জিজ্ঞাসা–১৯৫৯ : একজন শারীরিক ভাবে অসুস্থ ব্যক্তি, যিনি হাঁটতে পারেন না, হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। তিনি বায়ুর সমস্যার জন্য অযু ধরে রাখতে পারেন না। এমনকি শুধুমাত্র অযুর পরপরই মনে হয় বায়ুর চাপ আসছে, অন্য সময় এমনটা হয়ই না। কখনো কখনো সত্যিই অযু নষ্ট হয়ে যায়। আর কখনো শুধুই সন্দেহ হতে থাকে। শয়তানের ওয়াসওয়াসা আছে অনেক কিছুতেই। অযু ধরে রাখতে না পারায় প্রতি ওয়াক্তে তিনি নতুন করে অযু করে নামাজ পড়তেন। তার বারবার অযু করতে কষ্ট হয়, এমনকি নামাজ সঠিক ওয়াক্তে পড়তেও পারেন না (কারণ সে হুইলচেয়ারে চলাচল করায় কোনো কাজই জলদি করতে পারেন না)। অযু ধরে রাখতে না পারার কারণে মনে হয় যে একদম শেষ ওয়াক্তে যেয়ে অযু করে পরের ওয়াক্তের নামাজ ও যেনো আদায় করতে পারে। নামাজের জন্য রেডি হওয়াটা অনেক সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টদায়ক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে যদি কোনো ভাবে চাপাচাপি করে অযু ধরে রাখতে পারে, বা বায়ুর বেগ শুধুমাত্র সন্দেহ আসে কিন্তু কিছু বের না হয় তাহলে সে কি এক অযু দিয়ে পরের ওয়াক্তের নামাজ পড়তে পারবে?—জিনাত।
জবাব : যদি বাস্তবে বায়ু বের না হয়, শুধু সন্দেহ, ধারণা বা ওয়াসওয়াসা আসে, তাহলে অযু নষ্ট হবে না। ইসলামের মূলনীতি হলো—
اليقين لا يزول بالشك
‘নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।’
রাসূল ﷺ এমন ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন, যে নামাজে মনে করে তার বায়ু বের হয়েছে
لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا
সে নামাজ ত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়। [সহীহ বুখারী : ১৩৭]
অর্থাৎ শুধু অনুভূতি, সন্দেহ, চাপ বা ধারণার কারণে অযু ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে না।
সুতরাং যদি অযুর পর তার শুধু মনে হয় যে বায়ুর চাপ আসছে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে বায়ু বের হওয়ার ব্যাপারে জানা না যায়, তাহলে তিনি অযু অবস্থাতেই আছেন বলে গণ্য হবেন এবং সেই অযু দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
তবে যদি বাস্তবেই এমন অবস্থা হয় যে প্রায় প্রত্যেক ওয়াক্তে বায়ু বের হয় এবং এত ঘনঘন হয় যে সম্পূর্ণ একটি ওয়াক্তের মধ্যে অযু করে ফরজ নামাজ পড়ার মতো সময়ও পাওয়া যায় না, তাহলে তিনি মাযূর (শরয়ী ওযরগ্রস্ত) ব্যক্তির হুকুমে গণ্য হতে পারেন।
মাযূর ব্যক্তির বিধান হলো—
- প্রত্যেক ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর একবার অযু করবেন।
- সেই অযু দিয়ে ওই ওয়াক্তে ফরজ, সুন্নত, নফল—সব নামাজ পড়তে পারবেন।
- মাঝখানে বায়ু বের হলেও অযু ভাঙবে না।
-
পরবর্তী ওয়াক্ত শুরু হলে নতুন অযু করতে হবে।
তবে কাউকে মাযূর সাব্যস্ত করার জন্য বিস্তারিত অবস্থা জানা প্রয়োজন। কারণ শুধু কষ্ট হওয়া বা মাঝে মাঝে বায়ু বের হওয়া দ্বারা মাযূর হওয়া প্রমাণিত হয় না।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি যেন ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব না দেন। যদি নিশ্চিতভাবে বায়ু বের হওয়ার প্রমাণ না পান, তাহলে অযু আছে বলেই ধরে নেবেন এবং নামাজ আদায় করবেন। বারবার অযু করা এবং নামাজ বিলম্বিত করা অনেক সময় ওয়াসওয়াসাকে আরও বৃদ্ধি করে।