কোরবানির নেসাব নির্ধারণে ঋণ ও আমানতের টাকার হিসাব

জিজ্ঞাসা–১৯২৪ : আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আছে যা বিভিন্ন ব্যবসায় ইনভেস্ট করা। এর মধ্যে ৯০ হাজার টাকা আমার বন্ধুর থেকে ধার নেওয়া, যা আগামী ৩ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। আর ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আমার কাছে একজন আত্মীয় আমানত রেখেছেন এবং আমার এখান থেকে খরচ করার অনুমতি আছে, তবে তিনি যখন যত চাইবেন তখন তাকে তত দিতে হবে। অর্থাৎ আমার ব্যক্তিগত টাকা ১ লক্ষ ৪০ হাজার। এ অবস্থায় আমার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি?—তরিকুল ইসলাম।

জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

হ্যাঁ, আপনার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। কেননা, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ঋণ ও তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য দায় বাদ দেওয়ার পর যদি নেসাব পরিমাণ (সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য) সম্পদ থাকে, তবে কোরবানি ওয়াজিব হয়। আপনার মোট ইনভেস্টমেন্ট (৩,৫০,০০০ টাকা) থেকে বন্ধুর ঋণ (৯০,০০০ টাকা) এবং আত্মীয়ের আমানত (১,২০,০০০ টাকা) বাদ দিলে আপনার প্রকৃত মালিকানাধীন উদ্বৃত্ত থাকে ১,৪০,০০০ টাকা। এই টাকাটি বর্তমান বাজারের রুপার নেসাবের চেয়ে বেশি হওয়ায় আপনার উপর কোরবানি করা আবশ্যক। [বাদায়েউস সানায়ে  : ৪/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া  : ৫/২৯২]

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন। [সূরা আল-কাউসার : ২]

এছাড়া হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন

مَنْ وَجَدَ سَعَةً لِأَنْ يُضَحِّيَ فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا

যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। [মুসনাদে আহমদ : ২/৩২১]

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন