শশুর পুত্রবধুকে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করলে…

জিজ্ঞাসা–৪৯২: শাইখ, শশুর ছেলের স্ত্রীকে কামভাব সহকারে কাপড়বিহীন স্থানে স্পর্শ করলে ছেলে স্ত্রীর জন্য হারাম হয়ে যাবে জানি কিন্তু এটার দলীল কী; তা একটু ভালোভাবে জানালে উপকৃত হব। কারণ  অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না।–মাইমুনা সিদ্দিকাহ।

জবাব: প্রিয় বোন, ফকিহদের পরিভাষায় এটাকে ‘হুরমাতে মুসাহারাত’ বলা হয়। তবে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করার ক্ষেত্রে হুরমত (হারাম) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত হল-

স্পর্শের সময় পুরুষ মহিলা যেকোন একজনের সহবাসের মনোভাব তথা উত্তেজনা জাগ্রত থাকতে হবে। এমনি স্বাভাবিকভাবে স্পর্শ করলে হুরমত সাব্যস্ত হবে না। অনুরূপভাবে স্পর্শ করার পর (স্পর্শের সময় নয়) উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে; এমন হলেও হবে না। বরং স্পর্শ করার সময় সহবাসের মনোভাব জাগ্রত থাকতে হবে। পুরুষের ক্ষেত্রে এর আলামত হল, পুরুষাঙ্গের নড়াচড়া সৃষ্টি হওয়া এবং তা শক্ত ও স্ফীত হয়া। আর যদি পূর্ব থেকেই এ অবস্থা থাকে তাহলে তা বৃদ্ধি পাওয়া। নারীর ক্ষেত্রে এর আলামত হল, হৃদকম্পন হওয়া। (আদ্দুররুল মুখতার ৪/১১৫)

আল্লামা ইবন নুজাইম রহ. বলেন,

والعبرة لوجود الشهوةعند اللمس والنظر حتى لو وجدا بغير شهوة ثم اشتهى بعد الترك لا تتعلق به حرمة

দৃষ্টিপাত ও স্পর্শের সময় কামভাব থাকলেই তা হুরমতের কারণ হবে। কামভাবহীন দৃষ্টিপাত ও স্পর্শের পর কামভাব আসলেও এর সাথে হুরমত যুক্ত হবে না। (আল বাহ্রুর রায়িক ৩/১৭৮)

২- শরীরের উষ্ণতা অনুভব হতে হবে। অর্থাৎকাপড়বিহীন বা এমন কাপড়ের উপর দিয়ে স্পর্শ করতে হবে, যা এতটাই পাতলা যে, শরীরের উষ্ণতা অনুভব হয়। যদি এমন মোটা কাপড় পরিধান করে থাকে যে, শরীরের উষ্ণতা অনুভূত না হয়, তাহলে হুরমত সাব্যস্ত হবে না।

আল্লামা ইবন নুজাইম রহ. বলেন,لابد أن يكون بغير حائل يمنع وصول الحرارة স্পর্শের ক্ষেত্রে উষ্ণতা প্রতিবন্ধক কোন বাধা বা আড়াল থাকতে পারবে না। (প্রাগুক্ত ৩/১৭৫)

বীর্যপাত না হতে হবে। যদি উত্তেজনা হওয়ার সাথে সাথেই বীর্যপাত হয়ে যায়, তাহলেও হুরমত সাব্যস্ত হবে না।

আল্লামা আলাউদ্দীন হাসকাফী রহ. বলেন,

هذا إذالم ينزل فلو أنزل مع مس أو نظر فلا حرمة به بفتى(فلا حرمة )لأنه بالإنزال تبين أنه غير مفض إلى الوطء هداية

হুরমত সাব্যস্ত হবে যদি বীর্যপাত না ঘটায়। আর না হয় দৃষ্টিপাত ও স্পর্শের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটিয়ে ফেললে হুরমত সাব্যস্ত হবে না। এর উপরই ফতওয়া। এর কারণ হল, বীর্যপাতের দ্বারা এটা স্থির হয়ে গেল যে, এই দৃষ্টি বা স্পর্শ সহবাসের দিকে ধাবিতকারী নয়। (আদ্দুররুল মুখতার ৪/১১৫-১১৬)

উপরোক্ত শর্তগুলো পাওয়া গেলে শশুর ছেলের স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ছেলেটির জন্য চিরতরের জন্য স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে। আর যদি কোন একটি শর্ত না পাওয়া যায়, তাহলে ছেলের জন্য তার স্ত্রী হারাম সাব্যস্ত হবে না।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − nine =