জিজ্ঞাসা–১৯০৬ : আসসালামু আলাইকুম, শায়েখ! আমি দশম শ্রেনিতে পড়ি। কিছুদিন পর আমার মেট্রিক পরিক্ষা। গত প্রায় ৩ বছর হল, ইসলামের সুশীতল পরশে এসেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমি আগে থেকেই মেয়েদের সাথে কথা বলি না। এখনও আলহামদুলিল্লাহ বলি না। কিন্তু জেনারেল লাইনের ছাত্র হওয়ায় ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়াশুনা করতে হয়। আমাদের প্রাইভেটের একটা মেয়ে আছে, আমি আলহামদুলিল্লাহ এখনও পর্যন্ত তার চেহারাটাও দেখি নাই। কিন্তু তারপরেও আমি কেন জানি তার প্রতি আকর্ষণ বোধ করি। নিজের মাঝে একটা শূন্যতা অনুভব করি। এমতাবস্থায় আমার কঈ করণীয়? তার কথা আমার সবসময়েই মনে পড়ে।— শাহ মুনেফ ওয়াসিফ সিদ্দিকী
জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় প্রশ্নকারী! তোমার বয়স, পরিবেশ এবং অবস্থার কারণে এই ধরনের আকর্ষণ অনুভব করা অস্বাভাবিক না। বিশেষ করে তুমি যেহেতু নিজেকে গুনাহ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছ, তাই ভেতরের টানটা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তুমি এটাকে কীভাবে সামলাচ্ছ। এখন পর্যন্ত তুমি সীমা রক্ষা করার চেষ্টা করছ, এটা ভালো লক্ষণ।
এখন করণীয় কী—
১. তোমার এখনকার অনুভূতিটা মূলত কল্পনা-নির্ভর আকর্ষণ। সুতরাং বিষয়টাকে রোমান্টিক বানাবে না। তার কথা কল্পনা করা, ভবিষ্যৎ দৃশ্য বানানো, নাম খোঁজা, সোশ্যাল মিডিয়া দেখা—এগুলো আকর্ষণকে আসক্তিতে পরিণত করে। ‘এটাই হয়তো ভালোবাসা’, ‘ওকে না পেলে জীবন শূন্য’—এসব চিন্তা বন্ধ কর। তুমি বাস্তবে তার ব্যক্তিত্ব, দীন, চরিত্র—কিছুই জানো না।
৩. তোমার সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো মেট্রিক পরীক্ষা। একটা বাস্তবসম্মত রুটিন বানাও—
- পড়াশোনা
- কুরআন তিলাওয়াত
- ব্যায়াম বা হাঁটা
- পর্যাপ্ত ঘুম
- পরিবার/নেক পরিবেশে সময়
৪. নিয়মিত সালাত, বিশেষ করে ফজর ও এশা জামাতে পড়ার চেষ্টা কর। সকালে ও রাতে অল্প সময় যিকির কর।
হাদীসে এসেছে, একবার সাহাবারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলল, অমুক সাহাবী বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, সে কি এখনো নামাজ পড়ে? সবাই বলল, হ্যাঁ, পড়ে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে যদি নামাজ পড়তে থাকে তাহলে নামাজ তাকে অবশ্যই একদিন খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। (মুসনাদে আহমাদ ২/৪৪৭)
৫. এই বাস্তবতা মনে রাখবে যে, তুমি এখনো ছাত্র। এই বয়সে আবেগ খুব তীব্র লাগে, কিন্তু কয়েক বছর পরে মানুষ বুঝতে পারে— অধিকাংশ ‘ভীষণ অনুভূতি’ স্থায়ী ছিল না। তাই এখন জীবনের ভিত্তি গড়ার সময়।
৬. যদি চিন্তা খুব বাড়ে, রোজা সহায়ক হতে পারে। নবী ﷺ যুবকদের রোজার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ এটি প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৭. প্রত্যেক নামাযের পর দৈনিক অন্তত পাঁচ বার কিছু সময়ের জন্য-দুই থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য আল্লাহর সান্নিধ্যের মুরাকাবা করবে। মুরাকাবা এভাবে করবে—চোখ বন্ধ করবে। তারপর ভাববে, ‘আমি যেখানেই থাকি না আল্লাহ আমার সাথে আছেন।’ অথবা এই আয়াতের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা করবে- هُوَ مَعَكُمْ اَيْنَمَا كُنْتُمْ ‘তোমরা যেখানেই তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।’
৮. ঘুমানোর সময় ইসলামী আদবগুলো মেনে চলবে। যেমন ঘুমানোর দোয়াগুলো পড়া, ডান পার্শ্বে কাত হয়ে শোয়া, পেটের উপর ভর দিয়ে না-ঘুমানো; যেহেতু এ সম্পর্কে নবী ﷺ-এর নিষেধ আছে।
সবশেষে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা—তুমি যে হারাম থেকে বাঁচতে চাচ্ছ, এটাই বড় নিয়ামত। অনেকেই সীমা ভেঙে ফেলে, পরে অনুশোচনা করে। তোমার কাজ এখন অনুভূতিকে অস্বীকার করা না; বরং নিয়ন্ত্রণ করা এবং সঠিক দিকে চালিত করা।
والله أعلم بالصواب