কুফরি কথা বলার পর তাওবা ও ঈমান নবায়নের বিধান

জিজ্ঞাসা–১৯০২ : আসসালামু আলাইকুম। একজন এক সময় আল্লাহ সম্পর্কে আজেবাজে অশালীন কথা বলেছে। পরবর্তী তে কিছুদিন পর আল্লাহ র প্রতি ও ইসলামের সমস্ত বিষয়ের প্রতি তার সর্বোচ্চ ভক্তি জন্মায়, এক আল্লাহ র প্রতি সম্পূর্ণ ঈমান, ভয় ও ভক্তি সহকারেই সে সম্পূর্ণভাবে দ্বীন পালন শুরু করে। এর মাঝে সে বিগত গুনাহের জন্য তওবা করে কিন্তু আলাদাভাবে কখনো কালিমা পড়ে নাই। তবে নামাযে ও মানুষদের জানাযায় সবার সাথে আন্তরিকতার সাথেই কালিমা পড়েছে, তার কি ঈমান সঠিকভাবে নবায়ন হয়েছে?—বাকের।

জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী—যদি কেউ আগে আল্লাহ সম্পর্কে কুফরী বা অশালীন কথা বলে থাকে, তারপর পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয়ে ইসলামে ফিরে আসে, আল্লাহর প্রতি ঈমান স্থাপন করে, গুনাহ থেকে তাওবা করে এবং নামাজ, জানাযা ইত্যাদিতে মুসলমানদের মতো অংশগ্রহণ করে—তাহলে শরয়ি দৃষ্টিতে সে আবার ইসলামে ফিরে এসেছে বলে গণ্য হবে।

ইসলামে ঈমান ‘নবায়নের জন্য আলাদা কালিমা পড়া’ বাধ্যতামূলক নয়। কারণ কালিমা হলো ঈমানের ঘোষণা; আর ঈমান মূলত অন্তরের বিশ্বাস ও মুখের স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। যখন কেউ সত্যিকারের তাওবা করে এবং পুনরায় আল্লাহর উপর ঈমান আনে, তখন তার ঈমান পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন

إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا

যে ব্যক্তি তাওবা করে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে… [সূরা ফুরকান : ৭০]

এখানে দেখা যায়, তাওবা ও ঈমান একসাথে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য মূল শর্ত।

আর তাওবার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه

গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি এমন হয়ে যায় যেন সে কখনো গুনাহ করেনি। [ইবন মাজাহ : ৪২৫০]

সুতরাং আপনার বর্ণিত ব্যক্তি যদি সত্যিই কুফরী কথার জন্য অনুতপ্ত হয়ে থাকে, আল্লাহর প্রতি পুনরায় ঈমান আনে এবং ইসলামী আমল শুরু করে, তাহলে তার ঈমান গ্রহণযোগ্য এবং সে মুসলমান হিসেবে গণ্য হবে। আলাদা করে কালিমা পুনরায় পড়া শর্ত নয়, তবে চাইলে নবায়নের নিয়তে পড়া যেতে পারে—এটি উত্তম।

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন