ব্যাংক বা সমিতিতে টাকা জমা রাখা বা চাকরি করা যাবে কি?

জিজ্ঞাসা-৪১:আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক বা সমিতিতে সুদ রয়েছে, এইসব ব্যাংক বা সমিতিতে টাকা জমা রাখা বা চাকরি করা শরিয়ত সম্মত কি? আর কেউ যদি এমন সমিতি বা ব্যাংকে চাকরি করে তাহলে তার পিছনে নামাজ পড়া যায়েজ আছে কি?———–Jasim Sha

জবাব:প্রচলিত ধারার ব্যাংক বা সমিতিগুলো সুদী অর্থনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। সুদ আদানপ্রদানই এসব ব্যাংক বা সমিতির মূল ও প্রধান কাজ। বর্তমান পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় এসব ব্যাংকই হচ্ছে সুদের প্রচার ও প্রসারের প্রধান মাধ্যম। আর ব্যাংক বা সমিতিতে কর্তব্যরত ব্যক্তি বিভিন্ন উপায়ে সুদী কারবারের সাথে সরাসরি জড়িত। সুদ দেওয়া-নেওয়া যেমন হারাম তেমনি অন্যের সুদী কারবারে জড়িত হওয়াও হারাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু সুদদাতা ও গ্রহীতাকে লানত করেননি; বরং এর লেখক (অর্থাৎ সুদের হিসাব-কিতাবকারী) ও সাক্ষীগণকেও অভিসম্পাত করেছেন।
হযরত জাবির রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহণকারী ও সুদ প্রদানকারী এবং সুদের লেখক ও সাক্ষীদ্বয়ের উপর লানত করেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮
সুতরাং একজন মুসলমানের জন্য প্রচলিত ধারার ব্যাংকে বা সমিতিতে চাকরি করা এবং এর বেতনাদি ভোগ করা বৈধ নয়।
আর সুদভিত্তিক হওয়ায় এসব ব্যাংকে বা সমিতিতে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাব বা বিভিন্ন মেয়াদের সঞ্চয়ী হিসাব খোলা কিংবা সুদের ভিত্তিতে যে কোনো ধরনের ঋণ গ্রহণ করা হারাম। কেউ এমন হিসাব খুলে ফেললে তা দ্রæত বন্ধ করে দিতে হবে এবং এ থেকে প্রাপ্ত সুদ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দিতে হবে।
অবশ্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলা, টিটি, পে-অর্ডার ইত্যাদি সুদবিহীন লেনদেন করা জায়েয।
-তাফসীরে কুরতুবী ৩/২২৫ (সূরা বাকারা : ২৭৫); তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ১/২১৯
যে সুদী কারবারের সাথে সরাসরি জড়িত সে হলো ‘‘ফাসেক’’ অর্থাৎ পাপাচারী, আর ফাসেক এর পিছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমি অর্থাৎ হারামের কাছাকাছি। তাই অকাট্য সমস্যা না হলে এধরনের ইমামের পিছনে নামায পড়া পরিহার করা আবশ্যক।
হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত কিতাব ‘ফাতাওয়ায়ে শামী’’ এর মাঝে রয়েছে- فهو (الفاسق) كَالْمُبْتَدِعِ تُكْرَهُ إمَامَتُهُ بِكُلِّ حَالٍ
অর্থাৎ : ফাসেক ব্যক্তির হুকুম বেতআতির ন্যায়, সর্ব অবস্থায় তার ইমামতি মাকরুহে তাহরীমি। ফাতাওয়ায়ে শামি-১/৫৬০।
❁ আরো দেখুন, আহসানুল ফাতাওয়া-৩/২০৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া-১/৪১১, গুনইয়া-৪৮০ ইত্যাদি কিতাবসমূহ।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

ন্তব্য

    • সরকারি ব্যাংক কিংবা বেসরকারি ব্যাংক বলে কোনো কথা নয়। মূল বিষয় হল, সুদী কারবারের সাথে সরাসরি জড়িত হওয়া কিংবা না হওয়া। হযরত জাবির রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহণকারী ও সুদ প্রদানকারী এবং সুদের লেখক ও সাক্ষীদ্বয়ের উপর লানত করেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 5 =