জিজ্ঞাসা–১৯৭৮ : হুজুর! আজকে ভুল করে আমি আমার স্ত্রীর যৌন স্থানে মুখ দিয়েছি, এতে কোনো সমস্যা বা গুনাহ হবে?—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
জবাব : স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক যৌন উপভোগ মূলত বৈধ। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামী শিষ্টাচার, পরিচ্ছন্নতা ও নৈতিকতার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। মানুষের শরীরের সর্বাধিক সম্মানিত অঙ্গ হলো মুখমণ্ডল, আর লজ্জাস্থান হলো নাপাকি নির্গমনের স্থান। তাই সম্মানিত অঙ্গকে এমন স্থানের সঙ্গে স্পর্শ করানো থেকে বিরত থাকাই উত্তম ও শালীনতার অধিক নিকটবর্তী।
এ বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক সমকালীন আলেম এ কাজকে মাকরূহ (অপছন্দনীয়) বলেছেন, বিশেষত নাজাসত (যেমন মূত্র, মাযী ইত্যাদি) মুখে লাগা বা প্রবেশের আশঙ্কা থাকলে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, যদি নাজাসত না থাকে এবং মুখে না লাগে, তবে একে হারাম বলা যাবে না; তবে তা পরিহার করাই উত্তম।
এ প্রসঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দ–এর ফতোয়ায় বলা হয়েছে,
زبان جس سے اللہ کا ذکر کیا جاتا ہے اس سے شرمگاہ کو بوسہ لینا وغیرہ کسی بھی طرح مناسب معلوم نہیں ہوتا، نیز یہ جانوروں کا طریقہ ہے؛ اس لیے بہرصورت ایک مسلمان کو اس سے پرہیز کرنا چاہیے، باقی اگر کسی نے غلبہ شہوت میں ایسی حرکت کرلی اور شرمگاہ پر نجاست نہیں لگی ہوئی تھی تو ناجائز یا حرام نہیں کہا جائے گا۔
অর্থাৎ, যে জিহ্বা দ্বারা আল্লাহর জিকির করা হয়, সেই জিহ্বা দ্বারা লজ্জাস্থানে চুম্বন করা বা এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই শোভনীয় মনে হয় না। তাছাড়া এটি পশুদের আচরণের সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই একজন মুসলিমের উচিত এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা। তবে যদি প্রবল যৌনাকাঙ্ক্ষার বশে কেউ এমন করে ফেলে এবং লজ্জাস্থানে কোনো নাজাসত না থাকে, তাহলে একে নাজায়েজ বা হারাম বলা হবে না।
সুতরাং, যদি ভুলবশত বা প্রবল কামভাবের কারণে একবার এমন হয়ে থাকে এবং কোনো নাজাসত মুখে না লেগে থাকে, তাহলে এর দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে না। একে নিশ্চিতভাবে হারাম বা গুনাহ বলা যাবে না। তবে ইসলামী শিষ্টাচার ও পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
আর যদি নাজাসত মুখে লেগে যায়, তাহলে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
والله تعالى أعلم بالصواب