ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করা হালাল না হারাম?

জিজ্ঞাসা–১১০৪: আমি পরিবারের বড় মেয়ে। আমার বাবা মারা গেছেন আমাদের ছোটবেলায়। আমি পরিবারের প্রয়োজনে একটি ইসলামি ব্যাংকে চাকুরী করি। আমার স্বামী-সন্তান আছে। এই জব করাটা আমার জন্য কতটা জায়েজ?–Romana Afroj

জবাব:

এক. যেহেতু ইসলামী ব্যাংক এব্যাপারে পরিপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তারা সুদের ভিত্তিতে নয়; বরং লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে ইসলামের পূর্ণ রীতি মেনে ব্যাংকিং করে, সেহেতু ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করা, একাউন্ট খোলাসহ যাবতীয় লেনদেন করা কিছু আলেম জায়েয মনে করেন।

পক্ষান্তরে যেহেতু বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো ইসলামের পূর্ণ রীতি মেনে ব্যাংকিং করে কিনা–এ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ আছে। তাই ওখানে চাকরি করার ব্যাপারে কিছু আলেম বলেন, যেসব পদ সুদি অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত নয়, যেমন- সিকিউরিটি, গাড়ি চালনা, মালি, সাধারণ শ্রমিক ইত্যাদি এসব চাকরি করা যাবে। শুধু সুদ দেয়া, নেয়া, সাক্ষী থাকা, লেখালেখি, কমিশন, অ্যাজেন্ট তথা সরাসরি সুদসংশ্লিষ্ট কাজগুলো করা জায়েয হবে না। কেননা, হাদীস শরীফে এসেছে, জাবের রাযি. বলেন,

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ

‘রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ ভক্ষণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং সাক্ষীগণকে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, (গুনাহের ক্ষেত্রে) তারা সবাই বরাবর।’ (মুসলিম ১৫৯৮)

দুই. তবে সর্বাবস্থায় চাকরি না করাটাই হবে তাকওয়ার পরিচায়ক। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ

অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর। (সূরা তাগাবুন ১৬)

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

لاَ يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى يَدَعَ مَا لاَ بَأْسَ بِهِ حَذَرًا لِمَا بِهِ الْبَأْسُ

কোন বান্দা ক্ষতিকর কাজে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে বৈধ অক্ষতিকর বিষয় না ছেড়ে দেয়া পর্যন্ত মুত্তাকীদের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারবে না। (তিরমিযি ২৪৫১)

প্রখ্যাত সাহাবী আবুদ্দারদা রাযি. বলেন,

تَمَامُ التَّقْوَى أَنْ يَتَّقِيَ اللهَ الْعَبْدُ حَتَّى يَتَّقِيَهُ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ، وَحَتَّى يَتْرُكَ بَعْضَ مَا يَرَى أَنَّهُ حَلَالٌ خَشْيَةَ أَنْ يَكُونَ حَرَامًا حِجَابًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحَرَامِ

পরিপূর্ণ তাকওয়া হচ্ছে, বান্দা আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে যে, সে বিন্দু পরিমাণ গুনাহ থেকেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। এমনকি সে হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে এমন কিছু বিষয়ও ত্যাগ করবে, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে হালাল। যাতে করে তার মাঝে এবং হারামের মাঝে প্রতিবন্ধক তৈরি হয়ে যায়। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, ইবনু রজব হাম্বলী ১/২১৭)

হাসান বসরী রহ. বলেন,

مَا زَالَتِ التَّقْوَى بِالْمُتَّقِينَ حَتَّى تَرَكُوا كَثِيرًا مِنَ الْحَلَالِ مَخَافَةَ الْحَرَامِ

মুত্তাকিদের তাকওয়া ততক্ষণ বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে বেশ কিছু হালাল ত্যাগ করবে হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, ইবনু রজব হাম্বলী ১/২১৭)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী