মাহরাম কাকে বলে?

জিজ্ঞাসা–১৬১৬: মাহরাম কী?–Md shayon mia

জবাব: মাহরাম শব্দটি আরবী হারাম শব্দ থেকে এসেছে। ইসলামী পরিভাষায় মাহরাম দ্বারা বুঝায়, যাদেরকে বিবাহ করা হারাম বা অবৈধ এবং দেখা করা বা দেখা দেওয়া জায়েয বা বৈধ।

ছেলেদের জন্য মাহরাম হল ১৪ জন। তারা হলেন,

  • মায়ের মত ৫ জন–
  • মা
  • ফুফু (বাবার বোন)
  • খালা (মায়ের বোন)
  • শাশুড়ি ( স্ত্রী এর মা )
  • দুধ-মা (যে মা ছোট বেলায় দুধ খাইয়ে ছিলেন)
  • বোনের মত ৫ জন–
  • নিজের বোন
  • নানি (মায়ের মা)
  • দাদি (বাবার মা)
  • নাতনি (আপন ছেলে ও মেয়ের কন্যা)
  • দুধ-বোন
  • মেয়ের মত ৪ জন–
  • মেয়ে
  • ভাতিজি (আপন ভাই-এর মেয়ে)
  • ভাগ্নি (আপন বোনের মেয়ে)
  • ছেলের বউ

এসব ব্যক্তি ছাড়া ছেলেরা বাকি সবার সাথে বিবাহ করতে পারবে। এছাড়া স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর আপন বোনকে বিবাহ করা যাবে না।

মহিলাদের মাহরাম ১৪ জন। তারা হলেন,

  • বাবার মত ৪ জন–
  • পিতা
  • চাচা
  • মামা
  • শ্বশুর
  • ভাই-এর মত ৫ জন–
  • সহোদর ভাই
  • নিজ দাদা
  • নিজ নানা
  • নিজ নাতি
  • দুধ-ভাই
  • ছেলের মত ৫ জন–
  • ছেলে
  • ভাই-এর ছেলে
  • বোনের ছেলে
  • মেয়ের জামাই
  • দুধ-ছেলে

একজন নারীর জন্য উল্লেখিত ব্যক্তিদের ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা যাবে না। এমনকি অন্যদের সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া অযথা কথাবার্তা বলাও গোনাহের কাজ।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا

তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’ বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা নিসা ২৩)

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =