পারস্পরিক দেনা থাকলে টাকা আটকে রাখা কি জায়েয?

জিজ্ঞাসা–১৯০৪ :ফুপুরা জমি বিক্রির সুত্রে বাবা থেকে কিছু টাকা পাওনা আছে। আবার তারা সব সময় বাবার থেকে অনেক টাকা-পয়সা ধার নিতো। সেই টাকা কেটে রাখতে সম্মত আছে তারা। এমনকি বাবার একটা দোকান এখনো ফুপাতো ভাই চালায়। বাবা বেঁচে থাকতেই দোকান ভাড়া দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্ত কোনো কিছুই দিতো না। বাবার ইন্তেকালের পরও আমাদের দেয় না। যতদিন দোকান বুঝিয়ে না দিবে, ততদিন পাওনা টাকা দিতে হবে না—এই শর্তেও তারা সম্মত আছে। কিন্ত ফুপুর এক ছেলে বলে বেড়ায়, এতে বাবার কবরে আজাব হবে, হক নষ্টের গুনাহ হবে। বিষয়টা আসলে কি? এই কারণে কি আসলেই বাবার কোনো আজাব হবে বা তিনি গোনাহগার হবেন? —শাম’আ ইবনাত। 

জবাব 

এক. যদি ঘটনাটা এমন হয় যে,

— ফুপুদের কাছে আপনার বাবার বৈধ পাওনা ছিল (ধার, দোকান ভাড়া, দোকান ব্যবহার ইত্যাদি),

— আবার জমি বিক্রির অংশ হিসেবে আপনাদের পক্ষ থেকেও তাদের কিছু পাওনা আছে,

—এবং উভয় পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতায় ‘হিসাব সমন্বয়’ করতে রাজি আছে,

তাহলে শরিয়তে এটাকে সাধারণভাবে ‘মুকাসসা’ বা পারস্পরিক দেনা-পাওনা সমন্বয় হিসেবে ধরা হয়। এতে নিজে থেকে গুনাহ হওয়ার কথা নয়। কারো হক অস্বীকার করা আর পারস্পরিক সম্মতিতে হিসাব সমন্বয় করা এক বিষয় নয়।

হ্যাঁ, যদি কেউ জেনেশুনে অন্যের হক মেরে খায়, প্রতারণা করে, বা ইচ্ছাকৃতভাবে দেনা আটকে রাখে, তাহলে সেটা গুনাহ। কিন্তু আপনার কথায় তো দেখা যাচ্ছে আপনারা টাকা অস্বীকার করছেন না; বরং বিপরীত পক্ষের কাছেও পাওনা আছে এবং সেটা সমন্বয়ের আলোচনায় আছে।  কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَن كانَتْ عِنْدَهُ مَظْلِمَةٌ لأخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْها، فإنَّه ليسَ ثَمَّ دِينارٌ ولا دِرْهَمٌ، مِن قَبْلِ أنْ يُؤْخَذَ لأخِيهِ مِن حَسَناتِهِ، فإنْ لَمْ يَكُنْ له حَسَناتٌ أُخِذَ مِن سَيِّئاتِ أخِيهِ فَطُرِحَتْ عليه

কারো উপর তার ভাইয়ের কোন প্রকার দাবি থাকলে সে যেন তাতে থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কেননা সেখানে (কিয়ামত দিবসে বা পরকালে) কোন দীনার-দিরহাম (টাকা-পয়সা) থাকবে না। তার অন্যায়ের সমপরিমাণ নেকী তার ভাইয়ের জন্য কেটে নেয়ার আগেই। তার যদি নেকী না থাকে তাহলে তার ভাইয়ের গুনাহগুলো নেয়া হবে, অতঃপর তার উপরে চাপিয়ে দেয়া হবে। [ সহীহ বুখারী : ৬৫৩৪]

দুই.  সবচেয়ে ভালো হয়

  • সব দেনা-পাওনার লিখিত হিসাব করা,
  • দোকানের বিষয় পরিষ্কার করা,
  • প্রয়োজনে স্থানীয় নিরপেক্ষ আলেম/মুফতি বা সালিশ বোর্ডের সামনে বসা,
  • এবং ওয়ারিশদের সম্মতিতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা।

তাহলে ইনশাআল্লাহ কারো হক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমবে, সম্পর্কও কিছুটা রক্ষা পাবে।

والله أعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন