মোবাইল বা টেলিফোনে বিবাহের শরয়ী বিধান

জিজ্ঞাসা–১৮৮৭ :ফোনে বিবাহ করলে সেটা কি হালাল/জায়েয হবে?—আলমগীর।

এক. ইসলামি শরিয়তে বিবাহের মৌলিক শর্ত হলো, একই মজলিসে (একই স্থানে) অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল) সম্পন্ন হওয়া। কেননা, রাসূলুল্লাহ্   বলেছেন,
لا نِكَاحَ إِلا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ ، وَمَا كَانَ مِنْ نِكَاحٍ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ ، فَهُوَ بَاطِلٌ
অভিভাবক ও দু’জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ব্যতিত বিয়ে শুদ্ধ হয় না। যে বিবাহ অভিভাবক ও সাক্ষীর উপস্থিতি ব্যতীত হবে তা বাতিল। (সহিহ ইবন হিব্বান ৪০৭৫)
বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগেও হ্যাকিং, ক্লোনিং বা ভয়েস এডিটিংয়ের মাধ্যমে ধোঁকা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া শরিয়ত নির্ধারিত ‘একই মজলিসে সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার’ শর্তটি মোবাইলে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় না। এ কারণেই ফোনে বা মোবাইলে সরাসরি ইজাব-কবুল করা সহিহ হবেনা।  এ ক্ষেত্রে ফোনের স্পিকার খুলে দিলে এবং উভয় প্রান্তে দুইজন করে স্বাক্ষী পাত্র-পাত্রীর কথা শুনলেও বিবাহ সংঘটিত হবে না। [ফাতাওয়া উসমানী-২/৩০৪,৩০৫, ফাতওয়া লাজনাতিদ্দায়িমাহ ১৮/৯০]
দুই. তবে তবে ওয়াকিল বা প্রতিনিধি বানানোর কাজটি ফোন বা মোবাইলের মাধ্যমেও হতে পারে। আর এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করলে টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ বৈধ হবে। এর পদ্ধতিটি হলো:
  • ধাপ ১: যদি পাত্র-পাত্রী ভিন্ন দেশে বা দূরে অবস্থান করেন, তখন পাত্র বা পাত্রী ফোনের মাধ্যমে পরিচিত বিশ্বাসযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে নিজের বিয়ের প্রতিনিধি (ওয়াকিল) হিসেবে নিযুক্ত করবেন।
  • ধাপ ২: সেই প্রতিনিধি এবার বিয়ের মজলিসে (যেখানে অপরপক্ষ এবং অন্তত দুইজন সাক্ষী উপস্থিত আছেন) উপস্থিত হবেন।
  • ধাপ ৩: প্রতিনিধি সাক্ষীদের সামনে বলবেন, ‘আমি অমুকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে এই বিবাহে সম্মতি দিচ্ছি’ অথবা পাত্রীর প্রতিনিধি হলে বলবেন, ‘আমি অমুকের পক্ষ থেকে তাকে আপনার নিকট বিয়ে দিচ্ছি।’
  • ধাপ ৪: অপরপক্ষ তা কবুল করবে।
এই পদ্ধতিতে বিবাহ সম্পন্ন করলে তা শরিয়তসম্মত হবে, কারণ এখানে সাক্ষীরা সরাসরি প্রতিনিধির মুখ থেকে ইজাব বা কবুল শুনতে পাচ্ছেন। [ফাতাওয়া উসমানী-২/৩০৬]
সুতরাং দীনদার মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে ফোনে বিবাহ না করে, শরিয়তের এই ‘ওয়াকিল’ পদ্ধতি অনুসরণ করা। এতে বিবাহের পবিত্রতা রক্ষা পায় এবং আইনি ও শরয়ী জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

والله أعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন