জিজ্ঞাসা–১৯৩০ : আমার কসমেটিকসের দোকান আছে। আমি যে পণ্যগুলো বিক্রি করি সেগুলো সব হালাল। যেহেতু আমার কসমেটিকসের দোকান, কাজেই আমার দোকানে পর্দাশীল ও বেপর্দা সব ধরনের মেয়েরাই আসে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, যেসকল মেয়েরা বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করে তাদের নিকটে কি আমার কসমেটিকস বিক্রি করা জায়েয হবে? তাদের নিকটে বিক্রি করা কি আমার গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হবে? এখন আমি বিক্রি না করলে ও অন্য দোকানদার করবে এতে আমার কাস্টমার কমে যাবে এবং ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হবে। কারণ বর্তমান অধিকাংশ মেয়েরাই বেপর্দা চলাফেরা করে। এছাড়াও যারা বেপর্দা হয়ে চলে তারা কসমেটিকসের জিনিস পরিধান করলেও বেপর্দা হয়ে চলে না; পরিধান করলেও একইভাবে চলাফেরা করে। এখন আমার করণীয় কী?—ইয়াসিন।
জবাব : আপনার কসমেটিকসের ব্যবসা মূলত জায়েয ও হালাল ব্যবসা। আপনি যেহেতু বৈধ ও হালাল পণ্য বিক্রি করেন, তাই সাধারণভাবে নারী ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা বৈধ হবে—তারা পর্দাশীল হোক বা বেপর্দা হোক। কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো জিনিসের মূল হুকুম তার নিজস্ব প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। কসমেটিকস নিজে হারাম বস্তু নয়; বরং এটি বৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়। একজন নারী স্বামীর জন্য সাজতে পারে, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যচর্চা করতে পারে, সামাজিকভাবে পরিপাটি থাকতে পারে—এসব বৈধ উদ্দেশ্যেও প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়। তাই শুধু এই আশঙ্কায় যে কেউ বেপর্দাভাবে চলাফেরা করে, তাকে পণ্য বিক্রি করলেই বিক্রেতা গুনাহগার হয়ে যাবে—এ কথা শরিয়ত বলে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। [সূরা মায়িদাহ : ২]
এই আয়াতের অর্থ হলো, মানুষকে সরাসরি হারাম কাজে সাহায্য করা নিষিদ্ধ। যেমন কেউ যদি নিশ্চিতভাবে হারাম কাজে ব্যবহারের জন্য কোনো জিনিস চায় এবং বিক্রেতা জেনেশুনে সেই গুনাহ বাস্তবায়নে সাহায্য করে, তাহলে সেটা সহযোগিতা হবে। কিন্তু সাধারণ কসমেটিকস বিক্রি করা সেই পর্যায়ে পড়ে না। কারণ আপনি কাউকে বেপর্দা হতে বলছেন না, হারাম কাজে উৎসাহ দিচ্ছেন না, কিংবা এ উদ্দেশ্যে পণ্য দিচ্ছেন না। আপনি কেবল বৈধ পণ্য বিক্রি করছেন, আর ক্রেতা তার নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী হবে।
ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—কোনো জিনিস যদি মূলত বৈধ হয়, তাহলে তা বিক্রি করাও বৈধ হবে, যতক্ষণ না তা সরাসরি হারামের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে নিশ্চিত জানা যায়। তাই অধিকাংশ নারী যদি বাস্তবে বেপর্দা চলাফেরা করে, তবুও তাদের কাছে বৈধ পণ্য বিক্রি করার কারণে আপনি গুনাহগার হবেন না। তাদের ব্যক্তিগত গুনাহ তাদের নিজেদের উপর বর্তাবে।
আপনার যে দুশ্চিন্তা—’আমি বিক্রি না করলে অন্য দোকানদার বিক্রি করবে, আর আমার ব্যবসায় ক্ষতি হবে’—এটাও বাস্তবসম্মত কথা। শরিয়ত মানুষকে অযথা সংকটে ফেলতে চায় না। ইসলামে বৈধ ব্যবসা ও হালাল উপার্জনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ
মানুষের সর্বোত্তম উপার্জন হলো তার নিজ হাতে উপার্জিত সম্পদ। [আবু দাউদ : ৩৫২৮]
তাই আপনি নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারেন। তবে একজন মুসলিম ব্যবসায়ী হিসেবে চেষ্টা করবেন—
- দোকানে শালীনতা বজায় রাখতে,
- অশ্লীল ছবি বা হারাম প্রচারণা না রাখতে,
- হারাম উপাদানযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলতে,
- নারীদের সাথে অপ্রয়োজনীয় হাসি-তামাশা বা বাড়তি কথাবার্তা পরিহার করতে,
- সততা ও তাকওয়ার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে।
এভাবে ব্যবসা করলে ইনশাআল্লাহ আপনার উপার্জন হালাল হবে। আর যারা বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করে, তাদের সেই গুনাহ তাদের নিজেদের উপর বর্তাবে; সাধারণভাবে বৈধ কসমেটিকস বিক্রি করার কারণে আপনি গুনাহগার হবেন না।