন– তার অনুসরণ করা থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হেদায়েত দান করুন এবং গোমরাহী থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।