জিজ্ঞাসা–১৯১০ : হুজুর, আমি গত ২০২১ সাল থেকে আমার উমরি কাজা সালাতগুলো আদায় করার চেষ্টা করছি। প্রতি ওয়াক্তের আগে অথবা পরে সেই ওয়াক্তের কাজা সালাত আদায় করার চেষ্টা করছি । যেহেতু আসর ও ফরজ সালাতের পর কোনো সালাত আদায় করার হুকুম নেই, তাই আসরের ও ফরজের পূর্বে আসরের কাজা সালাত আদায় করি। এটা কি ঠিক আছে?
আবার শুনতে পেলাম ফজরের সালাতের পূর্বে ফজরে দুই রাকাত সুন্নত ছাড়া অন্য কোনো সালাত আদায় করা যায় না, তাই আগের এশার সালাতের পর ফজরের কাজা সালাত আদায় করি।
আরেকটা বিষয়, যেহেতু আমার অনেক কাজা সালাত রয়ে গেছে, তাই আমি কোনো নফল সালাত পরি না। নফল সালাত যে সময় খরচ হবে সেই সময়ে আমি কাজা সালাত পরে নেই। এই বিষয়টি কি ঠিক আছে? প্রশ্ন একটু বড় হয়ে জাওয়াতে ক্ষমা চাচ্ছি।—মোঃ সাইদুল ইসলাম।
জবাব : প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই! আপনার বিগত দিনের কাজা নামাজ (উমরি কাজা) আদায়ের যে পদ্ধতি আপনি অনুসরণ করছেন, তা মূলত সহিহ ও ফিকহসম্মত। বহু কাজা নামাজ থাকলে ধীরে ধীরে নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে কিছু ফিকহি নির্দেশনা জেনে রাখা প্রয়োজন, যাতে আমল করা আরও সহজ ও সঠিক হয়। নিচে বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
এক. কাজা নামাজ আদায়ের সময় সম্পর্কে
রাসুলুল্লাহ ﷺ কাজা নামাজের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেননি; বরং যখনই মনে পড়বে বা সুযোগ হবে তখনই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا، لَا كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذَلِكَ
যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায়, সে যেন তা স্মরণ হওয়ামাত্র আদায় করে নেয়। এ ছাড়া এর অন্য কোনো কাফফারা নেই। [সহীহ বুখারী : ৫৯৭, সহীহ মুসলিম : ৬৮৪]
এজন্য ফকিহগণ বলেন, ফজর ও আসরের পরের নিষিদ্ধ সময়টি শুধুমাত্র নফল নামাজের জন্য প্রযোজ্য। তবে এ সময় কাজা নামাজ আদায় করার অবকাশ রয়েছে। হিদায়া-গ্রন্থে এসেছে,
وَيُكْرَهُ أَنْ يَتَنَفَّلَ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ، وَلَا بَأْسَ بِأَنْ يُصَلِّيَ فِي هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ الْفَوَائِت
ফজরের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নফল নামাজ আদায় মাকরুহ। তবে এ দুই সময়ে কাজা নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। [হিদায়া : ১/৮৬]
সুতরাং আপনি যে আসরের ফরজের আগে আসরের কাজা আদায় করছেন—এটি উত্তম ও সতর্কতাপূর্ণ আমল। একইভাবে ফজরের কাজা এশার পর পড়ে নেওয়াও ভালো পদ্ধতি।
দুই. নফলের পরিবর্তে কাজা নামাজ আদায়
যার উপর বহু কাজা নামাজ রয়েছে, তার জন্য কাজা আদায়কে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিরিক্ত নফল নামাজে বেশি সময় ব্যয় না করে কাজা আদায়ে মনোযোগ দেওয়া উত্তম। তবে সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজগুলো ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যেমন—ফজরের ২ রাকাত সুন্নত, যোহরের পূর্বের ৪ রাকাত ও পরের ২ রাকাত, মাগরিবের পর ২ রাকাত, এশার পর ২ রাকাত। কারণ এগুলো নবী ﷺ নিয়মিত আদায় করতেন।
ফাতাওয়া হিন্দিয়া-এ এসেছে,
الِاشْتِغَالُ بِالْفَوَائِتِ أَوْلَى وَأَهَمُّ مِنَ النَّوَافِلِ إِلَّا السُّنَنَ الْمَعْرُوفَةَ
সুন্নতে মুআক্কাদা ব্যতীত অন্যান্য নফলের তুলনায় কাজা নামাজ আদায়ে ব্যস্ত হওয়াই অধিক উত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১২৬]