বদলী হজ করলে আগে নিজের হজ করতে হয় কিনা?

জিজ্ঞাসা–৩৫৯: মৃত মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন বা যে কোন মুসলিমের পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরা আদায় করা জায়েজ রয়েছে। তবে শর্ত হল, যে ব্যক্তি বদলি আদায় করবে তাকে ইতোপূর্বে নিজের হজ্জ বা ওমরা আদায় করতে হবে। মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে উমরা আদায়ের জন্য একমাত্র নিয়ত ছাড়া আর কোন পার্থক্য নেই। এর দলীলভিত্তিক সমাধান দিতে অনুরোধ করছি। Saeed khan

জবাব:

এক. বদলী হজ এমন লোককে দিয়ে করানো উচিত, যিনি নিজের ফরয হজ আদায় করেছেন। যে ব্যক্তি নিজের হজ আদায় করেনি সে যদি এমন হয় যে, তার উপর হজ ফরয নয় তাহলে তাকে দিয়েও বদলী করানো জায়েয আছে। তবে তা মাকরূহ তানযীহি। আর যদি তার উপর হজ ফরয হয়ে থাকে, কিন্তু সে এখনও তা আদায় করেনি তাহলে তার জন্য বদলী হজ করা মাকরূহ তাহরীমী তথা নাজায়েয। তবে কেউ এমন ব্যক্তির দ্বারা বদলী হজ করালে প্রেরণকারীর হজ আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় তাকে বদলী করাতে হবে না। এর দলিল হচ্ছে,

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ এক ব্যক্তিকে হজের ইহরাম করার সময়-لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ (শুবরুমার পক্ষ থেকে লাববাইক) এভাবে বলতে শুনে বললেন, ‘শুবরুমা কে?’ লোকটি বলল, ‘আমার ভাই (বর্ণনাকারী বলেন) অথবা বলল, আমার নিকটাত্মীয় এক লোক।’ রাসূলুল্লাহ বললেন, ‘তুমি কি নিজের হজ করেছ?’ সে বলল, ‘না।’ নবী করীমﷺ  বললেন, ‘আগে তোমার নিজের হজ কর তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে কর। (সুনানে আবু দাউদ ১/২৫২)

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে-كان لا يرى بأسا أن يحج الصرورة عن الرجل যে ব্যক্তি নিজের হজ্ব করেনি যে অন্যের পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করাকে তিনি দোষের বিষয় মনে করতেন না।

বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ, হাসান বসরী ও সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহ.ও এমনই মনে করতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/১৮৯ মাবসূত, সারাখসী ৪/১৫১; আলবাহরুল আমীক ৪/২২৬৩; ফাতহুল কাদীর ৩/৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৩)

দুই. উমরাহর বদলী করাও জায়েয আছে। এর দলিল হচ্ছে,

হযরত আবু রাযীন আলউকায়লী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার বাবা অতিশয় বৃদ্ধ মানুষ। তিনি হজ্ব ও উমরাহ করতে সক্ষম নয়। (আমি কী করতে পারি?)’ রাসূলুল্লাহ বললেন, ‘তোমার বাবার পক্ষ থেকে তুমি হজ্ব ও উমরাহ আদায় কর।’ (জামে তিরমিযী ১/১১২)

তিন. বদলী হজ বা উমরাহর ইহরাম বাঁধার সময় প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে। এর জন্য উত্তম হল, মুখে এভাবে বলা যে, আমি অমুকের পক্ষ থেকে হজ বা উমরাহর ইহরাম করছি বা নিয়ত করছি, এমনকি তালবিয়া বলার সময়ও তার নাম যুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন এভাবে বলবে, লাববাইক আন ফুলান (ব্যক্তির নাম)।

যদি তার নাম জানা না থাকে বা স্মরণ না থাকে তাহলে এভাবে বলবে যে, যিনি আমাকে বদলী হজ বা উমরাহর জন্য প্রেরণ করছেন বা যার পক্ষ থেকে বদলী হজ বা উমরাহ করছি তার পক্ষ থেকে হজ বা উমরাহর নিয়ত করলাম। ইহরামের সময় একবার এই নিয়ত করা যথেষ্ট। হজ বা উমরাহর প্রতিটি কাজে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে না। এর দলিল হচ্ছে,

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, কারো পক্ষ থেকে বদলী হজ করলে তালবিয়া পড়ার সময় তার নাম নিয়ে একবার এভাবে বলাই যথেষ্ট যে,لَبَّيْكَ عَنْ فُلَانٍ (অমুকের পক্ষ থেকে লাববাইক।)

অনুরূপ বক্তব্য হযরত আতা রহ. থেকেও বর্ণিত আছে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/২৩৪)

যদি মুখে প্রেরণকারীর নাম উল্লেখ করতে ভুলে যায়, কিন্তু মনে মনে তার পক্ষ থেকে নিয়ত করেছে, তাহলেও কোনো অসুবিধা নেই। কেননা, অন্তরের নিয়তই যথেষ্ট।

হযরত হাসান বসরী ও আতা রহ. বলেছেন-

إِذَا حَجَّ الرَّجُلُ عَنِ الرَّجُلِ فَنَسِيَ أَنْ يُسَمِّيَهُ فَقَدْ أَجْزَأَ عَنْهُ الْحَجُّ، فَإِنَّ اللهَ قَدْ عَلِمَ عَمَّنْ حَجَّ.

যদি কেউ কারো পক্ষ থেকে (বদলী) হজ করে আর সে (ইহরামের সময়) প্রেরকের নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তাহলেও তার হজ আদায় হবে যাবে। কারণ আল্লাহ তাআলা জানেন, সে কার পক্ষ থেকে হজ করেছে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮-/২৩৫)

যেভাবে নিজের হজ বা উমরাহ আদায় করা হয় সেভাবেই বদলী হজ বা উমরাহ আদায় করা হবে। পার্থক্য শুধু এইটুকু যে, নিয়ত ও তালবিয়ার সময় প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে  নিয়ত করা হয়। এরপর সকল কাজ এক ও অভিন্ন।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী