যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদের কার্পেট ক্রয় করা এবং في سبيل الله-এর সঠিক ব্যাখ্যা

জিজ্ঞাসা–৫৩১: যাকাতের মাসরাফ وفي سبيل الله এ মসজিদের জন্য শীতকালীন কার্পেট ক্রয় করা যাবে কিনা?– কামাল।

জবাব:

এক- যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদের কার্পেট ক্রয় করা যাবে না। কেননা, যাকাত প্রদানের নির্ধারিত খাত আটটি। আল্লাহ তাঁর এ বাণীতে এ খাতগুলো উল্লেখ করেছেন-

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায়কারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তারা, দাস, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে যারা আছে ও মুসাফিরদের জন্যে। এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা ৬০)

মসজিদ উক্ত আট খাতের মধ্যে পড়ে না, তাই মসজিদের কোন কাজে যাকাতের টাকা খরচ করা জায়েয হবে না।

দুই- উক্ত আয়াতে উল্লেখিত في سبيل الله-এর ব্যাখ্যার মধ্যে মসজিদ পড়ে না। বরং অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এর দ্বারা উদ্দেশ্য, জিহাদ। কোন কোন মুফাসসিরের মতে হজ্বও في سبيل الله-এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন, ইমাম মালেক রহ. বলেন,

سبل الله كثيرة ولكني لا أعلم خلافاً في أن المراد بسبيل الله ههنا الغزو

আল্লাহর রাস্তা অনেক। তবে এখানে উদ্দেশ্য, জিহাদ। আর আমি জানি না, এর বিপরীত কেউ বলেছেন। (আহকামুল কোরআন ৩/১৫৬)

ইবন কাসীর রহ. বলেন,

أما في سبيل الله فمنهم الغزاة الذين لا حق لهم في الديوان، وعند الإمام أحمد والحسن وإسحاق والحج من سبيل الله للحديث

في سبيل الله (আল্লাহর রাস্তায়)। এরা হল, ওই সকল মুজাহিদ যাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা নেই। আর ইমাম আহমদ, হাসান ও ইসহাকের মতে হাদিসের কারণে হজ্বও في سبيل الله-এর অন্তর্ভুক্ত। (তাফসির ইবন কাসীর ২/৩৬৬)

মুফতি শফি উসমানি রহ. বলেন,

যেসব লোক রাসূলুল্লাহ্‌  -এর ব্যাখ্যা ও বর্ণনা এবং তাফসিরশাস্ত্রের ইমামগণের এ বক্তব্য থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে শুধু শাব্দিক অর্থের মাধ্যমে কোরআনকে বুঝতে চায়, এখানে তাদের এ বিভ্রান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে যে, উক্ত আয়াতে في سبيل الله  শব্দটি দেখেই সে সমস্ত কাজকেও যাকাত প্রদানের খাতভুক্ত করে নিয়েছে, যা কোন কোন দিক থেকে সৎকাজ কিংবা ইবাদত বলে গণ্য। তারা  মসজিদ, মাদ্রাসা, হাস্পাতাল, সরাইখানা প্রভৃতি নির্মাণ, কুপ খনন, পুল ও সড়ক তৈরি করা এবং সেসব জনকল্যাণমুলক সংস্থার কর্মচারীদের বেতন ও যাবতীয় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে في سبيل الله এর অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে যাকাত প্রদানের খাত সাব্যস্ত করে নিয়েছে, যা একান্তই ভুল এবং সমস্ত উম্মতের ইজমা পরিপন্থী। সাহাবায়ে কেরাম, যাঁরা কোরআনকে সরাসরি রাসূলুল্লাহ্‌  এর কাছ থেকে অধ্যয়ন করেছেন ও বুঝেছেন, তাঁদের এবং তাবিঈ ইমামগণের যত রকম তাফসির এ শব্দটির ব্যাপারে উদ্ধৃত হয়েছে, তাতে এ শব্দটিকে হজব্রতী ও মুজাহিদদের জন্য নির্দিষ্ট বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। (সংক্ষিপ্ত তাফসির মাআরিফুল কুরআন ৫৭৯)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − eleven =