জিজ্ঞাসা–১৮৭৯ : আসসালামু আলাইকুম। আমার এক ছোট ভাইয়ের বয়স ২২ বছর। সে তার এক চাচাতো বোনকে লুকিয়ে বন্ধুদের সাহায্যে বিয়ে করতে চাচ্ছে। মেয়ের বয়স ১৩ বছর। আমার প্রশ্ন হচ্ছে মেয়ের ফ্যামিলির অনুমতি ছাড়া এই বিয়ে শুদ্ধ হবে কি?—মোহাম্মদ আবুল হুসাইন।
জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, তোমার উল্লেখিত পরিস্থিতি—
- মেয়ের বয়স ১৩ বছর,
- পরিবারের অনুমতি ছাড়া গোপনে বিয়ে
- বন্ধুদের সাহায্যে আয়োজন।
এই অবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে কয়েকটি সমস্যা আছে—
১) বয়স ও অভিভাবকত্ব
যদি ১৩ বছর বয়সে মেয়েটি বালেগা হয়ে যায় , তাহলে যদিও হানাফি মাজহাবে সে নিজে বিয়ে করতে পারে, কিন্তু অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে বৈধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য রাসূল ﷺ বলেছেন,
لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ
অভিভাবক ছাড়া বিয়ে নেই। (আবু দাউদ ২০৮৫)
২) গোপনে বিয়ে করার চেষ্টা
ইসলামে বিয়েকে গোপন রাখার পরিবর্তে প্রকাশ্য, দায়িত্বশীল ও সামাজিকভাবে স্বীকৃতভাবে করার নির্দেশ আছে, যাতে কোনো হক নষ্ট না হয়। রাসূল ﷺ বলেছেন,
أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ
তোমরা এই বিবাহের ঘোষণা দাও। (তিরমিযী ১০৮৯)
৩) ক্ষতির সম্ভাবনা
এ ধরনের গোপন বিয়ে অনেক সময় পরিবারে ফিতনা, ঝগড়া, সামাজিক জটিলতা এবং মেয়ের জীবনে বড় ক্ষতি ডেকে আনে—যা শরীয়তের ‘লা যরার’ নীতির বিরুদ্ধে। রাসূল ﷺ বলেছেন,
لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির প্রতিউত্তরও নয়। (ইবনে মাজাহ ২৩৪০, ২৩৪১)
সুতরাং সরল উত্তর হলো, মেয়ের পরিবারের (অভিভাবকের) অনুমতি ছাড়া এই ধরনের গোপন বিয়ে শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে বড় ধরনের জটিলতা ও গুনাহের আশঙ্কা থাকে।
সবচেয়ে সঠিক পথ হলো, মেয়ের অভিভাবকের সাথে আলোচনা করা, বৈধ ও প্রকাশ্যভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া। যদি সত্যিই সম্পর্ক বৈধ ও উপযুক্ত হয়, তাহলে শরীয়তসম্মতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করা।
তোমার ভাইয়ের উদ্দেশ্য যদি ভালোও হয়, তবুও পদ্ধতিটা শরীয়ত ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই ভুল পথে যাচ্ছে।