স্বামীর কাছে কোরআন মাথায় নিয়ে কসম খেয়ে মিথ্যা বলা

জিজ্ঞাসা–১৮৭৬: যে নারী তার স্বামীর কাছে কুরআন শরীফ মাথায় নিয়ে কসম খেয়ে মিথ্যা বলতে পারে তার শাস্তি কি?–মোঃ সবুজ হোসেন। 

জবাব: নিঃসন্দেহে মিথ্যা কবিরা গুনাহ। এমনকি হাদিসে মিথ্যা বলার স্বভাবকে মুনাফিকের আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

يُطْبَعُ المُؤْمِنُ عَلَى كُلِّ خُلُقٍ إِلَّا الْخِيَانَةَ وَالْكَذِبَ

মুমিনের মধ্যে অনেক দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু খেয়ানত ও মিথ্যা তার প্রকৃত স্বভাব হতে পারে না। (মুসনাদে আহমদ ২২১৭০)

এর উপরে মিথ্যা কসম—এটা আরও ভয়ংকর। এ ব্যাপারেও রাসূল ﷺ কঠিন ভাষায় সতর্ক করেছেন, তিনি বলেন,

مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ صَبْرٍ يَقْتَطِعُ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ، هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ، لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ

যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোনো মুসলিমের হক আত্মসাৎ করে, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। (সহীহ বুখারী ৬৬৭৪)

তবে এখানে একটি বিষয় ঠিক করে নেওয়া জরুরি—কোরআন শরীফ মাথায় রেখে কসম খাওয়া শরীয়তের কোনো প্রমাণিত পদ্ধতি নয়।

তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই—কোরআনের মতো মহান জিনিসকে সামনে রেখে মিথ্যা বলা গুনাহকে আরও জঘন্য করে তোলে, কারণ এতে আল্লাহর কালামের প্রতি অসম্মানও যুক্ত হয়। স্বামী-স্ত্রীর মতো পবিত্র সম্পর্কের ভেতরে যখন কেউ এমন মিথ্যা কসম করে, তখন শুধু একটি কথা গোপন করা হয় না—বিশ্বাস ভেঙে যায়, ভালোবাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরের বরকত কমে যায়, আর শয়তান সেখানে প্রবেশের সুযোগ পায়।

এ গুনাহের জন্য দরকার খাঁটি তওবা—আল্লাহর সামনে বিনম্র হওয়া, আন্তরিকভাবে লজ্জিত হওয়া, কাঁদা, নিজের ভুল স্বীকার করা, ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া, এবং যদি কারো কোনো হক নষ্ট হয়ে থাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া; কারণ বান্দার হক আদায় না হলে শুধু তওবা যথেষ্ট হয় না।

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন