জিজ্ঞাসা–১৮৮৫ : আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মহিলারা কি স্বামীকে তালাক দিতে পারে বা স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিলে তালাক হবে কিনা? —Imran
জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
মূলত তালাক দেওয়ার অধিকার স্বামীর হাতে থাকে। তাই স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে, “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”, তাহলে এর দ্বারা স্বামীর ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না এবং বৈবাহিক সম্পর্কও ভাঙবে না। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ
পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে তাদের জন্য ব্যয় করে থাকে। [সূরা নিসা ৩৪]
তবে ইসলামে নারীর জন্যও বিচ্ছেদের কিছু বৈধ পদ্ধতি রয়েছে। যেমন—
১. খুলা (خلع) :
স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে সংসার করতে না চায়, তাহলে পারস্পরিক সম্মতিতে মোহর বা অন্য কিছুর বিনিময়ে বিচ্ছেদ হতে পারে। এটিকে খুলা বলা হয়।
হাদিস শরিফে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ جَعَلَ الْخُلْعَ تَطْلِيقَةً بَائِنَةً
ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ খোলাকে এক তালাকে বায়িন সাব্যস্ত করেছেন। [সুনানে দারাকুতনী ৪০২৫, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১৮৪৪৮ আসসুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী ১৪৮৬৫]
প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রহ. বলেন,
إِذَا جَاءَ الْأَمْرُ مِنْ قِبَلِهَا حَلَّ لَهُ مَا أَخَذَ مِنْهَا، فَإِنْ جَاءَ مِنْ قِبَلِهِ لَمْ يَحِلَّ لَهُ مَا أَخَذَ مِنْهَا
খোলা তালাক যদি মহিলার দোষের কারণে হয়ে থাকে তাহলে স্বামীর জন্য তার থেকে যা নিবে তা বৈধ হবে। আর যদি স্বামীর দোষে হয় তাহলে স্ত্রী থেকে যা নিবে তা বৈধ হবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ১১৮২৫)
২. তাফওয়ীযে তালাক (تفويض الطلاق) :
যদি স্বামী নিকাহের সময় বা পরে স্ত্রীকে নিজের পক্ষ থেকে তালাকের ক্ষমতা দিয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রী সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেকে তালাক দিতে পারবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন— যদি তোমরা দুনিয়ার জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা কর, তবে এসো, আমি তোমাদের কিছু ভোগ-সামগ্রী দিই এবং সুন্দরভাবে বিদায় দিই। [সূরা আহযাব ২৮]
এই আয়াতের তাফসীরে ফকিহগণ বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীদেরকে ‘ইখতিয়ার’ (পছন্দের অধিকার) দিয়েছিলেন। তারা চাইলে দাম্পত্যে থাকতে পারতেন, চাইলে পৃথক হতে পারতেন। এ থেকেই তাফওয়ীযে তালাকের মূল ভিত্তি প্রমাণিত হয়।
৩. কাজীর মাধ্যমে বিচ্ছেদ :
যদি স্বামী জুলুম করে, ভরণপোষণ না দেয়, নির্যাতন করে বা বৈবাহিক অধিকার নষ্ট করে, তাহলে শরয়ি কাজী বা ইসলামী আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করানো যেতে পারে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ
হয় সুন্দরভাবে স্ত্রীকে রেখে দাও, নতুবা উত্তমভাবে বিদায় দাও। [সূরা বাকারা ২২৯]
অতএব, সাধারণভাবে স্ত্রী নিজে স্বামীকে তালাক দিলে তালাক হয় না। তবে উপরোক্ত শরয়ি পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে বিচ্ছেদ হতে পারে।