যে যুবক নিজে নিজে বিয়ে করতে চায়; তার প্রতি পরামর্শ

জিজ্ঞাসা–৯৪৭: আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসি। সেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু আমাদের বিয়ের বয়স হয় নি। আমরা ইসলামী নিয়মে বিবাহ করতে চাই। এখন আমরা কাজী অফিস এবং পরিবার ছাড়া ইসলাম অনুসারে কিভাবে বিবাহ করবো? উল্লেখ্য আমার বয়স ১৭ বছর। আমরা ইন্টারমিডিয়েটে পড়াশুনা করছি।–Rahat Hosen

জবাব:

এক প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, বিস্ময়কর ব্যাপার হল, তুমি এই বয়সেই প্রেমে জড়িয়ে পড়েছ! অথচ তোমার জানা উচিত যে, প্রেম ও ভালোবাসার নামে তোমরা যা করে যাচ্ছ, তা কবিরা গুনাহ। শয়তান এ জাতীয় প্রেমকে মাধ্যম বানিয়ে তোমাদেরকে ধীরে ধীরে ব্যভিচারের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।  কেননা, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

أَلاَ لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّكَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ

‘শুনে রাখ, কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সঙ্গে নিভৃতে একত্রিত না হয় অন্যথায় শয়তান অবশ্যই তৃতীয় জন হিসাবে হাযির থাকে।’ ((তিরমিযি ১১৭১)

আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হল, অভিভাবকে বাদ দিয়েই তোমরা গোপনে বিয়ে করে নিতে চাচ্ছ এবং এর জন্য আমাদের কাছে সুযোগ সৃষ্টিকারী ফতোয়া জানতে চেয়েছ! অথচ অভিভাবকশূন্য এমন অসামাজিক ও অমানবিক বিয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার অনুমতি তো আমরা তোমাকে দিতে পারি না। কেননা, এজাতীয় বিয়ে তোমাদের উভয়ের পারিবারিক মর্যাদা, সামাজিক অবস্থান, চরিত্রের পবিত্রতা ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিবে এবং এমন কিছু পরিণামের দুয়ার খুলে দিবে, যা পরবর্তীতে তোমাদের বৈবাহিক-জীবনে অশান্তির বড় কারণ হবে।

দেখো, আল্লাহ তাআলা বিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন অভিভাবকদের প্রতি। আল্লাহ তাআলা বলেন, وأَنْكِحوا الأيامى منكم ‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিত নারী-পুরুষদের বিবাহ দাও।’ (সূরা নুর ৩২)

সুতরাং তুমি কিভাবে প্রত্যাশা কর যে, আমরা তোমাকে ইজ্জত কলঙ্কিত করার অনুমতি দিব এবং বলব, ঠিক আছে গোপনে বিয়ে করে নাও; অসুবিধা নেই!

দুই–  যাহোক, এখন তোমার প্রতি আমাদের পরামর্শ হল,

১। গুনাহর পর গুনাহ আর নয়; বরং তাওবা কর এবং দীনদারির জীবন যাপনে ব্রতী হও। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلا تَقرَبُوا الزِّنى إِنَّهُ كانَ فاحِشَةً وَساءَ سَبيلًا

আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (সূরা ইসরা ৩২)

২। বিয়েটা শুধু নিছক বৈধভাবে যৌনচাহিদা পূরণের নাম নয়। বরং বিয়ে একটি দায়িত্ব-কর্তব্য, দুই পরিবারের মাঝে সম্পর্ক সৃষ্টির এক সোনালী বন্ধন, ভরণ-পোষণ বহনের মাধ্যমে নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্ব স্থাপন এবং অনাগত সন্তান প্রতিপালনের জন্য একজন সৎ ও দ্বীনদার পাত্রী নির্বাচন। আর তুমি যে মেয়েটির সঙ্গে প্রেম করছ, নিশ্চয় সে তোমারই মত দীনের তোয়াক্কা করে না। সুতরাং তোমার নিজের শান্তি ও তোমার অনাগত সন্তানের দীনদারির কথা চিন্তা করে উক্ত মেয়ের চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দাও এবং সুযোগ থাকলে অভিবাবকের মাধ্যমে দ্বীনদার মেয়ে দেখে অন্যত্র বিয়ে করে নাও। কেননা, রাসূলুল্লাহ   বলেছেন, فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاك ‘তুমি দ্বীনদার পাত্রী লাভ করে সফলকাম হও। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (বুখারী ৫০৯০)

৩। আর যদি অভিবাবকের মাধ্যমে বিয়ের সুযোগ তোমার এখন না থাকে তাহলে অধিকহারে নফল রোজা রাখতে পার। কেননা, রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ  বলেছেন,

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ منكُم الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

‘হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্য রাখ তাদের উচিত বিয়ে করে ফেলা। কেননা বিয়ে দৃষ্টি অবনতকারী ও লজ্জাস্থানকে হেফাযতকারী। আর যার সামর্থ্য নেই তার উচিত রোযা রাখা। কেননা রোযা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।’ (বুখারী ৫০৬৬)

৪। সর্বোপরি তোমাকে আল্লাহওয়ালাদের সোহবত-সংস্পর্শ গ্রহণ করার উপদেশ বিশেষভাবে দিচ্ছি। এতে নফস নিয়ন্ত্রণ করা এবং তওবার উপর অটল থাকা তোমার জন্য সহজ হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ

‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।’ (সূরা আত তাওবাহ ১১৯)

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, যদি তুমি এভাবে আমাদের পরামর্শগুলো মেনে ধৈর্য্য ধারণ করে চলতে পার তাহলে নিশ্চিত থেকো যে, আল্লাহ তোমাকে এমনভাবে পুষিয়ে দিবেন; যার কল্পনাও বান্দা করতে সক্ষম নয়।কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ

‘যারা ধৈর্য্য ধারণকারী, তারাই নিজেদের পুরস্কার পায় অগণিত।’ (সূরা যুমার ১০)

নিশ্চয় আল্লাহ তাওফিকদাতা।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী

ন্তব্য

  1. বর্তমান প্রজম্ম তথা যারা এখনো-২০ নিচে বা অভিবাবকের সাথে সম্পর্কের দূরত্ব রয়েছে, তাদের মাঝ সাধারনত অভিবাবকহীন বা গোপনে বিয়ের করার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
    আল্লাহ তায়ালা আমাদের যুবকদেরকে যিনা ও ব্যাভিচার থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন। (আমিন)

  2. يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ منكُم الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

মন্তব্য বন্ধ