শৈশবে চুরি করা টাকার হক আদায়ের বিধান

জিজ্ঞাসা–১৯০০ : আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স যখন ১২-১৩ এর নিচে তখন আমি আমার বাড়ির এক মুরুব্বির কাছ থেকে টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছি। এখন আমার বুঝে আসছে এটা বড় অন্যায়ের কাজ। আমি তাকে বলেছি এইভাবে যে, ‘আপনি আমার কাছে কিছু টাকা পাওনা রয়েছেন, তবে আমি সঠিক বিষয়টা জানি না; কত টাকা হতে পারে।’ অনুমান করে কিছু টাকা দিয়ে দিয়েছি তাকে।  আমি এখন পুরোপুরি দায়মুক্ত হব কিনা? আর না হয় আমাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন, ইনশাআল্লাা।—আবদুল্লাহ। 

জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই! যেহেতু আপনি এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন, অনুতপ্ত হয়েছেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—এটি তাওবার গুরুত্বপূর্ণ আলামত। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল। আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। [সূরা বাকারা :২২২]

চুরির গুনাহ থেকে মুক্ত হতে সাধারণত তিনটি বিষয় জরুরি—

  • আন্তরিক তাওবা করা,
  • ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করা,
  • এবং যার হক নষ্ট হয়েছে তার হক ফিরিয়ে দেওয়া।

আপনি যেহেতু সরাসরি ঘটনা প্রকাশ না করে কৌশলে তাকে কিছু টাকা দিয়েছেন এবং ধারণামতো পাওনা আদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাই যদি আপনার প্রবল ধারণা হয় যে প্রায় সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি টাকা পৌঁছে গেছে, তাহলে আশা করা যায় আপনি দায়মুক্ত হয়ে গেছেন ইনশাআল্লাহ।

তবে যদি এখনো মনে সন্দেহ থাকে যে কম দেওয়া হয়েছে, তাহলে আরও কিছু টাকা গোপনে বা উপহার/সহায়তার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া উত্তম। এতে অন্তরও প্রশান্ত হবে।

আর যেহেতু ঘটনাটি অল্প বয়সে ঘটেছে—১২-১৩ বছরের নিচে—তাই শরয়ি দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় রয়েছে। কারণ পূর্ণ বালেগ হওয়ার আগের গুনাহ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো লিখা হয় না। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبَرَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ أَوْ يُفِيقَ

তিন ব্যক্তির থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত। [আবু দাউদ : ৪৩৯৮

তবুও মানুষের হক আদায়ের গুরুত্ব আলাদা। আপনি যেহেতু তা আদায়ের চেষ্টা করেছেন, এটি ভালো লক্ষণ। সুতরাং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে ইস্তিগফার করুন, নেক আমল বাড়ান এবং ভবিষ্যতে মানুষের হক সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকুন।

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন