গর্হিত-পোশাক তৈরির ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করা

জিজ্ঞাসা–৭২৭: আসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্নটার দলিলভিত্তিক সমাধান জানালে উপকৃত হইব। প্রশ্নঃ আমি ঢাকার একটি গার্মেন্টস কোম্পানীতে চাকুরী করি (রেডিমেট পোষাক তৈরীর ফ্যাক্টরী)। আমাদের ফ্যাক্টরী বিদেশ থেকে অর্ডার নিয়ে অর্ডারকারী কোম্পানীর দেওয়া ডিজাইন অনুযায়ী নারী, পুরুষ এবং বাচ্ছদের সব ধরনের পোষাক যেমনঃ পুরুষদের প্যান্ট- শার্ট, মেয়েদের প্যান্ট -শার্ট , নারী ও পুরুষের জ্যাকেট, নারীদের শট প্যান্ট, সুইমিং শট প্যান্ট, স্কার্ট , নারী ও পুরুষের গেঙজি ইত্যাদি তৈরী করে বিদেশে এক্সপোর্ট করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামে বৈধ নয়, যেমন নারীর জন্য শট প্যান্ট, শার্ট – প্যান্ট, সুইমিং শট প্যান্ট, স্কার্ট এবং পুরুষের জন্য হাফ প্যান্ট, সুইমিং প্যান্ট তৈরী ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করার হুকুম কী? এ গুলো বানানোর কোম্পানীতে চাকুরী করলে কি আমি গুনাগাহর হবো? আমার উর্পাজিত বেতন কি হারাম হবে? প্রকাশ থাকে যে, এ সব পোষাক বেশীর ভাগই বেধর্মী দেশে রপ্তানী হয় এবং মুসলিম দেশের মধ্যে আছে শুধু তুর্কি। বাংলাদেশর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে তৈরী পোষাক রপ্তানী।–Hafiz Abdul malik

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. এধরণের ফ্যাক্টরীতে চাকুরি করার মাধ্যমে যদি অমুসলিমদের নোংরা সংস্কৃতি প্রচার ও তাদের সহযোগিতা উদ্দেশ্য না হয়; বরং শুধুমাত্র চাকুরি উদ্দেশ্য হয় তাহলে উক্ত চাকুরি করা মাকরূহে তানজীহী হবে এবং এর বেতন হালাল হবে। তবে মনের মাঝে এর প্রতি ঘৃণা রেখে উক্ত চাকুরি করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার ৯/৫৬২)

হাদিস শরিফে এসেছে,

عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ: أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَأَى حُلَّةً سِيَرَاءَ تُبَاعُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوِ ابْتَعْتَهَا تَلْبَسُهَا لِلْوَفْدِ إِذَا أَتَوْكَ وَالجُمُعَةِ؟ قَالَ: إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ وَأَنَّ النَّبِيَّ بَعَثَ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى عُمَرَ حُلَّةً سِيَرَاءَ حَرِيرٍ كَسَاهَا إِيَّاهُ، فَقَالَ عُمَرُ: كَسَوْتَنِيهَا، وَقَدْ سَمِعْتُكَ تَقُولُ فِيهَا مَا قُلْتَ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا بَعَثْتُ إِلَيْكَ لِتَبِيعَهَا، أَوْ تَكْسُوَهَا

আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, ওমর রাযি. একটি রেশমী হুল্লা বিক্রী হতে দেখে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যদি এটি খরিদ করে নিতেন, তাহলে যখন কোনো প্রতিনিধি দল আপনার কাছে আসে তখন এবং জুমুআর দিনে পরিধান করতে পারতেন। তিনি বললেন, এটা সে ব্যক্তিই পরতে পারে যার আখিরাতে কোন অংশ নেই। পরবর্তী সময়ে নবী ওমর রাযি.-এর নিকট ডোরাকাটা রেশমী হুল্লা পাঠান। তিনি কেবল তাকেই পরতে দেন। ওমর রাযি. বললেন আপনি এখনি আমাকে পরতে দিয়েছেন, অথচ এ সম্পর্কে যা বলার তা আমি আপনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বললেন আমি তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে তুমি এটি বিক্রি করে দিবে অথবা কাউকে পরতে দিবে। (বুখারী ৫৪২৩ পোশাক অধ্যায়)

দুই. প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, মূলত ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক, উক্ত ফ্যাক্টরীতে চাকুরি করার মাধ্যমে আপনি অমুসলিমদের অশ্লীলতানির্ভর সংস্কৃতি প্রচারে একপ্রকার সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। (সূরা মায়েদা ২)

সুতরাং আপনার জন্য আমাদের উপদেশ হল, উক্ত চাকুরি এখনই না ছেড়ে চাকুরির একটি আরো উত্তম পথ খুঁজতে থাকুন। উত্তম পথ পাওয়ার পরই উক্ত চাকুরি ছেড়ে দিন। আল্লাহ বলেন,

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا

আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। (সূরা তালাক ২,৩)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
আরো পড়ুন–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − seven =