জিজ্ঞাসা–১৯০৭ :আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। দয়া করে দ্রুত উত্তর দিবেন, স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিবে না, একপর্যায়ে মামা শ্বশুর তাকে প্রহার করে জোর করে তালাকের কাগজে সাইন করিয়ে নেয়। সাইন দেওয়ার সময় তালাকের কাগজে কিছু লেখা ছিলো না। আর স্বামীও মুখ দিয়ে তালাক উচ্চারণ করেনি। এখন তালাক হবে কি?
আবার জোর করে কাবিননামায় সাইন করিয়ে নেয়, তখন ১৮ নাম্বার কলম ফাঁকা ছিলো। একসময় মেয়ের বাড়ি থেকে ডিভোর্স কাগজ আসলে, স্বামী ডিভোর্স কাগজে সাইন দেয়নি! উক্ত দুইটা সাইন দেওয়ার সময় স্বামীর মনের অবস্থা—সে তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেবেনা…! এমতাবস্থায় কি তালাক হবে? আর তালাক হলে কয় তালাক হবে?
এই ঘটনা ঘটার মাস খানিক পরে স্বামী-স্ত্রীর কাছে ফোন দিয়ে বলে, আমি তোমাকে তালাক দেয়নি, আমি তোমাকে তালাকে অধিকারও দেয়নি, আমি তোমাকে চাই, তুমি ফিরো আসো, আমরা স্বামী স্ত্রী বহাল আছি, আমি তোমাকে ছেড়ে দেবো না, তুমি আমার স্ত্রী। আর স্ত্রী ও স্বামীর কাছে পালিয়ে পর্যন্ত আসতে চেয়েছে। এভাবে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ২ মাসের মতো কথা হয়! যদি তালাকে রজয়ী হয় তাহলে উক্ত কথার দ্বারা কি রজয়াত হবে না? এই সমস্ত ঘটনার পরে তারা কি স্বামী ও স্ত্রী বহাল আছে?—মোঃ আবু সাঈদ।
জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার বর্ণনায় কয়েকটি বিষয় আছে—
১. জোরপূর্বক ও ফাঁকা কাগজে সাইন নেয়া হয়েছে।
২. সাইন নেওয়ার সময় কাগজ ফাঁকা ছিল।
৩. স্বামীর নিয়ত ছিল স্ত্রীকে না ছাড়ার।
৪. পরে স্বামী স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘আমি তোমাকে তালাক দেইনি’, ‘আমি তোমাকে চাই’, ‘তুমি আমার স্ত্রী’।
৫. স্ত্রী-স্বামীর যোগাযোগও চলেছে।
যদি এটাই বাস্তব হয়, তাহলে, তালাক সংঘটিত হয়নি। বিশেষ করে যদি সত্যিই সাদা বা ফাঁকা কাগজে সাইন নেওয়া হয়ে থাকে এবং পরে তাতে তালাকের লেখা বসানো হয়।
আর ‘১৮ নম্বর কলাম’ সাধারণত স্ত্রীকে ‘তালাকের ক্ষমতা (তাফওয়ীয)’ দেওয়া হয়েছে কি না—সেটা বোঝায়। যদি সাইন দেওয়ার সময় সেটা ফাঁকা থাকে এবং স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়ার নিয়ত না করে, তাহলে পরে একতরফাভাবে তা বসিয়ে দিলেই ক্ষমতা প্রমাণিত হয় না। এটা আলাদা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لاَ طَلاَقَ فِي إِغْلاَقٍ
জবরদস্তি/চাপের অবস্থায় তালাক কার্যকর নয়। [ইবন মাজাহ : ২০৪৬]
ফকিহগণ বলেন,
وَفِي الْبَحْرِ: إنَّ الْمُرَادَ الْإِكْرَاهُ عَلَى التَّلَفُّظِ بِالطَّالِقِ، فَلَوْ أُكْرِهَ عَلَى أَنْ يَكْتُبَ طَلَاقَ امْرَأَتِهِ فَكَتَبَ لَا تَطْلُقُ، لِأَنَّ الْكِتَابَةَ أُقِيمَتْ مَقَامَ الْعِبَارَةِ بِاعْتِبَارِ الْحَاجَةِ وَلَا حَاجَةَ هَهُنَا، كَذَا فِي الْخَانِيَّةِ
اشْتَرَطَ الْفُقَهَاءُ: أَنْ تَكُونَ الْكِتَابَةُ مُسْتَبِينَةً وَاضِحَةً. وَمَعْنَى كَوْنِهَا مُسْتَبِينَةً: أَيْ وَاضِحَةً بِحَيْثُ تُقْرَأُ فِي صَحِيفَةٍ وَنَحْوِهَا، وَمَعْنَى كَوْنِهَا مَرْسُومَةً: أَيْ مَكْتُوبَةً بِعُنْوَانِ الزَّوْجِ
লিখিত-তালাকের ক্ষেত্রে ফকিহগণ শর্ত দিয়েছেন, লেখাটি বোধগম্য-স্পষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ কাগজ বা এজাতীয় কিছুতে পরিষ্কার ভাষায় লিখতে হবে। পাশাপাশি নিজের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখতে হবে। (ফিকহুস সুন্নাহ ৩/১৬৫)