বড়দের ঝগড়ার কারণ ও প্রতিকার

বড়দের ঝগড়ার কারণ ও প্রতিকার

الله      الله     الله

বড়দের ঝগড়ার কারণ ও প্রতিকার

মূল

মাহবুবুলওলামা হযরত মাওলানা পীর
জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী মুজাদ্দেদী

অনুবাদ ও সম্পাদনা
শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী

اَلْحَمْدُ لِلّهِ وَكَفَى وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِيْن َاصْطَفَى اَمَّا بَعْدُ! فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ. بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ. وَاللهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ. سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّة ِعَمَّا يَصِفُوْنَ. وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ. وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعاَلَمِيْنَ. اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلَى الِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّبَارِكْ وَسَلِّمْ.

বড়দের ঝগড়াও বড়
আজকের শিরোনাম ‘বড়দের ঝগড়া’। যারা যৌবনে পদার্পণ করে, বুদ্ধি পরিপক্ক হয় তাদেরও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। যৌবনে এসে মানুষের আবেগ ও চিন্তা সমৃদ্ধ হয়। এই বয়সের প্রতিটি কথার প্রতিক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হয়। এই বয়সে মানুষ অনেকদিন পর্যন্ত কথা মনে রাখে। যার ফলে Complication বা জটিলতা তৈরি হয়। এই বয়সে মানুষ এতটাই পরিপক্ক হয় যে, সে নিজের অবস্থা ও অবস্থান অন্যদের থেকে লুকিয়ে-চুরিয়ে রাখতে পারে। এজন্য চেহারা দেখে মনে হবে, সেতো আমার সঙ্গে ঠিকই আছে, অথচ তার মনের ভেতরে থাকে ‘অন্যকিছু’। এই বয়সে মানুষ আনন্দ-বেদনা লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে পটু হয়।
সুতরাং বোঝা গেল, প্রথমত, এইবয়সে একটা কথা অনেকদিন মনে রাখে। দ্বিতীয়ত, নিজের ভেতরের Feelings বা অনুভূতিগুলো অন্যকে বুঝতে দেয় না। তৃতীয়ত, এইদু’টি বিষয় আগুনে তেলের কাজ এভাবে দেয় যে, অন্যের ভালোগুলো সহজেই ভুলে যায়। কিন্তু ভুলগুলো মোটেও ভুলে না। এই তিনটি কারণে বড়দের ঝগড়া বড় এবং দীর্ঘমেয়াদী হয়।

বড়দের চিন্তা
এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরেকটি বিষয়। তাহল, বড়দের মধ্যে চিন্তাশক্তিও শক্তিমান হয়। তারা একটি ছোট বিষয়কে মনে ধরে রেখে চিন্তা শুরু করে দেয়। ছোট্ট বিষয়েও তারা Food For Thought তথা চিন্তার খোরাক পেয়ে যায়। এর ওপর তারা কল্পনার ইমারত গড়তে পারে। আচ্ছা! অমুক আজ ভালো পোশাক পরে নি। মনে হয়, পরিবারে ভালো নেই। হয়ত বৈবাহিক-জীবনে সুখী নেই। না-কি শশুর বাড়িতে সমস্যা আছে? একটা কারণ তো অবশ্যই আছে। এভাবে কল্পনার জগতে কাহিনীও তৈরি হয়। ফলাফলও বের হয়ে আসে।

খারাপ ধারণার মন্দপরিণাম
তারপর এক্ষেত্রে আমাদের বড় শত্রু তো আছেই। যার নাম শয়তান। আরেকটি শত্রুও আছে। যার নাম নফস বা প্রবৃত্তি। এদের কাজ হল, মন্দধারণা ঢুকিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে তোলা। তিলকে ‘তাল’ বানিয়ে দেয়া। যার কারণে একজন মানুষ অন্যের ছোট্ট ভুলটিও বড় করে দেখে এবং নিজের বড় ভুলকেও ক্ষুদ্র মনে করে।
কারো ব্যাপারে কোনো খারাপচিন্তা অন্তরে লালন করাকে ‘মন্দধারণা’ বলা হয়। শরিয়ত মন্দধারণাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। বড়দের অধিকাংশ ঝগড়ার বুনিয়াদ হল, মন্দধারণা। মন্দধারণার মন্দফলের নামই হল, ঝগড়া-বিবাদ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

اِيَّاكُمْ وَ الظَّنَّ فَاِنَّ الظَّنَّ اَكْذَبُ الْحَدِيْث

.‘তোমরা ধারণা থেকে দূরে থেকো। কেননা অধিকাংশ ধারণা মিথ্যা হয়।’

সুধারণার পরিবর্তে শয়তান কুধারণা করায় এবং মানুষকে মিথ্যাচারের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে।

খারাপ ধারণা করা কবিরা গুনাহ
মুমিনব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئً

‘তাদের অধিকাংশ ধারণারই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে ধারণা কোনো কাজে আসে না।’

এজন্য মানবতার বন্ধু রাসুলুল্লাহ বলেন,ظُنُّوْا بِالْمُؤْمِنِيْنَ خَيْرًا ‘মুমিনদের সম্পর্কে সুধারণা রাখো।’

আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ঊনসত্তরটি দোষ প্রকাশ পায়, আর গুণ প্রকাশ পায় একটি, তাহলে একটিগুণের কারণে তার প্রতি সুধারণা করতে হয়। অথচ আমাদের অবস্থা কী! সবকিছু বলে দিচ্ছে কাজটা ঠিক আছে। তবুও তাতে কুধারণার রাস্তা খুঁজে বের করি।

যেহেতু নির্দেশ দেয়া হয়েছে, মুমিনদের ব্যাপারে সুধারণা রেখো, সুতরাং একটু ভাবুন, কেয়ামতের দিন তো এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। সেদিন তো বলা হবে, তুমি অমুকের প্রতি খারাপ ধারণা করলে কেন? কী প্রমাণ ছিল তোমার কাছে? তখন কী উত্তর দিব? কেন নিজের ওপর মামলা চাপিয়ে নিচ্ছি? এজন্য মন্দলোকের প্রতিও সুধারণা রাখবেন। এতে সহজেই সওয়াব পাওয়া যাবে। কত মজার কথা! মন্দলোক সম্পর্কেও সুধারণা রাখলে আল্লাহ সওয়াব দিবেন। পক্ষান্তরে মন্দধারণা রাখলে কেয়ামতের দিন প্রমাণ পেশ করতে হবে। অন্যথায় নিজেই ফেঁসে যেতে হবে।

মন্দধারণা একটি চারিত্রিক ব্যাধি
মন্দধারণা যাবতীয় ঝগড়ার উৎস। বিবাদ-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার জন্য শয়তানের প্রথমকাজই হল, পরস্পরের প্রতি খারাপ ধারণা সৃষ্টি করা। একজনের মনে অপরজন সম্পর্কে ভুল ধারণা, ভুল চিন্তা তৈরি করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা। অথচ বিষয়টা তত বড় নয় যতটা অনুমান করা হয়। ফলে অহেতুক অভিযোগ তৈরি হয়। বাস্তবতার সঙ্গে যার যৎসামান্য সম্পর্কও থাকে না।

কেয়ামতের দিন কিছু মানুষ এমন হবে যারা নিজেদেরকে ভালো মনে করত। সেদিন প্রথমে তারা সকলের সামনে উপুড় হয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপিত হবে। কারণ, তাদের অভ্যাস ছিল আল্লাহর বান্দাদের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা। এটি একটি বদ অভ্যাস। এটির সম্পর্ক অভ্যাসের সঙ্গে। নিজেকে ছাড়া অন্যকে ভালো লাগে না। অপরের মাঝে লক্ষ গুণ থাকলেও কিছুই মনে করে না। কিন্তু দোষ দেখার জন্য দুরবিন লাগিয়ে রাখে। বরং আমি বলি, অনুবীক্ষণযন্ত্র নিয়ে বসে থাকে; যেন কিছু একটা চোখে পড়ে। জি হ্যাঁ! আজ আপনি অন্যের সঙ্গে যেমন আচরণ করছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ আপনার সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করবেন। মনে রাখবেন, খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কুধারণা সৃষ্টি করা, মাতামাতি করা–এসব কুঅভ্যাস-তাড়িত আচরণের কারণে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ-বিদ্বেষ চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

দুর্গন্ধময় চাঁদ
এক মহিলা তার বাচ্চার নেপকিন পরিষ্কার করছিল, তখন কনিষ্ঠা আঙ্গুলে একটু ময়লা লেগে যায়। ইত্যবসরে শিশুরা তুমুল হৈ চৈ শুরু করে– নতুন চাঁদ দেখা গেছে, নতুন চাঁদ দেখা গেছে। সে ভাবল, আমি নতুন চাঁদ দেখব। মানুষের অভ্যাস হল, ঈদের চাঁদ দেখার সময় নাকের ওপর আঙ্গুল রাখে। মহিলাটি তার নাকের ওপর আঙ্গুল রেখে যখন চাঁদ দেখতে গেল, তখন বলে ওঠল, নতুন চাঁদ তো দেখা যাচ্ছে, কিন্তু এবারের চাঁদটায় গন্ধ কেন? আসলে চাঁদে তো গন্ধ নেই। গন্ধ আসছে তার আঙ্গুল থেকে। অভিযোগকারীদের ব্যাপারটা সাধারণত এমনই হয়।

শয়তানের বিরুদ্ধে শক্তিমান দু’টি হাতিয়ার
প্রসঙ্গে একটি বিষয় বোঝার চেষ্টা করুন। শয়তান মানুষের মনে কুধারণা সৃষ্টি করে। সে মানুষের মনে Food For Thought তথা চিন্তার খোরাক তৈরি করে। এরই পথ ধরে মানুষ মন্দধারণার জালে ফেঁসে যায়। এজন্য শয়তানের সূচিত আকুলিবিকুলি মন থেকে বের করে দিন। নষ্ট চিন্তায় না জাড়িয়ে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়ে নিন। কারো সম্পর্কে কুধারণা আসার সঙ্গে সঙ্গে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়তে থাকুন। শয়তানসৃষ্ট জল্পনা-কল্পনা বাদ দিন। ধারণাকে সত্য ভাববেন না। কারণ, এটা আপনাকে কুধারণার জালে ফাঁসিয়ে দিয়ে কল্যাণ-বঞ্চিত করার শয়তানি-চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়।

ইবনু আরাবি রহ.-এর সঙ্গে শয়তানের বিতর্ক
ইবনু আরাবি রহ. বলেন, একবার শয়তানের সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যায়। সে আমাকে বলে, ইবনু আরাবি! আপনি বড় আলেম তাই না? আমি বললাম, হ্যাঁ, তো? সে বলল, আজ আমার সঙ্গে বিতর্ক করবেন? আমি উত্তর দিলাম, না, মোটেও নয়। সে জিজ্ঞেস করল, কেন? আমি বললাম, আমাকে তোমার জন্য একটা ডাণ্ডা দিয়েছেন। যার নাম لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ. আমি ডাণ্ডাটি ব্যবহার করে তোমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে দিব। তোমার সঙ্গে বিতর্কের দরকারই নেই। বাস্তবেই যদি ইবনু আরাবি রহ. বিতর্কে জড়াতেন, তাহলে শয়তান তার যুক্তিগুলো খণ্ডন করে বিশ্রী বিরক্তিকর কোনো পয়েন্ট ঢুকিয়ে দিত।

ইমাম রাজী রহ.-এর সঙ্গে বিতর্ক

ইমাম রাজী রহ. এক আল্লাহওয়ালার মুরিদ ছিলেন। তিনি আল্লাহ অস্তিত্ব সম্পর্কে একশ’টি প্রমাণ জমা করেছিলেন। এজন্য তিনি বেশ খুশি ছিলেন। আত্মতৃপ্তির তপ্ত ছোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিলেন। একবার শয়তানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়ে গেল। শয়তান বলল, রাজী! আল্লাহ বলতে কিছু নেই। তিনি বললেন, আছে। শয়তান বলল, আছে? তাহলে প্রমাণ দাও। তিনি প্রথম দলিল দিলেন। শয়তান তা খণ্ডন করে দিল। আরেকটি দিলেন। শয়তান তাও খণ্ডন করে দিল। এভাবে চলতে থাকল এবং তাঁর একশ’টি দলিলের একটিও বাকি রইল না। সবগুলো শয়তান খণ্ডন করে দিল। ইমাম রাজী রহ. তখন সংকটে ও পেরেশানিতে পড়ে গেলেন। কিন্তু তাঁর সম্পর্ক ছিল আল্লাহওয়ালার সঙ্গে। যিনি ছিলেন তাঁর শায়েখ। যোগাযোগও নিয়মিত ছিল। তিনি বলেন, তখন আমার কল্পনার চোখে আমার শায়খের চেহারা ভেসে ওঠে। আমি দেখতে পেলাম, তিনি আধ্যাত্মিক-বৈভবে ডুবে আছেন। আমাকে যেন বলছেন, রাজী! তুমি এই অভিশপ্তটাকে প্রমাণ দিচ্ছ? দরকার নেই। বরং বলে দাও, আমি প্রমাণ ছাড়াই মানি যে, আল্লাহ আছেন। তখন ইমাম রাজী রহ. শয়তানকে এটা বলে দিলেন। এবার তার তোড়জোড় চুপসে গেল। ইমাম রাজীর এই কথাটা খণ্ডন করতে পারল না। এভাবে ইমাম রাজীর ঈমান বেঁচে গেল।

কুমন্ত্রণার চিকিৎসা
কিছু সাহাবী নবীজী এর দরবারে এসে বললেন, ওগো আল্লাহর প্রিয় বন্ধু! আমাদের মাঝে মধ্যে এমন কল্পনা তৈরি হয় যা থেকে ফাঁসিতে ঝুলা কিংবা আগুনে ঝাঁপ দেয়া উত্তম। নবীজী বললেন, এটা তোমাদের ঈমানের আলামত।

যখন কোনো বাজে চিন্তা মনের ভেতর আকুলিবিকুলি করে আর বান্দা তা বিরক্তিকর মনে করে তখন এটা আলামত হল, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ বান্দার অন্তরকে ঈমান দ্বারা প্রাণসম্পন্ন করেছেন। এজাতীয় কুমন্ত্রণা তো আসা-যাওয়া করবে, এতে পেরেশানির কিছু নেই। এর দৃষ্টান্ত হল, একটি মহাসড়ক। যেখানে বাস চলছে, প্রাইভেট কার চলছে, গাধার গাড়িও চলছে, সাইকেলও চলছে। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ সেখানে চলছে। এখন প্রাইভেট কার চালকের এই দুশ্চিন্তা থাকে না যে, এখানে গাধার গাড়ি চলছে কেন? সে তার কাজ নিয়ে থাকে। অনুরূপভাবে মানুষের মন মহাসড়কের মত। মোটর রোডের মত। যে সড়কে বিচিত্র ভাবনা আসে। কখনও ভালো, কখনও মন্দ। কখনও শয়তানের পক্ষ থেকে, কখনও প্রবৃত্তির পক্ষ থেকে। কখনও রাহমান তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের চিন্তা আসে। এই বেহিসেবি-চিন্তার মধ্য থেকে মুমিনের উচিত কল্যাণময় চিন্তা গ্রহণ করা এবং এর বিপরীতে খারাপ চিন্তা, কুমন্ত্রণা, বদধারণা অন্তর থেকে দূর করে দেয়া। এজাতীয় চিন্তার প্রতি ভ্রুক্ষেপই করার দরকার নেই। এগুলোর Do’nt care case তথা মোটেও যত্ন নিবেন না। আপনি যখন এগুলোকে উপেক্ষাই করবেন তখন এগুলো আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ رَدَّ اَمْرَهُ عَلَى الْوَسْوَسَة
‘সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর যিনি শয়তানের বিষয়টি কুমন্ত্রণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।’ (নাসাঈ শরীফ)

সুতরাং কোনো শয়তান আমাদের হাত ধরে গুনাহ করাতে পারে না। সে কেবল কুমন্ত্রণা দিতে পারে। তার কুমন্ত্রণা মানা না-মানা বান্দার ইচ্ছাধীন। কথাটা বুঝে আসলে কুমন্ত্রণার নষ্ট-স্রোতের ব্যাপারে কোনো পরোয়া থাকবে না।

কুমন্ত্রণার প্রতি ভ্রুক্ষেপ নয়
কিছু লোক আছে অসঅসার কারণে ভেঙ্গে পড়ে। ঈমান চলে গেল কিনা– বলে ‘হায়-হায়’ করে। ভাই! আপনার ঈমান যাবে কেন? মনে যা আসে মানুষ বাস্তবেই তা হয়ে যায় না। দেখুন, রমজান মাস। ফ্রিজের ঠাণ্ডা শরবতের প্রতি আপনার মন বারবার চলে যায়। তাই বলে কি রোজা ভেঙ্গে যায়? ভাঙ্গে না। যতক্ষণ না আপনি বাস্তবেই পান করছেন ততক্ষণ রোজা ভাঙ্গবে না। হাজার বার শরবতের কল্পনা করলেও না। অনুরূপভাবে যতক্ষণ পর্যন্ত গুনাহটি বাস্তবেই ঘটাবেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু অসঅসা বা কুমন্ত্রণা আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

