জিজ্ঞাসা–১৯৩৩ : আমার মামা বেশ কয়েক বছর পূর্বে গুরুতর অসুস্থ (কুকুরের কামড়ের কারণে ইনফেকশনের জন্যে অপারেশন করার পরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়) থাকা অবস্থায় নিয়ত করেছিলো, উনি যদি পুরোপুরিভাবে সুস্থতা লাভ করেন তাহলে পরিপূর্ণ ১ (এক) বছর নফল রোযা থাকবেন। আলহামদুলিল্লাহ্ উনি পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু উনি তার ১ (এক) বছর নফল রোযা রাখার নিয়ত পূরন করতে করেননি এবং উনি ১ বছর রোযা রাখার সক্ষমতা পাচ্ছেন না। এখন উনার করণীয় কী? উনি উনার ওয়াদার জন্যে এখন কি করতে পারেন?—মোঃ রুহুল আমীন।
জবাব : আপনার মামা অসুস্থ অবস্থায় এই নিয়ত করেছিলেন যে, ‘আমি সুস্থ হয়ে গেলে এক বছর নফল রোযা রাখব।’ এ ধরনের মান্নত (নযর) যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তাহলে তা পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কারণ রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ
যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের কোনো মান্নত করে, সে যেন তা পূর্ণ করে। [সহিহ বুখারী : ৬৬৯৬]
আর যদি বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা এমন হয় যে রোযা রাখা খুব কষ্টকর, ক্ষতিকর, বা ডাক্তারিভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে তিনি সাময়িকভাবে দেরি করতে পারবেন এবং সুস্থতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী পরে আদায় করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
তোমরা আল্লাহকে যতটুকু সম্ভব ভয় কর। [সূরা তাগাবুন : ১৬]
তবে যদি তিনি স্থায়ীভাবে এত দুর্বল হয়ে যান যে ভবিষ্যতেও আর রোযা রাখার সক্ষমতার আশা নেই, তাহলে মান্নত পূরণে অক্ষম হলে কাফফারার দিকে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে কসম ভঙ্গের কাফফারা আদায় করবেন। কুরআনে এসেছে,
فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ…
এর কাফফারা হলো দশজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা…। [সূরা আল-মায়িদাহ : ৮৯]
অর্থাৎ—
- দশজন গরিবকে দুই বেলা খাবার খাওয়ানো, অথবা
- তাদেরকে পরিধেয় কাপড় দেওয়া।
- আর যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তাহলে তিন দিন রোযা রাখা।