ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে নিজের ছবি ব্যবহার এবং হারাম উপার্জনকারীর হাদিয়া গ্রহণ প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা–৮৮৬: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। আপনার বক্তব্য আমি সহ আমাদের পরিবারের সবাই খুব পছন্দ করে। মহান আল্লাহ্‌ সুবহানাহু’ওয়া তা’আলা আপনাকে যেন উত্তম প্রতিদিন দান করেন, আমীন। আমি দ্বীনের ০২টি বিষয় সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাইছি, ০১। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে আমি কি আমার ছবি ব্যবহার করতে পারবো? যদি পারি তাহলে কিভাবে? আর অনুরোধ রইলো ছবি ব্যবহারের একটা সহিহ হাদিস বা অন্য কোন সহিহ রেফারেন্স জানাবেন, যাতে করে আমি অন্যকে বোঝাতে পারি। ২। আলহামদুলিল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমার জানা মতে সকল প্রকার হারাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। এখন আমার প্রশ্ন হল, আমি জানি একজন ব্যক্তি সে হারাম উপার্জন করে বা তার উপার্জনের কিছু অংশ হারাম, যেমন, একজন সুদি ব্যাংকে চাকরি করে অথবা একজন কোন ইউনিভার্সিটিতে চাকরি করে কিন্তি সে ব্যাংকে টাকা রাখার মাধ্যমে সুদ গ্রহণ করে। আমার প্রশ্ন হল, আমি কি এমন ব্যক্তিদের থেকে কোন উপহার বা খাবার গ্রহণ করতে পারবো? যেহেতু, আমি স্পষ্ট জানি যে, তারা হারাম উপার্জনের সাথে জড়িত। জানি আপনি অনেক ব্যস্ত, আলহামদুলিল্লাহ তারপরেও আপ্তনার মত একজন জ্ঞানবান নির্ভর ব্যক্তি থেকে জানতে পারাটা আমার জন্য উত্তম। আবারো দোয়া করি মহান আল্লাহ্‌ যেন আপনাকে উত্তম প্রতিদিন দান করেন, আমীন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।–Md. Abdul Kadir

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. মহিলাদের ছবি হলে বৈধ নয়। পুরুষদের ছবি জায়েজ পদ্ধতিতে প্রদর্শিত হলে জায়েজ আছে। তবে উত্তম নয়। বিশেষ করে সমাজের পথিকৃত যেমন ওলামায়ে কেরামকে এ কর্ম থেকে বিরত থাকাই তাক্বওয়ার দাবী। কিন্তু এসব ছবি প্রিন্ট করা জায়েজ নয়। (তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম-৪/১৬৪)

দুই. অনেক লোক সরাসরি হারাম উপার্জনে লিপ্ত। তার অন্য কোনো বৈধ উপার্জন নেই। তাহলে এমন ব্যক্তির আর্থিক সাহায্য বা হাদিয়া হারাম থেকে হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হবে। তাই তার আর্থিক সাহায্য বা হাদিয়া গ্রহণ করা হারাম হবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা কেবল হালাল ভক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ

হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে আমি যে রিজিক দিয়েছি তাত্থেকে হালালগুলো ভক্ষণ করো”। (সূরা বাকারা : ১৭২)

রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

إِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِى الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِى الْحَرَامِ

নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট; হারামও স্পষ্ট। হালাল ও হারামের মাঝে অনেক সন্দেহযুক্ত বিষয় রয়েছে যা অনেক মানুষই জানে না। সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বিরত থাকলে তার দীন ও সম্মান হেফাজতে থাকবে। পক্ষান্তরে সন্দেহযুক্ত বিষয়াবলিতে লিপ্ত হলে সে যেন হারামেই লিপ্ত হল…। (সহিহ মুসলিম ৪১৭৮)

তবে তার যদি অবৈধ উপার্জনের পাশাপাশি বৈধ উপার্জনও থাকে তখন এ সাহায্য বা হাদিয়া বৈধ উপার্জন থেকেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার অবৈধ উপার্জন থেকেও দিতে পারে। তাই তখন তার সাহায্য বা হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয হলেও অনুত্তম।

ইবনে মাসঊদ রাযি. বলেন, তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, আমার একজন প্রতিবেশী আছে যে সূদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়। এক্ষণে আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি? জওয়াবে তিনি বললেন, مَهْنَأَهُ لَكَ وَإِثْمُهُ عَلَيْهِ তোমার জন্য এটি বিনা কষ্টের অর্জন এবং এর গোনাহ তার উপরে। (মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১৪৬৭৫)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

১ টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + nineteen =