আরেকটি দৃষ্টান্ত নিন। প্রতিটি মানবদেহের ভেতরে পায়খানা-পেশাব টাইপের নাপাক থাকে। কিন্তু তা ভেতর থেকে বের হয়ে প্রকাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত অযু ভাঙ্গে না। এখন যদি কেউ এটা চিন্তা করে যে, আহা! আমি নামায পড়ব কিভাবে, আমার পেটে তো পায়খানা? তাহলে এটা নির্বুদ্ধিতা বৈ কিছু নয়। সুতরাং কুমন্ত্রণার কারণে অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া যাবে না। সৎ ও সুস্থ চিন্তা করতে হবে।

উদার দৃষ্টি এবং উদার অন্তর

যাদের দৃষ্টিভঙ্গি উদার হয়, অন্যের প্রতি তাদের মুখরাপনাও কম থাকে। মনে রাখবেন, উদার দৃষ্টিভঙ্গি লালনকারী ও হৃদয়প্রাচুর্যের অধিকারী ব্যক্তি অন্যের ব্যাপারে অভিযোগ করার প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। ছোট মনের নিদর্শন হল, এরা অন্যের ব্যাপারে বদনাম করে বেড়ায় অথচ নিজে এর চেয়েও জঘন্য কাজে লিপ্ত থাকে। এজন্য আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখতে হয়। ভালোধারণা রাখতে হয় মুমিনদের প্রতিও। আপনার সামনে যদি কারো কোনো খারাপ দিক প্রকাশ পায় তাহলে তার ভালো গুণগুলো নিয়ে ভাবুন এবং তার প্রতি সুধারণা রাখুন। এমনকি যদি কারো সত্তরটি দোষ প্রকাশ পায়, শুধু একটি গুণ প্রকাশ পায়, তাহলে সত্তরটিকে পেছনে ঠেলে দিয়ে গ্রহণ করুন একটিকে এবং তার প্রতি সুধারণা রাখুন। এভাবেই মানুষ কুধারণা থেকে বাঁচতে পারে।

ঝগড়ার চারটি ধাপ
বড়দের ঝগড়ার চারটি ধাপ আছে।
প্রথম ধাপ : কুধারণা : সাধারণত প্রথমে আসে কুধারণা। শয়তানের কাজ হল, অন্যের ব্যাপারে কুধারণা তৈরি করা। অথচ কুধারণার অধিকাংশই হয় বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। কিন্তু যদি তা অন্তরে গেঁথে বসে তখন তা বিদ্বেষে রূপ নেয়। এভাবেই তখন ঝগড়া-বিবাদের মূলভিত্তি খাড়া হয়ে যায়।

দ্বিতীয় ধাপ : গিবত বা পরনিন্দা : দ্বিতীয় ধাপে আসে যার সম্পর্কে কুধারণা জন্ম নিয়েছে, তার সম্পর্কে গিবত শুরু করে দেয়া। এই ধাপে এসে কুধারণা গিবতের রূপ ধারণ করে। কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা আসল আর শুরু হল তার গিবত। চলতে থাকল তার সম্পর্কে Comments তথা মন্তব্য-বক্তব্য। তার দোষ বলে বেড়ানো শুরু হল।

তৃতীয় ধাপ : তর্কযুদ্ধ : দ্বিতীয় ধাপের পর অবতারণা হয় তৃতীয় ধাপের। যখন দোষ কপচানো শুরু করে তখন দ্বিতীয়পক্ষ একটা পর্যায়ে জানতে পারে এবং সেও ইটের জবাবে পাটকেল ব্যবহার শুরু করে। শুরু হয় পরস্পর তুমুল তর্কযুদ্ধ। এমনকি অনেকসময় হাতাহাতি, মারামারিও শুরু হয়।

চতুর্থ ধাপ : সম্পর্কচ্ছেদ : খন এতটাই তোড়জোড় হয়ে যায় তখনই চতুর্থ ধাপের অবতারণা ঘটে। একজন অপরজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। শুরু হয় তুমুল ভাঙন। এমনকি কথাবার্তা, আসা-যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। এটাকেই বলা সম্পর্কচ্ছেদ করা। এটাও অনেক বড় গুনাহ।

বোঝা গেল, শয়তান সফরের শুরুটা করায় কুধারণার পথ দিয়ে। আর সম্পর্ক ছিন্ন করা পর্যন্ত নিয়ে সে থামে। সে জানে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এমন অপরাধ যে, শবেকদরেও এই অপরাধীকে ক্ষমা করা হয় না। আল্লাহু আকবার! ভেবে দেখুন, কুধারণা মানুষকে কোথায় নিয়ে ছাড়ে!

وَيَقْطَعُوْنَ مَا اَمَرَ اللهُ بِه اَنْ يُّوْصَلَ.
‘যে (আত্মীয়তার) সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আল্লাহ নির্দেশ করেছেন, এরা তা ছিন্ন করে।’ (সূরা বাকারা : ২৭)

প্রথম ধাপেই থামিয়ে দিন
এজন্য প্রথম ধাপেই শয়তানকে থামিয়ে দিন। অন্যের প্রতি সুধারণা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মনকে বোঝান, আমার দোষও তো কম নয়, সুতরাং অন্যের চিন্তা নিয়ে ঘুরব কেন? আমার মাথায় আমার বোঝাটাই এত বিশাল যে, কেয়ামতের দিন তা বহন করতে পারলেই হয়। অন্যের ব্যাপারে অযথা মন্তব্য করব কেন? এমনও তো হতে পারে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন আর আমার ভুলের জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন। এভাবে অন্যের ব্যাপারে সর্বদা লাইট করুন। আর নিজের ব্যাপারে নিজেকে সর্বদা টাইটে রাখুন।

রেষারেষির পাঁচ কারণ
পারস্পরিক রেষারেষির কোনো না কোনো কারণ থাকে। সাধারণত পাঁচ কারণে রেষারেষি হয়।
প্রথম কারণ : যৌথবসবাস : মানুষ যখন Combined Family System তথা যৌথপরিবারে বসবাস করে তখন একে অপরের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। কোথাও বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ, কোথাও ননদ-ভাবির লড়াই, কোথাও জায়ে-জায়ে ঝগড়া-ঝাটি, কোথাও ভাইয়ে-ভাইয়ে রেষারেষি। মনে করুন, এটা শয়তানের জন্য খুশির সংবাদ। সে খুঁটিনাটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কুধারণার ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে ক্ষেপিয়ে তোলে। এজন্য মিলেমিশে থাকতে হবে তবে এমনপদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে যেন প্রত্যেকের প্রাইভেট লাইফ আলাদা আলাদা থাকে। যেমন আল্লাহ তাআলা সামর্থ্য দান করলে সন্তানদের বিয়ের পর বসবাসের ঘর অবশ্যই কাছাকাছি থাকবে তবে প্রত্যেককে আলাদা ঘর করে দিবে। যাতে করে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মত করে জীবন কাটাতে পারে। এমন যেন না হয় যে, একজনের স্বামী তার স্ত্রীর জন্য খাবারের কিছু আনল আর অন্যজন তা ইস্যু বানিয়ে শাশুড়ির কাছে ‘বিরাট-ব্যাপার’ হিসাবে তুলে ধরল। আসলে পর্দার প্রতি যত্ন নিয়ে মিলেমিশে কাছাকাছি থাকা ভালো, তবে কাছাকাছি এতটা খোলামেলা না থাকা যে, একজন অপরজনের পার্সোনাল জীবনও সহজেই দেখতে পারে। কারণ, এটা ঝগড়া-বিবাদের কারণ হয়ে ওঠে। শরিয়তের হুকুম হল, যতটা সম্ভব কাছে থাকো তবে পার্সোনাল জীবন আলাদা রাখো যেন অন্যরা আপত্তি-অভিযোগ তোলার সুযোগ কম পায়।

দ্বিতীয় কারণ : অতিরিক্ত আশা : বড়দের ঝগড়ার দ্বিতীয় কারণ হল, একজনের কাছে আরেকজনের অতিরিক্ত Over Expect আশা করা। যেমন, কারো মেয়ের বাগদান হল, তার বোনেরা যেমন আনন্দ প্রকাশ করার আশা সে করেছিল তেমনটি করে নি। হ্যাঁ, তাদের মনেও ভাতিজির বিয়ের আনন্দ ছিল, কিন্তু প্রকাশের যে ভাষা ছিল সময়মত তা বলতে পারে নি। ব্যস! এরই ভিত্তিতে কুধারণা জন্ম নিল যে, আমার মেয়ের বাগদান হল অথচ আমার বোনেরা খুশি হয় নি। ওহো বুঝেছি, ভালো জায়গায় আত্মীয়তা হচ্ছে বলে তারা খুশি হতে পারে নি! এভাবে অতিক্ষুদ্র একটি বিষয় বিশালাকারে রূপ নিল।

