ইমোজি ব্যবহার করা জায়েজ আছে কি?

জিজ্ঞাসা–১৮৯২ : ইমোজি ব্যবহার করা জায়েজ আছে কি? 

জবাব :

এক. যেসব ইমোজিতে মানুষের মুখমণ্ডল বা কোনো প্রাণীর পূর্ণ দেহাবয়ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, সেগুলো নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা, মুখমণ্ডল অঙ্কন করাও মূলত প্রাণীর পূর্ণ ছবি তৈরিরই অংশ। আর ছবি ছোট বা ক্ষুদ্র হওয়ার কারণে বিধানের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই এ ধরনের স্মাইলি বা ইমোজি ব্যবহার করা জায়েয হবে না।

হাদিসে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ، يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ، فَيُعَذَّبُهُ فِي جَهَنَّمَ

প্রত্যেক ছবি নির্মাতা জাহান্নামে যাবে। সে যে প্রতিটি ছবি তৈরি করেছে, তার বিনিময়ে একটি প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে। [সহীহ বুখারী : ২২২৫, ৫৯৬৩; সহীহ মুসলিম : ৫৬৬২]

দুই. আর যদি ইমোজি কেবল কোলন, ব্র্যাকেট বা বিভিন্ন অক্ষরের সমন্বয়ে তৈরি হয়, যেমন: 🙂 😞 😀 😉 ইত্যাদি, তাহলে সেগুলো নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ, এসব চিহ্নে বাস্তব মুখমণ্ডলের পূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান নেই; যেমন চোখ, নাক, কান, মাথা ইত্যাদির প্রকৃত অবয়ব থাকে না। তাই এ ধরনের প্রতীক ব্যবহার জায়েয হবে। তবে অপ্রয়োজনে এগুলোর ব্যবহার পরিহার করাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

الصُّورَةُ الرَّأْسُ، فَإِذَا قُطِعَ الرَّأْسُ فَلَا صُورَةَ

ছবির মূল হলো মাথা। সুতরাং মাথা বিচ্ছিন্ন করে দিলে তা আর ছবি থাকে না। [সহীহুল জামে’ : ৩৮৬৪]

তিন. ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি—

১. জায়েয পর্যায়ের ইমোজিও কেবল নিজ জেন্ডার ও মাহরামদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। কারণ, গায়রে মাহরাম পরপুরুষের সঙ্গে বিনা প্রয়োজনে কথোপকথন শরীয়তে অনুমোদিত নয়। আর প্রয়োজনবশত কথা বলার সুযোগ থাকলেও নারীদের এমন কোনো ভঙ্গি, অভিব্যক্তি বা আচরণ প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ফিতনার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

সুতরাং পরপুরুষের সঙ্গে কথোপকথনে এসব ইমোজি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ, ইমোজি সাধারণত মনের অনুভূতি, হাসি, লজ্জা বা আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে বিপরীত পক্ষের মনে কল্পনা ও আকর্ষণের সৃষ্টি হতে পারে, যা ফিতনার কারণ হওয়ার আশঙ্কা রাখে।

২. ইমোজির ব্যবহার যেন কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, বিদ্রূপ বা অপমান করার উদ্দেশ্যে না হয়। ইসলাম এ ধরনের আচরণকে হারাম ঘোষণা করেছে।

৩. কিছু ইমোজি বা প্রতীক রয়েছে, যেগুলো কুফর, শিরক, অশ্লীলতা, সমকামিতা কিংবা অন্যান্য গর্হিত চিন্তাধারার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। একজন মুমিনের জন্য এসব প্রতীক ব্যবহার থেকেও দূরে থাকা আবশ্যক।

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন