জিজ্ঞাসা–১৯১২ : যেই মসজিদে ঈমাম মুয়াজ্জিন নির্দিষ্ট সেই মসজিদে কয়েকজন মুসাফির নির্ধারিত নামাযের জামাতের পর নিজেরা জামাত করতে পারবে? আমি একজনের কাছে শুনেছিলাম এই রকম মসজিদে ২য় জামাত করা মাকরুহ।— MOHAMMAD TAFSIR AHMED
জবাব : যেসব মসজিদে নিয়মিত মহল্লাবাসী আযান ও ইকামতের মাধ্যমে প্রথম জামাত আদায় করেন, সেখানে দ্বিতীয় জামাত করা মাকরূহ। এর মূল কারণ হলো, যেন সমাজে বা মুসল্লিদের মধ্যে কোনো দল-উপদল বা বিভক্তি তৈরি না হয়। তাই মুসাফিররা যদি মূল জামাত না পান, তবে তাদের জন্য উত্তম হলো একাকী নিজেরা কসর নামায পড়ে নেওয়া।
বিশিষ্ট তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বলেন,
كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ إِذَا دَخَلُوا الْمَسْجِدَ وَقَدْ صُلِّيَ فِيهِ صَلَّوْا فُرَادَىٰ
‘নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর সাহাবীগণ যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং দেখতেন যে, সেখানে ইতোমধ্যে নামায আদায় করা হয়ে গেছে, তখন তাঁরা পৃথকভাবে (একাকী) নামায আদায় করতেন। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা : ৭১১১]
তবে মসজিদটি যদি কোনো মহাসড়ক (হাইওয়ে), রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, বা বিমানবন্দরের সংলগ্ন হয়, যেখানে স্থায়ী কোনো মহল্লাবাসী মুসল্লি থাকে না এবং মানুষজন যাতায়াতের পথে নামায পড়ে চলে যায়, তবে সেখানে ইমাম-মুয়াজ্জিন নির্দিষ্ট থাকলেও মুসাফিররা নিজেদের মধ্যে জামাত করতে পারবেন। অনুরূপভাবে মুসাফিররা যদি মসজিদের মূল হলের (যেখানে প্রথম জামাত হয়েছে) বাইরে বারান্দায় বা মসজিদ সংলগ্ন কোনো আলাদা কামরায় বা মাদরাসায় জামাত করেন, তবে তা জায়েয হবে। [আদ্দুররুল মুখতার : ১/৩৯৫; কিফায়াতুল মুফতী : ৩/১৪৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া : ১/৩৬২]
والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন