সম্মিলিত জিকির ও দোয়া প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা–১১:বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। অামি শুনেছি, একসাথে অনেক মানুষ জিকির করা ও দোয়া মুনাযাত করা জায়েজ নাই। এমন কি ঐতিহাসিক হাটহজারী মাদ্রাসার ফতোয়া বোর্ডও নাকি এই ফতোয়া দিয়েছেন! এবিষয়ে উওর পাইলে খুশি হব। ইনশা আললাহ!–মুহামমাদ অাল-অামীন

জবাব: মূলত আপনার জিজ্ঞাসার দু’টি অংশ। ১. সম্মিলিত জিকির জায়েয কিনা? ২.সম্মিলিত মুনাজাত জায়েয কিনা?

১.সম্মিলিত জিকির জায়েয কিনা? এর উত্তর হল, অধিকাংশ ফকিহ বলেন,  সম্মিলিত জিকির করা যাবে। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে-
এক: স্বর এত উচ্চ করা যাবেনা যাতে নিজের ও অন্যের কষ্ট হয়।
দুই: লৌকিকতামুক্ত হতে হবে। (এমদাদুল আহকাম খ:১,পৃ:৩২০)
তিন: জিকিরের স্বর উচ্চ করাকে ইবাদত মনে করা যাবে না। (ফয়যুল কালাম ১৩৯)

দলীল:আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
  قال رسول اللہ صلى الله عليه وسلم يقول الله انا عند ظن عبدى بى و انا معه اذا ذكرنى فان ذكرنى فى نفسه ذكرته فى نفسى وان ذكرنى فى ملاء ذكرته فى ملاء خير منهم وان تقرب الى شبرا تقربت اليه ذر اعا وان تقرب الى ذراعا تقربت اليه باعا وان اتانى يمشى اتينه هرولة

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা নিজেই ইরশাদ করেছেন, আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তার সাথে তেমন আচরণ করি এবং বান্দা যখন আমার জিকির করে আমি তার সঙ্গী হই। যদি সে একাকি জিকির করে আমিও তাকে একাকি স্মরণ করি। যদি সে জামাতে সম্মিলিতভাবে জিকির করে, আমিও তাকে তার চেয়ে উত্তম জামাতে স্মরণ করি। যদি বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তাহলে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। যদি সে আমার দিকে হেটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (সহীহ বুখারী ৮/৫২৮ সহীহ মুসলিম ৪/২০৬)
ইমাম সুয়ূতী রহ. বলেন, মজলিসে আল্লাহর জিকির সাধারণত একটু উচ্চ আওয়াজ ব্যতিত হয়না। (সিবাহাতুল ফিকির ৪৫)
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, শর্তসাপেক্ষে  বিশেষ করে অন্যদের শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে জিকির করা যাবে।
২.সম্মিলিত মুনাজাত জায়েয কিনা?
এটাকেও অধিকাংশ ফকিহ জায়েয মনে করেন।

দলীল: হযরত সালমান রা. থেকে বর্ণিত,

قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم: ما رفع قوم اکفھم الی اللہ عز و جل یسئلونہ شیئا الا کان حقا علی اللہ ان یضع فی ایدیھم الذی سئلوا۔

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিছু মানুষ হাত উঠিয়ে আল্লাহর কাছে কোন কিছু দোয়া করে তখন অবশ্যই আল্লাহ তাদের প্রার্থিত বিষয় দান করেন। (মাজমাউয যাওয়াইদ  ১০/১৬৯)                                                        এ হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, কিছু মানুষ যখন আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করেন তখন তা কবূল হওয়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে।

দুঃখের বিষয় হল, সম্মিলিত দোয়া ও জিকির সম্পর্কে আমাদের সমাজে দু’ধরণের প্রান্তিকতা রয়েছে। কেউ একে একেবারে জরুরি মনে করেন। আর কেউ একে নাজায়েয ও বেদআত বলেন। অথচ উভয় ধারণাই ভুল। প্রকৃত সত্য হল, এটা কেবল জায়েয; জরুরি নয়, বেদআতও নয়। সুতরাং বাড়াবাড়ি একেবারে অনুচিত। তবে যে কোন দোয়া ও জিকির নিন্মস্বরে করা উত্তম।

উল্লেখ্য, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর ফতওয়া আমি পাই নি, তবে দারুল উলুমের একজন তালিবে ইলম হিসাবে বলছি যে, আমি যেভাবে বলেছি, আশা করি, দারুল উলুমের ফতওয়া এর ব্যতিক্রম হবে না–ইনশাআল্লাহ।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 3 =