নগদ টাকা না থাকলে যাকাত কিভাবে দিবে?

জিজ্ঞাসা–১৯০: আসসালামু আলাইকুম। বর্তমানে আমার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণ আছে। কিন্তু নেসাব পরিমাণ টাকা নেই। আর তাছাড়া, বর্তমানে আমি প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ঋনী আছি। আমার জানার বিষয় হলো, এমতাবস্থায় কি আমার যাকাত দিতে হবে? উল্লেখ্য যে, আমার টাকা নেই। আর যদি দিতেই হয়, তাহলে কিভাবে দিবো? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।–মাহ্দী খান অয়না: [email protected]

জবাব: ওয়ালাইকুম আসসালাম। যদি আপনার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণ ছাড়া আর কোনো যাকাতযোগ্য সম্পদ একেবারেই না থাকে তাহলে আপনার জন্য স্বর্ণের নেসাব ধর্তব্য হবে। সোনার নেসাব হয় ৮৭.৪৮ গ্রাম বা ৭.৫ ভরি। আর যদি আপনার কাছে উক্ত ১০ ভরি স্বর্ণের সাথে রূপা, নগদ টাকা, ব্যাংকে রাখা টাকা, এছাড়া যে কোনো তরল সম্পদ এবং বিক্রয়ের জন্য কেনা কিছু থাকে তাহলে রূপার নেসাব ধরে সবই হিসাব করতে হবে।  রূপার নেসাব হয় ৬১২.৩৬ গ্রাম বা ৫২.৫ ভরি। এক্ষেত্রে সরাসরি টাকা নয় যেগুলো, সেগুলোর গড় মূল্য হিসাব করবেন।

সব যোগ করার পর ‘মোট’ যা থাকবে তা থেকে ঋণ ইত্যাদি বাদ দিয়ে যা হবে, সেটার মূল্য প্রথম ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমপরিমাণ হয় কিনা দেখবেন। যদি প্রথম ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ সমপরিমাণ হয়ে যায় বা  দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলে যাকাত আসবে। অন্যথায় যাকাত আসবে না।

এবার সব যোগ বিয়োগ শেষে যদি যাকাত আসে তাহলে যাকাত দিবেন চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আপনার কাছে যদি যাকাত দেয়ার মত নগদ টাকা না থাকে প্রয়োজনে ঋণ করে দিবেন। কিংবা সোনা বিক্রি করে দিবেন। এখন দিতে না পারলে পরে দিবেন। মনে রাখবেন, যাকাত ফরজ হওয়ার পর যাকাত থেকে অব্যাহতির কোনো সুযোগ নেই।

কারণ যাকাত না দেয়ার পরিণতি বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ

“আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার।” (সূরা তাওবা: ৩৪-৩৫)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী