নিকাব পরলে কষ্ট হয়; তাহলে না পরার অনুমতি আছে কি?

জিজ্ঞাসা–৫৪০: আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন ছিল পর্দা করা তো ইসলামে ফরজ। তো দেখা যায় অনেকে মাথায় কাপড় দিলে মাথা ঘেমে ঘুরতে শুরু করে। প্রেসার বেড়ে যায়। সেন্সলেস হবার অবস্থা হয়। অনেকে মুখে নেকাব পড়লেও গরমে এই অবস্থা হয়। আর যারা মাটি কাটে, ইট ভাঙে; এই জাতীয় কাজ করে তাদের পক্ষে তো বোরকা পরে এইসব করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য মাসয়ালা কি? –nadia afrin

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক- শরিয়তের বিধান হচ্ছে- নারী নিজেকে ঢেকে রাখবে, শালীনতা বজায় রেখে চলবে এবং এমন চরিত্র লালন করবে যা তাকে ফেতনার উৎস থেকে দূরে রাখবে। কোরআনের সুস্পষ্ট দলিল ও রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর সহীহও হাদীস প্রমাণ করে পরপুরুষের সামনে নারীকে তার চেহারা ঢেকে রাখতে হবে। উম্মাহাতুল মুমিনীন ও অন্যান্য সাহাবিয়ার আমল দ্বারাও এটি প্রমাণিত।

ইতিপূর্বে আমরা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা নং –২০৩ বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

তাই মুসলিম নারীর কর্তব্য হলো- মুমিনদের মাতৃবর্গ, সাহাবায়ে কেরামের স্ত্রীগণ ও তাঁদেরকে সঠিকভাবে অনুসরণকারী নারীগণের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা। পর্দা ও শালীনতা রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। এটি তাদেরকে ফেতনা থেকে দূরে রাখবে, মনের মধ্যে খারাপ কামনার উদ্রেক থেকে হেফাযত করবে। আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর নিকট থেকে সওয়াব পাওয়ার আশা এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে এটি করতে হবে।

যে নারী নেকাব পরলে তার শারীরিক সমস্যা হয়, তার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করছি তিনি যেন তাকে নেকাব পরার তাওফিক দেন। তাকে যেন সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

দুই- নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,

الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ ، وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ، وَإِنَّهَا لا تَكُونُ أَقْرَبَ إِلَى اللَّهِ مِنْهَا فِي قَعْرِ بَيْتِهَا

‘নারী গোপন জিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার  সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।’ (তাবরাণী ২৯৭৪)

এজন্য ইসলাম নারীর উপর উপার্জনের দায়িত্ব আরোপ করে নি। তবে প্রয়োজন, অপরাগতা কিংবা ঠেকায় পড়ার পরিস্থিতিতে নারী উপার্জনের জন্য বাইরে যেতে পারে। ফাতাওয়াল লাজনাতিদ্দায়িমা (১৩/১৬)-তে এসেছে,

إذا كان اتجار المرأة يعرضها لكشف زينتها التي نهاها الله عن كشفها ، كالوجه ، فلا يجوز لها تعاطي ذلك ، بل الواجب منعها

যদি নারী উপার্জন করতে গিয়ে  তার সৌন্দর্য্য প্রকাশ করতে হয়, যা আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন। যেমন- চেহারা। তাহলে তার জন্য উপার্জন করা জায়েয নেই। বরং তখন তার জন্য বিরত থাকা ওয়াজিব।

আরও জানার জন্য পড়ুন–জিজ্ঞাসা নং –৫০৮।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × five =