মহিলারা কি জুমার নামাজ পড়তে পারবে?

জিজ্ঞাসা–১৯৩১ : মহিলারা কি জুম্মার নামাজ পড়তে পারবে?—ওয়াকিদ আলম খান।

জবাব : যদি নিরাপদ পরিবেশ থাকে, পর্দা রক্ষা করা যায়, সুগন্ধি বা আকর্ষণীয় সাজসজ্জা প্রদর্শন না করা হয় এবং ফিতনার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে মহিলারা জুমার নামাজ পড়তে পারবেন। ইসলামে নারীদের জন্য জুমার নামাজ বৈধ ও সহিহ। তবে পুরুষদের মতো নারীদের উপর জুমা ফরজ করা হয়নি। অর্থাৎ কোনো নারী যদি জুমায় অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে তার গুনাহ হবে না; তিনি বাসায় যোহরের নামাজ আদায় করবেন। কিন্তু যদি তিনি মসজিদে গিয়ে জুমার জামাতে অংশ নেন, তাহলে তার জুমা আদায় হয়ে যাবে এবং আলাদা করে যোহরের নামাজ পড়তে হবে না।

এ বিষয়ে রাসূল ﷺ বলেছেন,

الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلَّا أَرْبَعَةً: عَبْدٌ مَمْلُوكٌ، أَوِ امْرَأَةٌ، أَوْ صَبِيٌّ، أَوْ مَرِيضٌ

জামাতের সঙ্গে জুমা প্রত্যেক মুসলিমের উপর আবশ্যক; তবে চার ব্যক্তি ব্যতীত: দাস, নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অসুস্থ। [আবু দাউদ : ১০৬৭]

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে নারীদের উপর জুমা ফরজ নয়। তবে ফরজ না হওয়া মানে এই নয় যে তাদের জন্য জুমা নিষিদ্ধ। বরং তারা চাইলে জুমার জামাতে অংশ নিতে পারবেন।

রাসূল ﷺ আরও বলেছেন,

لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ، وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلاَتٌ

তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে যেতে বাধা দিও না। তবে তারা যেন সুগন্ধি ও সাজসজ্জা ছাড়া বের হয়। [আবু দাউদ : ৫৬৫]

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, নারীদের মসজিদে যাওয়া বৈধ। সাহাবিয়াতগণও রাসূল ﷺ–এর যুগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করতেন। তবে ইসলামে নারীর জন্য পর্দা, শালীনতা ও ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। এজন্য নারীর জন্য ঘরে নামাজ পড়া অধিক উত্তম; বিশেষত যদি বাইরে গেলে ফিতনার আশঙ্কা থাকে।

রাসূল ﷺ বলেছেন,

وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ

তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম। [আবু দাউদ : ৫৬]

সুতরাং শরিয়তের সারসংক্ষেপ হলো—

  • নারীদের জন্য জুমার নামাজ বৈধ ও সহিহ।
  • তাদের উপর জুমা ফরজ নয়।
  • জুমা পড়লে যোহরের নামাজও আদায় হয়ে যাবে।
  • পর্দা, শালীনতা ও ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
  • আর যদি পরিবেশ অনিরাপদ বা ফিতনার আশঙ্কাপূর্ণ হয়, তাহলে ঘরে যোহরের নামাজ পড়বে।
    والله أعلم بالصواب
    উত্তর দিয়েছেন