ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে দীনি দাওয়াতের উদ্দেশে পরনারীর সঙ্গে কথা বলা

জিজ্ঞাসা–৭১৮: আসসালামু আলাইকুম। জনাব, আমার প্রথম কথা হলো,আমি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে অনেক মেয়ের সাথে কথা বলি। তাদের দ্বীন সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করি। এরকম কথা বলার বিধান কি? আর দুই নাম্বার হলো, এরকম কথা বলতে বলতে একজন মেয়ে আমায় পসন্দ করে, এখন প্রশ্ন হলো তার সাথে আমার কি রকম সম্পর্ক রাখা যাবে?–কাজী হানিফুর রহমান।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. এক্ষেত্রে শরিয়তের মূল শিক্ষা হল, পরনারীর সঙ্গে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা জায়েয নেই। আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতে (৩৫/১২২) এসেছে,

ذهب الفقهاء إلى أنه لا يجوز التكلم مع الشابة الأجنبية بلا حاجة لأنه مظنة الفتنة

‘ফকিহগণ বলেছেন, যুবতী পরনারীর সঙ্গে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা জায়েয নেই। কেননা এতে ফেতনার আশঙ্কা রয়েছে।’

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ইতিপূর্বে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা নং–২৯২-এ আরো বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

পক্ষান্তরে প্রয়োজনে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলা জায়েয আছে। তবে এক্ষেত্রে নারীর প্রতি নির্দেশ হল, বলার সময় কণ্ঠস্বর কঠোর রাখবে, সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا

হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। (সূরা আহযাব ৩২)

দুই. প্রিয় ভাই, সুতরাং উক্ত শর্তের প্রতি লক্ষ রেখে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কথা বলার প্রতি আপনারও আছে। তবে প্রশ্নের বিবরণ থেকে বুঝা যাচ্ছে, আপনার জন্য ফেতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল। তাই সতর্কতা হল, এথেকে বিরত থেকে দীনের দাওয়াতের জন্য কোনো আশঙ্কামুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা এবং যে মেয়েটি আপনাকে পসন্দ করা শুরু করেছে তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া। কেননা, আপনার জন্য এটা নেক সূরতে শয়তানের ধোঁকা বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ

হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। (সূরা নূর ২১)

রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ ، فَزِنَا العَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ المَنْطِقُ ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي ، وَالفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ كُلَّهُ وَيُكَذِّبُهُ

আল্লাহ আদম সন্তানের উপর যিনার কোন না কোন হিসসা লিখে দিয়েছেন; তা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চোখের যিনা হল (নিষিদ্ধদের প্রতি) নযর করা এবং জিহ্বার যিনা হল (সুড়সুড়িমূলক কথা) বলা। মন তার আকাঙ্ক্ষা ও কামনা করে, লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবায়িত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। (বুখারী ৬২৪৩ মুসলিম ২৬৫৭)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 4 =