তাশাহ্হুদে শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা

জিজ্ঞাসা–৩৫০: আসসালামু আলাইকুম। সালাতের বৈঠকে তাশাহুদ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করার শরীয়তী বিধান জানালে খুব উপকৃত হবো। ধন্যবাদ।– মেহেদি: [email protected]

জবাব:  وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, তাশাহহুদের সময় তাওহীদের কালিমা তথা ﻟَﺎﺇﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ পাঠ করার সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা সুন্নাত। পদ্ধতি এই যে, আঙ্গুল উঠিয়ে আবার নামিয়ে নিবে, আঙ্গুল উঠিয়ে ধরে রাখবে না কিংবা ধরে রেখে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করবে না।

কেননা, এসম্পর্কে যত হাদীস সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোতে কেবল আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করার কথা আছে, এর কোনোটিতে আঙ্গুল নাড়ানোর কথা নেই। যেমন, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৩৩৬, সহীহ ইবনে হিব্বান-৫/২৭০ এ এসেছে, أَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ ‘শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেছেন’, সহীহ মুসলিম ১৩৩৭ হাদীস নং এ এসেছে, وَرَفَعَ إِصْبَعَهُ الْيُمْنَى الَّتِى تَلِى الإِبْهَامَ ‘আর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববতী (শাহাদাত) আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করেছেন’, ১৩৩৮ নং হাদীসে এসেছে, وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ ‘শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেছেন’। মোটকথা, এভাবে এসম্পর্কীয় প্রায় বিশটি বর্ণনা আছে, যেগুলোতে কেবল ইশারা করার কথা আছে, আঙ্গুল নাড়ানোর কথা নেই। উপরন্তু হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রাযি. বর্ণিত হাদীসে এসেছে,

 كان النبي صلى الله عليه وسلم يشير بأصبعه إذا دعا ولا يحركها রাসূলুল্লাহ ﷺ দুআ করার (অর্থাৎ, তাশাহুদ পড়ার) সময়ে আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। আর তিনি এসময়ে আঙ্গুল নাড়াতেন না। (আবু দাউদ ৯৮৯ সুনানে নাসাঈ কুবরা ১১৯৩ বাইহাকী ২/১৩১ মুসান্নাফ আবদরুরাযযাক ৩২৪২ মুসনাদে আবী আওয়ানা ১৫৯৪ আততালখীসুলহাবীর ৪০৩)

আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রাযি. বর্ণিত হাদীসটির স্তর : সহীহ। ইমাম নববী রহ. (আলমাজমূ’ ৩/৪৫৪) বলেন, إسناده صحيح এর সনদ সহীহ। শায়েখ হায়সামী রহ. বলেন, সনদের রাবীগণ সিক্বা (মাযমাউজ জাওয়ায়িদ ২/১৪৩)। ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, হাদীসটি হাসান (তাখরীজে মিশকাতুল মাসাবীহ ১/৪১১)।

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাশাহহুদের সময়ে ইশারা করতে গিয়ে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করবে না।

দুই. প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, উপরোক্ত নিয়মের বিপরীতে কেউ কেউ শাহাদাত আঙ্গুল নাড়াচাড়া করতে থাকেন। তারা দলীল হিসেবে নাসাঈ বর্ণিত এ হাদীস পেশ করে থাকেন–ﺛُﻢَّ ﻗَﺒَﺾَ ﺍﺛْﻨَﺘَﻴْﻦِ ﻣِﻦْ ﺃَﺻَﺎﺑِﻌِﻪِ ﻭَﺣَﻠَّﻖَ ﺣَﻠْﻘَﺔً، ﺛُﻢَّ ﺭَﻓَﻊَ ﺇِﺻْﺒَﻌَﻪُ ﻓَﺮَﺃَﻳْﺘُﻪُ ﻳُﺤَﺮِّﻛُﻬَﺎ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﺑِﻬَﺎ রসূলুল্লাহ ﷺ দু’টি আঙ্গুল গুটিয়ে বৃত্ত তৈরি করলেন আর আঙ্গুল উঠালেন। আমি দেখেছি তিনি সেটা নাড়াচাড়া করছেন; তা দ্বারা দুআ করছেন। (নাসাঈ ৮৯২)

হাদীসটি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য : এই হাদীসের ব্যাপারে আল্লামা ইবনে খুযাইমা রহ. সহীহ ইবনে খুযাইমা ৭১৪ নম্বর হাদীসের আলোচনায় বলেন,ﻟَﻴْﺲَ ﻓِﻲ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﺧْﺒَﺎﺭِ ‏« ﻳُﺤَﺮِّﻛُﻬَﺎ ‏» ﺇِﻟَّﺎ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺨَﺒَﺮِﺯَﺍﺋِﺪٌ ﺫِﻛْﺮُﻩُ শুধু এই হাদীসটি ব্যতীত কোন হাদীসের মধ্যে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করার অংশটি নেই। এটা এ হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম বায়হাকী রহ. বলেন,يحتمل أن يكون المراد بالتحريك الإشارة بها لا تكرير تحريكها  حتى لا يعارض حديث ابن الزبير আঙ্গুল নাড়াতে থাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ইশারা করা। আঙ্গুল নাড়াতেই থাকা উদ্দেশ্য নয়। এ অর্থ নিলে এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রাযি. এর বর্ণনার সাথে মিলে যায়। (সুনানে বায়হাকী কুবরা ২৬১৫)

শায়খ শুআইব আরনাউত মুসনাদে আহমাদ ১৮৮৭০ নম্বর হাদীসের আলোচনায় বলেন, ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﺩﻭﻥ ﻗﻮﻟﻪ :  ‘ﻓﺮﺃﻳﺘﻪ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ ﻳﺪﻋﻮ ﺑﻬﺎ’  ﻓﻬﻮﺷﺎﺫ ﺍﻧﻔﺮﺩ ﺑﻪ ﺯﺍﺋﺪﺓ – ﻭﻫﻮ ﺍﺑﻦ ﻗﺪﺍﻣﺔ ﻣﻦ ﺑﻴﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏﻋﺎﺻﻢ ﺑﻦ ﻛﻠﻴﺐ -ওয়াইল বিন হুজর রাযি.-এর হাদীসটি সহীহ। তবে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করার অংশটি শাজ (বিরল)। কেননা, আছেম বিন কুলাইবের ছাত্রদের মধ্যে যায়েদা বিন কুদামা ব্যতীত আর কেউ এঅংশটি বর্ণনা করেন নি।

আল্লামা ইবনে খুযাইমা রহ. ইমাম বায়হাকী রহ. এবং শায়খ শুআইব আরনাউতের মন্তব্য থেকে প্রমাণিত হলো যে, এ হাদীসে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করার অংশটি সহীহ নয়। অথবা ওই বাক্য দ্বারা একবার নেড়ে ইশারা করা উদ্দেশ্য; বারবার নাড়াচাড়া করা উদ্দেশ্য নয়।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
[email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 3 =