মেয়েরা কি ঈদ্গাহে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে?

জিজ্ঞাসা–১৫৪৮: শায়েখ, কিছু স্কলার মেয়েদেরকে ঈদ্গাহে যাওয়ার প্রতি খুব তাগিদ দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, নবীজী সাঃ এর যুগে মহিলা সাহাবীদেরকে যাওয়ার নির্দেশ ছিল। আমার প্রশ্ন হল, তাদের এই বক্তব্য কতটুকু সঠিক? মেয়েরা কি ঈদ্গাহে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে?–আবু হানিফ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

জবাব:

এক. এটা সত্য যে, নবী-যুগে মহিলারা ঈদগাহে যেতেন। যেমন, উম্মু আতিয়্যাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَمَرَنَا رَسولُ اللهِ ﷺ ، أَنْ نُخْرِجَهُنَّ في الفِطْرِ وَالأضْحَى، العَوَاتِقَ، وَالْحُيَّضَ، وَذَوَاتِ الخُدُورِ، فأمَّا الحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلَاةَ، وَيَشْهَدْنَ الخَيْرَ، وَدَعْوَةَ المُسْلِمِينَ، قُلتُ: يا رَسولَ اللهِ، إحْدَانَا لا يَكونُ لَهَا جِلْبَابٌ، قالَ: لِتُلْبِسْهَا أُخْتُهَا مِن جِلْبَابِهَا

আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ আদেশ করেছেন, আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে বের করে দেই- পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনী সবাইকে। তবে ঋতুবতী মহিলারা নামাজ থেকে বিরত থাকবে। বাকী পুণ্যের কাজে ও মুসলিমদের দোয়ায় শারীক হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কারো চাদর ওড়না নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তার জন্য বোন তাকে নিজ চাদর বা ওড়না পরিয়ে দিবে। (মুসলিম ৮৮৩)

দুই. এ হাদিসে এবং অন্যান্য আরও হাদিসে স্পষ্টই উল্লেখ রয়েছে যে, ঋতুবর্তী মহিলাগণও ঈদগাহে উপস্থিত হতো। অথচ শরীয়তে ঋতুবর্তী মহিলাদের জন্য নামায সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং তাদের ঈদগাহে বা জামাতে উপস্থিত হওয়ার আদেশ যদি শুধুমাত্র নামাজের জন্য হতো, তবে ঋতুবর্তী মহিলাগণ ঈদগাহে উপস্থিত হতো না। মূলতঃ প্রথম যুগে নামাজসহ সকল অনুষ্ঠানাদিতে মহিলাদের উপস্থিত হওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, তালীম গ্রহন করা। তথা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে নিত্যনতুন আদেশ নিষেধ নাযিল হতো তা যেন পুরুষ মহিলা সকলে সমভাবে জানতে পারে সে কারণে তাদেরও উপস্থিত হওয়ার আদেশ ছিল।

এটাও ছিল অনেক কঠোর শর্ত সাপেক্ষে। যথা-(ক) পরিপূর্ণ পর্দাসহ গোটা শরীর আবৃত অবস্থায় বের হবে। (খ) ঝনঝনানিপূর্ণ অলঙ্কার পরে বের হতে পারবে না। (গ) সাজগোজ ও সুগন্ধি সহ বের হতে পারবে না। (ঘ) অঙ্গভঙ্গি করে চলতে পারবে না। (ঙ) পুরুষদের ভিড় এড়িয়ে রাস্তার একপাশ হয়ে চলবে। (চ) অপ্রয়োজনে পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। (ছ) সবচে’ বড় বিষয় হল, তাদের এ বের হওয়াটা ফেতনার কারণ হতে পারবে না। (আবু দাউদ হাদিস নং ৫৬৫, বযলুল মাজহূদ ৪/১৬১)

তিন. আজও এসব শর্ত পাওয়া গেলে মহিলারা ঈদ্গাহে কিংবা মসজিদে যেতে চাইলে অনুমতি দেয়ার অবকাশ অবশ্যই আছে। কিন্তু নবী-যুগের পর যখন উক্ত শর্তগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে তখন সাহাবায়ে কেরাম তা উপলব্ধি করতে পেরে মহিলাদের ঈদগাহে, জুমআ’য় ও সাধারণ জামাতে গমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছেন।

নিম্নে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ থেকে কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হল,

১. আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ

যদি রাসুলুল্লাহ ﷺ বর্তমানকালের মহিলাদের অবস্থা দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। যেমন নিষেধ করা হয়েছিল বনি ইসরাইলের মহিলাদেরকে। (বুখারী ১/২৯৬)

. আবু আমর শাইবানি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযি.-কে দেখেছি, তিনি জুমআ’র দিন মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন এবং বলতেন, আপনারা বের হয়ে যান। আপনাদের ঘরই আপনাদের জন্য উত্তম। (আলমুজামুল কাবির ৯৪৭৫, মজমাউযযাওয়াইদ ২/৩৫) আল্লামা হাইছামি বলেন, এই রেওয়ায়তের সকল বর্ণনা কারী সিকাহ-নির্ভরযোগ্য

. যুবাইর ইবন আওয়াম রাযি. তাঁর পরিবারের কোন নারীকে ঈদের জামাতে যেতে দিতেন না। (মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবাহ ৫৮৪৬)

এবার বলুন, সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের যুগে নারীদেরকে ঈদ্গাহে কিংবা মসজিদে বারণ করেছিলেন, তাহলে অশ্লীলতায় থৈ থৈ করা এই সমাজের নারীদের দেখলে তাঁরা কী বলতেন! দীনের দাওয়াত, দাওয়াতের হেকমত ও প্রয়োজনীয়তা তাঁরা যুগের কথিত দীন-দরদী স্কলারদের থেকেও কম বুঝেছেন! নাউজুবিল্লাহ

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

4 × 2 =