যে বক্তি বলে, নবীগণের ভাষায় ত্রুটি ছিল…

জিজ্ঞাসা–১০৭২: আমরা বিশ্বাস করি যে, কুরআন শরিফের মধ্যে কোন ধরনের ব্যকরণগত ভুল নেই। হাদিস শরিফের ক্ষেত্রেও কি একই বিশ্বাস রাখতে হবে? যদি কেউ বলে নবি রাসুলগণের কথার মধ্যে ব্যাকরণগত ভুল আছে,তাহলে কি ঐ ব্যক্তি ঈমানহারা হয়ে যাবে?–মুহাম্মদ সাজিদ, কিশোরগঞ্জ। 

জবাব: নবীগণ হচ্ছেন শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁরা সৃষ্টিকুলের মাঝে আল্লাহ্‌র কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ্‌ তাআলা সকল নবীগণকে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁদেরকে সকল গুনাহ এবং চরিত্রগত ও সৃষ্টিগত দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত করেছেন। রিসালাত-এর দায়িত্ব পালন বহন করার ও পৌঁছে দেয়ার যোগ্য বানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ

তাঁর রিসালাত (রসূলের দায়িত্ব) কোথায় দেবেন তা তিনিই ভাল জানেন। (সূরা আনআ’ম ১২৪)

এ কারণে ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন,

والأنبياء عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام كلهم منزهون عَن الصَّغَائِر والكبائر وَالْكفْر والقبائح

নবীগণ সকলেই ছিলেন সগিরা-কবিরা গুনাহ থেকে কুফরি ও মন্দ বিষয়সমূহ থেকে মুক্ত। (আলফিকহুল আকবার ৩৭)

ইমাম নববি রহ. বলেন,

أنَّ الأنبياء – صلوات الله وسلامه عليهم – منزَّهون عن النَّقائص في الخَلق والخُلق، سالمون من العاهات والمعايب، قالوا: ولا التِفات إلى ما قاله مَن لا تحقيق له من أهل التَّاريخ في إضافة بعض العاهات إلى بعضهم، بل نزَّههم الله تعالى من كل عيب، وكلّ شيء يبغض العيون، أو ينفر القلوب

নিশ্চয় নবীগণ সকল সৃষ্টিগত ও চরিত্রগত ত্রুটি থেকে পবিত্র ছিলেন। সকল দৈহিক খুঁত ও ত্রুটিসমূহ থেকে নিরাপদ ছিলেন। তাঁরা (মুহাদ্দিসগণ) বলেছেন, কিছু ঐতিহাসিক সঠিক তদন্ত ছাড়া কোনো কোনো নবীর সঙ্গে জড়িয়ে তাঁদের যে সব দৈহিক খুঁতের বলে থাকেন, সেগুলোর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে সকল ত্রুটি থেকে, দৃষ্টিকটু বিষয় থেকে এবং অবজ্ঞাজনক বস্তু থেকে পবিত্র করেছেন। (শরহু মুসলিম, নববি ৮/১০২)

তাফসিরে রুহুল বায়ানে এসেছে,

كان الأنبياء كلهم فصحاء بلغاء

নবীগণ সকলেই ছিলেন বিশুদ্ধভাষী ও বাগ্মী-আলঙ্কারিক। (তাফসিরে রুহুল ৮/৪৭৩)

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি রহ. বলেন,

أفصحُ الخَلْق على الإطلاقَ سيدُنا ومولانا رسول اللّه حبيب رب العالمين جلَّ وعلا

গোটা সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবার চেয়ে বিশুদ্ধভাষী ছিলেন আমাদের সাইয়েদ আমাদের মনিব মহান আল্লাহর রাসুল-মহান আল্লাহর হাবীব । (আল মুযহির ফী উলুমিল লুগাহ ১/১৬৫)

সুতরাং যেহেতু এটা দিবালোকের মতই পরিষ্কার যে, ভাষা, সাহিত্য ও অলংকারের মানেও তাঁরা ছিলেন উন্নত মর্যাদার অধিকারী, তাই তাঁদের ভাষা-সাহিত্যে ত্রুটি ছিল বলে যে ব্যক্তি মন্তব্য করবে তার এজাতীয় মন্তব্য হয়ত নিরেট মূর্খতা কিংবা কুফরি এবং এমন ব্যক্তি নিঃসন্দেহে ফাসিক। আর ক্ষেত্রবিশেষ কাফিরও হতে পারে।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − 3 =