এজন্য এই অভ্যাস করুন যে, অন্যের কাছে বেশি আশা করব না। আশাহত হলে মানুষের অন্তরে শত্রুতা তৈরি হয়। কুধারণা সৃষ্টি হয়। এমনকি আত্মীয়তার বন্ধনও ছিঁড়ে যেতে পারে। মূলতঃ আশা কেবল একজনের কাছেই করা যায়। তিনি হলেন আমাদের পালনকর্তা দয়াময় আল্লাহ। মুমিন সকল আশা আল্লাহর কাছেই করবে।

তৃতীয় কারণ : চিন্তার পার্থক্য : বড়দের ঝগড়ার তৃতীয় কারণ সাধারণত চিন্তার অমিল। অর্থাৎ Level of understanding তথা বোঝাপড়ার মাত্রা সমান হয় না, Way of thinking তথা চিন্তার ধরণও এক হয় না। একজন একটা বিষয় এক দৃষ্টিতে দেখে অন্যজন ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে। এর কারণেও অনেক সময় ঝগড়া তৈরি হতে পারে। যেমন, মেহমান আসল। একজন ভাবল, ভালোভাবে আপ্যায়ন করতে হবে। আপ্যায়নের নিয়তে সে ‘সেই রকম’ খাবার বানাল। কিন্তু অপরজন এটা দেখে বলল, এটা অপচয়। এখানে একই জিনিস একজনের দৃষ্টিতে আপ্যায়ন, অন্যজনের কাছে তা অপচয়। দৃষ্টিভঙ্গির এই ভিন্নতার কারণে শুরু হয় মনোমালিন্য, সৃষ্টি হয় কুধারণা।

চতুর্থ কারণ : রুসম-রেওয়াজ : প্রথা-প্রচলন। এটাও ঝগড়া তৈরির একটি কারণ। কেউ চায়, জীবন কাটাবে সুন্নাত-মাফিক। আত্মীয়রা চায়, এই রুসম ওই রেওয়াজ পালন করা হোক। এমনকি রুসম-রেওয়াজের পেছনে পড়ে মানুষ ঝগড়া-বিবাদেও লিপ্ত হয়। অহেতুক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে মত্ত হয়। তর্কযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। একে অপরের সামনে জেদীরূপে অভির্ভূত হয়। আমরা যে সময় পার করার জন্য গল্পগুজব করি, এর কারণেও বিবাদ হতে পারে। কিছু মহিলা আছে অবসর থাকলে অন্যের পেছনে লেগে থাকে– অমুকের অবস্থা এমন, অমুকের অবস্থা তেমন ইত্যাদি। মনে রাখবেন, সময় কাটানোর জন্য গল্পগুজবও বিশৃংখলার উৎস হতে পারে। আল্লাহ যদি সময় দান করেন তাহলে কাহিনীতে না জড়িয়ে নেক আমল করুন, ইবাদত করুন। কোনো ভালোকাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

পঞ্চম কারণ : অস্বচ্ছ লেনদেন : ঝগড়ার পঞ্চম কারণ অস্বচ্ছ লেনদেন। অনেকসময় আমরা ভালো লেনদেন করি না। নিজের দুর্বলতার কারণে মানুষের সাথে সুন্দর আদান-প্রদান করতে পারি না। পরিণামে সৃষ্টি হয় ঝগড়া। তৈরি হয় বদধারণা। সুতরাং সততার সঙ্গে লেনদেন করুন। আদান-প্রদানে স্বচ্ছ থাকুন। উত্তম লেনদেনকারীদের মানুষ ভালোবাসে। সে অন্যের কুধারণা থেকে বেঁচে যায়। শরিয়ত এটার নাম দিয়েছে ‘উত্তম আদান-প্রদান। এটা উত্তমচরিত্রও বটে। দুআ করুন, আল্লাহ তাআলা যেন আমাদেরকে এই মহৎগুণটি দান করেন।

বংশীয় শত্রুতা আল্লাহর আযাব
মনে রাখবেন, বড়দের সংকটেপড়া সম্পর্ক বিশ্রীরূপ ধারণ করে। প্রথমে তা হয় একটি পারিবারিক লড়াই। এরপর তা বংশীয় লড়াইয়ে রূপ নেয়। বংশীয় শত্রুতা এ পৃথিবীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আযাব। এই আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয়প্রার্থনা করুন।

ক্ষমা চাওয়াই নিরাপদ

কারো মনোকষ্ট দিয়েছেন, কাউকে উদ্বিগ্ন করেছেন, কারো আশা নষ্ট করেছেন; এগুলো যখন অনুভব করবেন তখনি সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবেন। জটিলতা মিটমাট করার এটাই উত্তম পদ্ধতি। ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে ভাববেন না। এটা খুব ভালো স্বভাব। এর দ্বারা বড় বড় বোঝাও মাথা থেকে নেমে পড়ে।

আমার একজন কাছের মানুষ ছিলেন। তার অভ্যাস ছিল, তিনি কারো কাছ থেকে থেকে পৃথক হওয়ার আগে বলতেন, আমার ওপর আপনার অনেক অধিকার ছিল। আদায় করতে পারি নি। আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিবেন। কথাটা এতটাই নম্র ভদ্রভাবে বলতেন, অন্যদের মায়া লেগে ওঠত। এভাবেই ক্ষমাচাওয়া উচিত। দৃশ্যতঃ কোনো দোষ না থাকলেও ক্ষমা চেয়ে নিবেন। এতে উপকারই উপকার। মনের অজান্তে কোনো ভুলচুক হলেও এতে ক্ষমা পেয়ে যাবেন।

উমর রাযি.-এর ক্ষমা চাওয়া
একবারের ঘটনা। বেলাল রাযি. বসা ছিলেন। কোনো একটা বিষয়ে কথা চলছিল। তখন উমর রাযি. কঠোর কথা বলে ফেললেন। এতে বেলাল রাযি. দুঃখ পেলেন। তিনি একেবারে চুপসে গেলেন এবং সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন। এটা দেখে উমর রাযি. বিষয়টি বুঝতে পারলেন যে, বেলাল আমার কথায় ব্যথা পেয়েছে। তাই উমর রাযি.ও সঙ্গে সঙ্গে ওঠে বেলাল রাযি.-এর কাছে এলেন এবং বলতে লাগলেন, ভাই! আমি আপনাকে একটা কঠোর কথা বলে ফেলেছি। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মাফ করে দিন। বেলাল রাযি. উত্তর দিলেন, আচ্ছা ঠিক আছে, আচ্ছা ঠিক আছে। উত্তরের ধরণ দেখে এবং বেলাল রাযি.-এর চুপচাপ-ভাব দেখে উমর রাযি. পরিতৃপ্ত হলেন না। তিনি বুঝে নিলেন, বেলাল রাযি.-এর মনে এখনো ব্যথা আছে। তাই তিনি বেলাল রাযি.-এর সামনে মাটিতে শুয়ে গেলেন এবং বললেন, ভাই! তুমি আমার বুকের ওপর পা রাখো। আর আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ক্ষমা করে দাও। এটা দেখে বেলাল রাযি.-এর চোখে পানি চলে এল। আবেগঝরা কণ্ঠে তিনি বললেন, আমিরুল মুমিনিন! আমি এটা কিভাবে করতে পারি!

যারা বড় হন, তারা জীবনকে এভাবে সাজিয়ে তোলেন। মনে রাখবেন, আজ কাউকে দু’কথা শুনিয়ে দেয়া সহজ। কিন্তু কেয়ামতের দিন যদি আল্লাহ আমাদেরকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেন, বল, তুমি অমুককে ইতর বলেছিলে কেন? অমুককে হেয় করেছ কেন? কেন অমুককে বেঈমান বলেছ? ভাবুন, সেদিন আমরা এগুলো প্রমাণ করব কিভাবে? সেদিন তো নবীগণও ভয়ে থরথর করে কাঁপবেন! আল্লাহু আকবার!

এখনও সময় আছে
এখনও সময় আছে, আমরা অন্যের ব্যাপারে সুধারণা রাখব। ঝগড়া-বিবাদ শুরুতেই মিটিয়ে নিব। অসৌজন্যতা হয়ে গেলে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিব! পারস্পরিক এই ঝগড়া-বিবাদকে আল্লাহর আযাব হিসাবে ধরে নিয়ে আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করব। এই ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করব। তামান্না রাখব, আমরা আমাদের বাসা-বাড়িকে, বংশের লোকজনকে এ ফ্যাসাদমুখর আযাব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব। পারস্পরিক ভালোবাসা ও হৃদ্যতাপূর্ণ জীবন যাপন করব। আল্লাহ তাআলা আমাদের ভুলচুকগুলো ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে তাঁর মকবুল বান্দা-বান্দির অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

وَآخِرُ دَعْوَانَا اَنِ الْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ.