জিজ্ঞাসা–১৯৩৬ : আমার একটা গরিব খালাতো ভাই আছে হাইস্কুলে পড়াশোনা করে। আমি যতটুকু জানি, আমার খালাতো ভাই দ্বীনের পথে চলাফেরা করে। আমার খালা তার ছেলের পড়াশোনার জন্য মাঝে মাঝে টাকা চায়। আমি কি আমার খালাতো ভাইকে জেনারেল লাইনে পড়াশোনার জন্য যাকাতের টাকা দিতে পারব? আর যাকাতের টাকা যদি দেওয়া যায় তাহলে কাকে টাকাটা দিব খালাকে নাকি খালাতো ভাইকে?—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
জবাব : যদি আপনার খালাতো ভাই প্রকৃতপক্ষে গরিব হয়, অর্থাৎ তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে এবং তার পড়াশোনা ও মৌলিক প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তাকে যাকাতের টাকা দেওয়া জায়েজ। সে দ্বীনের পথে চলুক বা জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করুক—গরিব মুসলিম হওয়াই এখানে মূল বিষয়। তাই তার বৈধ পড়াশোনা, বইপত্র, ভর্তি ফি, থাকা-খাওয়া ইত্যাদির জন্য যাকাতের টাকা ব্যবহার করা যাবে।
আল্লাহ তাআলা যাকাতের হকদারদের সম্পর্কে বলেন
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ
যাকাত তো কেবল ফকির ও মিসকীনদের জন্য…। [সূরা আত-তাওবা : ৬০]
আর কাকে টাকা দেবেন—এ ক্ষেত্রে উত্তম হলো যাকাতের মাল এমনভাবে দেওয়া যাতে গরিব ব্যক্তি মালিক হয়ে যায় (تمليك)। তাই সরাসরি খালাতো ভাইকে দেওয়া উত্তম, যদি সে বুঝদার ও টাকা ব্যবহারে সক্ষম হয়। আর যদি সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হয় বা তার মা-ই তার খরচ পরিচালনা করেন, তাহলে খালাকে তার ছেলের পক্ষ থেকে দিতে পারবেন। তবে নিয়ত থাকবে যে এই টাকা ছেলের মালিকানায় দেওয়া হচ্ছে তার প্রয়োজনের জন্য।
আত্মীয়কে যাকাত দিলে দ্বিগুণ সওয়াবের কথাও হাদিসে এসেছে—একদিকে যাকাত, অন্যদিকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।
রাসূল ﷺ বলেছেন,
الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ: صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ
গরিবকে দান করলে এক সওয়াব, আর আত্মীয়কে দান করলে দুই সওয়াব—দান ও আত্মীয়তা রক্ষা। [তিরমিযী : ৬৫৮]