নামাযে নারীর ইমামতি

জিজ্ঞাসা–৩৭৯: মহিলারা ইমামতি করতে পারবে কি?–হানিফ মোহাম্মাদ সিদ্দকি।

জবাব:

এক- প্রশ্নকারী দীনি ভাই, আসলে ইদানিংকালের নিদারুণ আশঙ্কাজনক ব্যাপার হল এই যে, পাশ্চাত্যসভ্যতার নিয়ন্ত্রণহীন দাপটে প্রভাবিত একটি মহল দ্বীনের অনেক স্বতসিদ্ধ বিষয়কেও অস্বীকার করার মত ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। পাশ্চাত্যের ‘নারী-পুরুষের সমান অধিকার’ শ্লোগানে প্রভাবিত হয়ে তারাও প্রশ্ন তুলছে– ‘পুরুষ ইমামতি করতে পারলে নারী পারবে না কেন?’ ‘মহিলারা সবখানে যেতে পারলে মসজিদে কেন পারবে না? ইত্যাদি’।

যাই হোক, আপনার প্রশ্ন হল, মহিলারা ইমামতি করতে পারবে কি? এ বিষয়ে ওলামায়েকেরাম একমত যে, কোন মহিলার জন্য কোন পুরুষের ইমাম হওয়া জায়েয নেই। এতে পুরুষের নামায বাতিল বলে গণ্য হবে। (ফাতাওয়া লাজনাতিত দাইমা ৭/৩৯১)

এর দলিল হচ্ছে–

১। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক খুতবায় বলেছেন,

أَلَا لَا تَؤُمَّنَّ امْرَأَةٌ رَجُلًا

খবরদার কোন মহিলা যেন পুরুষের ইমাম না হয়। (ইবনে মাজাহ ১০৭১)

২। রাসূলুল্লাহ ﷺ  বলেছেন,

لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمْ امْرَأَةً

ঐ সম্প্রদায় কখনো সফলকাম হতে পারে না, যারা কোন মহিলাকে তাদের বিষয়াদির নেতা নিযুক্ত করে। (বুখারী ৪০৭৩ নাসাঈ ৫২৯৩)

যেহেতু ইমামতি এক প্রকারের নেতৃত্ব, তাই তাদের এ পদে নিযুক্ত করা হারাম।

৩। মহিলাদের ইমামতির বৈধতা রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত নয়। তাঁর যুগে কিংবা সাহাবায়েকেরামের যুগে কিংবা তাবিঈ-যুগে এর একটি অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায় না।

দুই- কোন মহিলা কোন মহিলার ইমাম হতে পারবে কিনা- এব্যাপারে প্রথম কথা হল, মহিলাদের জন্য জামাত জরুরী নয়। (ফাতহুল বারী ২/২৯০)

কেননা, বিভিন্ন হাদিসে পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে, মসজিদে যাওয়া তাদের জন্য জরুরি নয় ; বরং  মসজিদ অপেক্ষা ঘরে নামাজ আদায় করা তাদের জন্য উত্তম। যেমন, হযরত উম্মে  হুমাইদ আস সাআদী রাযি. থেকে বর্ণিত, একবার তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এসে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার পিছনে নামাজ আদায় করতে চাই। রাসুলুল্লাহ ﷺ উত্তরে বললেন,

قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكِ تُحِبِّينَ الصَّلَاةَ مَعي ,ِ وَصَلَاتُكِ فِي بَيْتِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي حُجْرَتِكِ ، وَصَلَاتُكِ فِي حُجْرَتِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي دَارِك ، وَصَلَاتُكِ فِي دَارِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ ، وَصَلَاتُكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِي ” , قَالَ : فَأَمَرَتْ فَبُنِيَ لَهَا مَسْجِدٌ فِي أَقْصَى شَيْءٍ مِنْ بَيْتِهَا وَأَظْلَمِه ، فَكَانَتْ تُصَلِّي فِيهِ حَتَّى لَقِيَتْ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ

‘আমি ভালো করেই জানি, তুমি আমার পিছনে নামাজ আদায় করতে চাও। কিন্তু তোমার জন্য তোমার রুমে নামাজ আদায় করা অন্য রুমে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার ঘরের কোনো রুমে আদায় করা বাড়িতে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার  বাড়িতে নামাজ আদায় করা কওমের (এলাকার ) মসজিদে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার কওমের (এলাকার ) মসজিদে নামাজ আদায় করা আমার পিছনে নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম। এরপর ঐ মহিলা তার অন্ধকার কুঠরিতে নামাজের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে নেয়। এবং মৃত্যু পর্যমত সেখানেই নামাজ আদায় করতে থাকে।’ (মুসনাদে আহমাদ ৩৭/৪৫)

তবে যদি কোথাও মহিলারা জামাতের সাথে মহিলা ইমামের পিছনে নামায পড়ে তাহলে কতক আলেম বলেন, মহিলাদের নামায আদায় হয়ে যাবে। কারণ, রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মে ওরাকাকে তার ঘরের লোকদের ইমামতি করার অনুমতি দিয়েছেন। (আবু দাঊদ ৫৯১)

যদি তারা তা করে তবে ইমাম মাঝখানে দাঁড়াবেন; কারণ আয়িশা রাযি. তেমনটি করেছিলেন।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
আরো পড়ুন–
 মহিলারা সবখানে যেতে পারলে মসজিদে কেন পারবে না?
 নারী স্বাধীনতার ধোঁকা
 নারী-পুরুষের নামাজের ভিন্নতা প্রসঙ্গে
 পুরুষ ও নারীর সিজদা-পদ্ধতি: একটি বিভ্রান্তির জবাব
 শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে নারীরা মাহরাম ছাড়া সফর করতে পারবে কি?
 মহিলারা মাহরাম ছাড়া হজে যেতে পারবে কিনা?

 
 মহিলারা কোথায় ই’তিকাফ করবেন–বাসায় না মসজিদে?
 মহিলারা হক্কানী ওলামায়ে কেরামের ভিডিও দেখতে পারবে কি?
 মহিলাদের চুল সোনালী রং করা বৈধ কিনা?
 হিজড়াদের জন্য কি ইসলামের বিধি-বিধান নেই?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + seven =