যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে মুক্তি চায়…

যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে মুক্তি চায়...

শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী

পর্ব-০১

হামদ ও সালাতের পর!

আল্লাহ তাআলার লাখো-কোটি শোকর যে, তিনি আমাদেরকে দীর্ঘ একমাস পর আবার এখানে নিজেদের ইসলাহের উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। ঈমানদারমাত্রই এইকথা বিশ্বাস করে যে, আমাদের কামিয়াবি হল আল্লাহ তাআলার হুকুম মানার ভিতর এবং নবীএর তরিকা মানার ভিতর। বিপরীতে যদি আমরা আল্লাহর হুকুম না মেনে নবীজির তরীকা অনুসরণ না করে গুনাহ করতে থাকি তাহলে আমাদের জন্য ব্যর্থতা অবধারিত। ড. ইকবাল আমাদের অবস্থা দেখে যথার্থ বলেছেন যে, তোমরা বিশ্বাস করো একরকম কাজ করো ভিন্নরকম।

قلب میں سوز نہیں، رُوح میں احساس نہیں
کچھ بھی پیغامِ محمّدؐ کا تمھیں پاس نہیں

‘তোমাদের হৃদয়ে অনুভূতি নেই, অন্তরে জ্বালা নেই, মুহাম্মদের পয়গামের মর্যাদার তোমাদের কাছে নেই।’

আমরা চার শ্রেণীতে বিভক্ত

একটু চিন্তা করলে দেখা যায়, আল্লাহর হুকুম মানা এবং না মানার দিক থেকে আমরা চার শ্রেণীতে বিভক্ত।
এক. আমাদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে যারা ইবাদত করে, গুনাহও করে অর্থাৎ কিছু ইবাদত করে, কিছু গুনাহ করে।
দুই. কিছু লোক এমন আছে, যারা ইবাদতও করে না, গুনাহও করে না। ইবাদত করে না অলসতার কারণে। গুনাহ করে না জানা না থাকার কারণে। এদের সংখ্যা সমাজে নিতান্তই কম।
তিন . সমাজের মধ্যে কিছু দুর্ভাগা এমনও আছে, যারা কেবল গুনাহ করে, গুনাহের মাঝে আকণ্ঠ ডুবে থাকে, নেক আমল করার তাওফিক এদের মোটেও হয় না।
চার. এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলার কিছু বান্দা এমনও আছেন যাঁরা কেবল নেক আমল করেন এবং গুনাহ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেন। এঁরাই আল্লাহ তাআলার খাস বান্দা। এরা আল্লাহর অলি।

নফল ইবাদত উত্তম না গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা উত্তম?

এখন প্রশ্ন হলো, নফল ইবাদত করা উত্তম না গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা উত্তম? আমরা তো মনে করি, ইবাদত বেশি বেশি করা উত্তম। কিন্তু আমাদের মাশায়েখগণ তা মনে করতেন না। বরং তাঁরা মনে করেন, নফল ইবাদতের চেয়েও বহু গুণে উত্তম হলো, গুনাহ না করা। কেননা, নফল ইবাদতের জন্য ধন্যবাদ পাবেন। সাওয়াব পাবেন। আখেরাতে আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এর বিপরীতে কোনো জবাবদিহিতা নেই। অর্থাৎ না করলে কোনো গুনাহ নেই। পক্ষান্তরে গুনাহর জন্য জবাবদিহিতা আছে, শাস্তি আছে, আখেরাতের নাজাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো জঘন্য ব্যাপার আছে। মনে করুন, এক ব্যক্তি ফরজ ওয়াজিব সুন্নাতে মুআক্কাদা ঠিকভাবে আদায় করেছে। এক্ষেত্রে সে অলসতা কিংবা উদাসীনতাকে স্থান দেয় নি। কিন্তু সে অন্যান্য নফল আমল যেমন নফল নামাজ, নফল রোজা, নফল হজ, নফল সাদাকা খুব একটা করে নি। তবে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পরিপূর্ণ চেষ্টা সে করেছে। তাহলে আল্লাহ তাআলার রহমতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে বলা যায় যে, এ ব্যক্তির নাজাত নিশ্চিত। কেননা, আল্লাহ তাআলা এটা জিজ্ঞেস করবেন না যে, কেন অমুক নফল আমল কর নি? তবে আল্লাহ তাআলা এটা অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন যে, কেন তুমি দরজা-বন্ধ করে গুনাহ করেছ? কেন তুমি রাত জেগে ইউটিউবে, ফেসবুকে, ইনস্ট্রাগ্রামে, ইমুতে গুনাহ করেছ? কেন তুমি চোখের হেফাজত কর নি? কেন তুমি জবানের হেফাজত কর নি?

এজন্যই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-কে যখন জিজ্ঞেস করা হলো যে, এক ব্যক্তির ইবাদত কম, গুনাহও কম। আরেক ব্যক্তির ইবাদতও বেশি গুনাহও বেশি। এই দুই ব্যক্তির মাঝে উত্তম কে? তিনি উত্তর দিলেন,

لا أَعْدِلُ بِالسَّلامَةِ شَيْئًا

‘গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকার মত সমকক্ষ আমল আমি কোনটিকে মনে করি না।’

জেগে থাকাটা মানুষকে ধ্বংস করে দিয়েছে

আমাদের মাশায়েখগণ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইবাদত যা-ই করতে পারো তবে গুনাহ করো না। সলফে সালেহীনের যুগে মাঝে মাঝে কিছু লোক সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে বাজারে প্রচার করত। এক ব্যক্তি বাজারে হেঁটে হেঁটে প্রচার করতে লাগলো, أَهْلَكَكُمْ النَّوْمُ ‘হে মানুষ! ঘুম তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থাৎ সে বুঝাতে চাইলো, যে মানুষ ঘুমের কারণে ইবাদত করে না তাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তখন একজন আল্লাহওয়ালা তাকে শুধরে দিয়ে বললেন, বিষয়টা এমন নয়। বরং প্রকৃত বিষয় হল, بَلْ أَهْلَكَتْكُمْ الْيَقِظَةُ মানুষকে জেগে থাকাটা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর অর্থ হল, জেগে থেকে মানুষ গুনাহ করে। আর এটাই তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে
এজন্যই বুজুর্গ বলেন, তোমার কথা সংশোধন করো এবং এভাবে বল,

خَفْ اللَّهَ بِالنَّهَارِ وَنَمْ بِاللَّيْلِ

দিনের বেলায় আল্লাহকে ভয় করো আর রাতের বেলায় ঘুমাও।

এখন তো সব কিছু উল্টো। এখন যুবকরা রাতের বেলায় জাগ্রত থাকে আর দিনের বেলায় ঘুমায়। আমাদের বুজুর্গ হযরত মাওলানা ইদ্রিস কান্ধলভী রহ. বলতেন, এখন সবকিছু উল্টো। আগে বাতি আলো দিত উপরের দিকে আর এখন বাতি আলো দেয় নিচের দিকে। আমাদের জীবনের কেবলা এখন ঠিক নেই। আমাদের জিন্দেগির কেবলা এখন উল্টে গিয়েছে।

পাঁচটি মহা মূল্যবান কথা

হাদিস শরিফে এসেছে, এক দিন রাসূলুল্লাহ সাহাবায়েকেরামকে জিজ্ঞেস করলেন,  পাঁচটি কথা আমার কাছ থেকে কে নিবে এবং মুখস্থ করবে তারপর অন্যের কাছে পৌঁছে দিবে? আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি নিব, মুখস্থ করব, অন্যের কাছে পৌঁছে দিব।

নবীজী বললেন,

اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ ، وَارْضَ بِمَا قَسَمَ اللهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ ، وَأَحْسِنْ إِلَى جَارِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا ، وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُسْلِمًا ، وَلاَ تُكْثِرِ الضَّحِكَ ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ

‘গুনাহসমূহ থেকে বাঁচবে তবে সর্বাপেক্ষা ইবাদতকারী লোক হিসাবে গণ্য হবে; তোমার তাকদীরে আল্লাহ তাআলা যা বণ্টন করে রেখেছেন সে বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকবে, তবে সর্বাপেক্ষা অমুখাপেক্ষী লোক হতে পারবে; প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে তবে প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে; নিজের জন্য যা পছন্দ কর মানুষের জন্যও তা পছন্দ করবে তাহলে প্রকৃত মুসলিম হতে পারবে; বেশী হাসবে না, কেননা বেশী হাস্য-কৌতুক হৃদয়কে মুর্দা বানিয়ে দেয়।’

হাদিসটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

উক্ত হাদিসের প্রথমাংশে বলা হয়েছে,

اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ

অর্থাৎ, জগতের যত ইবাদতগুজার আছে সকলের চাইতে তুমি আগে চলে যেতে পারবে, সকলেই তোমার থেকে পিছিয়ে যাবে যদি তুমি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো।
এজন্য আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলতেন, আমার কাছে সন্দেহমুক্ত এক দিরহাম দান করা সন্দেহযুক্ত লক্ষ দিরহাম দান করার চেয়ে উত্তম।

উক্ত হাদীসের দ্বিতীয় অংশে নবীজি বলেন,

وَارْضَ بِمَا قَسَمَ اللهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ

আল্লাহ তাআলা যা বণ্টন করে রেখেছেন সে বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকবে, তবে সর্বাপেক্ষা সুখী হতে পারবে।

আমরাতো হাপিত্যেশ করি যে, পেলাম না-খেলাম না। অথচ নবীজি বলেন, আল্লাহর দেওয়া বন্টনের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাও জগতের মধ্যে তুমি সবচাইতে বড় সুখী হতে পারবে। দেখবেন, যে যত বড় ধনী সে ততো বড় অসুখী। এর কারণ হলো, আল্লাহর দেওয়া বন্টনের উপর সে সন্তুষ্ট নয় বরং তার অবস্থা হলো এই যে,  আরো চাই, আরো চাই এবং আরো চাই।

তৃতীয় অংশে নবীজি বলেছেন,

وَأَحْسِنْ إِلَى جَارِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا

তুমি তোমার প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করো তাহলে প্রকৃত মুমিন হতে পারবে।

আর চতুর্থ অংশে নবীজি বলেন,

وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُسْلِمًا

তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করো অপর মুসলমানের জন্য তাই পছন্দ করো তাহলে মুসলিম হতে পারবে। যেমন তুমি চাও কেউ তোমাকে গালি না দিক। সুতরাং তুমিও কাউকে গালি দিওনা। তুমি চাও কেউ তোমার গীবত না করুক সুতরাং তুমিও গীবত করো না। তুমি চাও কেউ তোমার ব্যাপারে বদধারণা না করুক সুতরাং তুমিও কারো ব্যাপারে বদধারণা করো না।

হাদিসটির শেষাংশে নবীজি বলেন,

وَلاَ تُكْثِرِ الضَّحِكَ ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ

বেশি আনন্দ-বিনোদন করো না। কারণ অতিরিক্ত বিনোদন মানুষের অন্তরকে মেরে ফেলে।

গুনাহ বর্জন করা ছাড়া আল্লাহর অলি হওয়া যায় না

যাই হোক, উক্ত হাদিসের প্রথমাংশে নবীজি আল্লাহর অলি হওয়ার রহস্য বলে দিয়েছেন যে, কোনো আল্লাহর অলি অলি হতে পারে নি যতক্ষণ পর্যন্ত গুনাহ ছাড়তে পারে নি। আল্লাহর অলি হতে হলে, তাঁর দফতরে সব চাইতে বড় ইবাদতকারী হতে হলে গুনাহ ছাড়তেই হবে। এছাড়া বিকল্প নেই।

একারণে হযরত হাসান বসরী রহ. বলতেন,

مَا عَبَدَ الْعَابِدُونَ بِشَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ تَرْكِ مَا نَهَاهُمُ اللَّهُ عَنْه

‘আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকার চাইতে উত্তম কোন ইবাদত আর কোনো ইবাদতকারী করতে পারি নি।’ এটাই হলো সবচাইতে উত্তম ইবাদত। আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমিন।

হযরত আয়েশা রাযি. একদিন নবীজি-কে বললেন, অনেকে রাত জেগে ইবাদত করে। আমরা মহিলারা একটু অলসপ্রকৃতির। রাত জেগে ইবাদত করতে পারি না। শুধু ঘুম আসে। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের ঘুম বেশি। তো আমাদের শুধু ঘুম আসে। ফলে যারা রাত জেগে ইবাদত করে তাদের থেকে তো পিছনে পড়ে গেলাম। তখন আয়েশা রাযি.-কে নবীজী সান্ত্বনা দিয়ে বললেন,

مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْبِقَ الدَّائِبَ الْمُجْتَهِدَ فَلْيَكُفَّ عَنِ الذُّنُوبِ

যে ব্যক্তি খুব ইবাদতকারীর চাইতেও অগ্রসর হয়ে আনন্দ পেতে চায় তার জন্য উচিত হল, গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকা। অর্থাৎ যদি তুমি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো তাহলে রাত জেগে ইবাদতকারীর চাইতেও আগে বেড়ে যেতে পারবে।

একটি চমৎকার ঘটনা
কিতাবে এসেছে, কাজী আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়েদ রহ.যিনি ছিলেন একজন তাবে’ তাবিয়ী। বিখ্যাত তাবিয়ী হাসান বসরী রহ. এবং মালেক ইবনে দিনার রহ.-এর শাগরিদ ছিলেন। অনেক বড় আল্লাহর অলি ছিলেন। তিনি বলেন যে, আমি একদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে -যাকে জুমা’ রাত বলা হয়। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে নবীজী বলেন, পাঁচ রাতে আল্লাহ তাআলা দোয়া ফেরত দেন না। তন্মধ্যে একটি রাত হল, জুমার রাত। আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়েদ রহ. বলেন, আমি একদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বাইতুল মুকাদ্দাসে সারারাত ইবাদত করলাম। এরপর ভোররাতের দিকে আমি মসজিদের দরজা খুললাম। মসজিদে তখন আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। ঠিক ওই সময়ে আঠার জন লোক একসাথে প্রবেশ করল। প্রত্যেকের পরনে লোহা জাতীয় পোশাক অর্থাৎ লোহা দিয়ে বানানো হয়েছে এ জাতীয় পোশাক এবং প্রত্যেকের পায়ে ছিল খেজুর পাতা দিয়ে বানানো জুতা। আর প্রত্যেকের গলায় ঝোলানো ছিল কোরআন মজিদ। আমি গুনে দেখলাম তারা মোট আঠার জন। তাঁদের চেহারা থেকে একপ্রকার নূরের ঝলক প্রতিভাত হচ্ছিল। এটা দেখে আমি অভিভূত হলাম এবং প্রভাবিত হলাম। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা এত বড় মর্যাদা পেলেন কিভাবে? কিভাবে এত বেশি সম্মানিত হলেন? তখন তাঁদের একজন উত্তর দিলেন,

يا عبد الواحد لايُوصِل إلى ولا يَةِ الله إلا بترك الْهَوَى.

‘হে আব্দুল ওয়াহিদ! নফস-তাড়িত গুনাহ ত্যাগ করা ছাড়া আল্লাহর অলি হওয়া যায় না।’

আরেকজন বললেন,

ما عَرَفَ الله من لم يستَحِي منه في الخلاء

‘যে ব্যক্তি নির্জনতার সময়গুলোতে আল্লাহকে লজ্জা করে নি, সে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পারে নি।’

একটি দরজা কি বন্ধ করা যাবে!

এক লোক সুযোগ পেয়ে জনৈক মহিলাকে অভাবগ্রস্ত পেয়ে খারাপ কাজের প্রস্তাব দিয়ে বসলো। মহিলাও অভাবের তাড়নায় রাজি হয়ে গেল। যখন কাজ শুরু করতে গেল তখন পুরুষটি মহিলাটিকে বলল, যাও, দরজা বন্ধ করে আসো। তখন মহিলাটি আশ্চর্য উত্তর দিল। সে বলল, সব দরজা তো বন্ধ করা যাবে কিন্তু একটি দরজা কি বন্ধ করা যাবে! অর্থাৎ আল্লাহর দরজা কি বন্ধ করা যাবে?
আল্লাহ তা’আলা বলেন,

اَلَمْ يَعْلَمْ بِّاَنَّ اللهُ يَرى

‘সে কি জানে না যে আল্লাহ দেখতে পাচ্ছেন।’

 هُوَ مَعَكُمْ اَيْنَمَا كُنْتُمْ

‘তোমরা যেখানেই থাকো না কেন; তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।’

আল্লাহ আমাদেরকে নির্জনতার মুহূর্তগুলোতে আল্লাহকে অধিক ভয় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

(চলবে)