হানাফী-নামায কি নবীজীর নামায নয়?

জিজ্ঞাসা–১১৬ : আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর, কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে নামায পড়তে দেখে বলল যে, আমার নামায নাকি সঠিক না! আমি হানাফি-মাযহাব অনুসরণ করি। আর সে বলছে যে, সে নাকি নবীজির মত নামায পড়ে। কারণ, তার নামায নাকি সহিহ হাদিসের সাথে মিলে। তারপর সে আমাকে তার মত নামায পরা শুরু করতে অনুরোধ করল এবং তার নামায পড়ার ধরণের দলিল দিল। ১।সে আমাকে বুকে হাত রেখে নামায পড়তে বলল (আবু-দাউদ, বই-০০৩, হাদিস নম্বর ০৭৫৮; ইবনে খুযায়মাতে, হাদীস:৪৭৯; বায়হাকী হাদীস: ২৩৩৫ আর ২৩৩৭) ২। ইমাম সূরা ফাতিহা শেষ করার পর জোরে আমীন বলতে বলল (আবু-দাউদ, বই-০০৩, হাদিস নম্বর ০৯৩২; সুনান তিরমিযী ভলিউম ১, বুক ২, হাদীস ২৪৮) ৩। রুকুতে যাবার সময় আর রুকু থেকে ফিরার সময় হাত উঠাতে বলল (সহীহ বুখারী, ভলিউম ১, বই ১২,হাদীস ৭০৬) ৪। শেষ রাকাতে বাম পা সামনে দিয়ে বসতে বলল। (সহীহ বুখারী, ভলিউম ১, বই ১২, হাদীস ৭৯১)এছাড়া সে আরও কিছু পরিবর্তন আমার নামাযে আনতে বলেছিল। তার মূল কথা হল, কোনো ইমাম ভুল বলেননি, শুধু তাঁদের থাকাকালীন অবস্থায় সব হাদীস একত্র হয়নি। তাই আমাদের নাকি কোন মাযহাব না মেনে কুরআন ও সহিহ হাদিস মেনে চলা উচিত। এ ছাড়া চার ইমাম-ই নাকি বলে গিয়েছেন তাদের কথা কুরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে মিলে না গেলে তাদের কথা ফেলে দিতে। সে মুলতঃ এই সব কিছু একটি লেকচারে শুনেছে এবং তার কাছে এই সব কিছু যৌক্তিক লেগেছে। হুজুর, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার এইসব ব্যাপারে কোন ধারণা নেই। তাই আমি আপনাকে সব খুলে বললাম। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। আমি কি আমার নামাযের ধরণ বদলাব? নাকি আমি যেভাবে পড়ছি ওভাবেই পড়ব? আর যদি ওর কথা ভুল হয় তাহলে উপরের হাদীসগুলোর ব্যাপারে কী বলব? আপনার জবাবের অপেক্ষা করছি।— Tanveer Ahmed: [email protected]

জবাব: ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।

নবীজীর নামায : মৌলিক কিছু কথা

এক. সকল ইবাদতেরই একমাত্র মূল সূত্র হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি যে ইবাদত যে পদ্ধতিতে শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁর সে নিয়ম-পদ্ধতি অনুসরণ না করার সন্দেহাতীত ফলাফল হল, তা পরিত্যজ্য। নামাযের বিষয়টাও এর ব্যতিক্রম নয়। একারণেই তিনি বলেছেন- صلوا كما رأيتموني أصلي ‘তোমরা সেভাবেই নামায আদায় কর যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখ।’

নবীজীর একথার প্রথম ও সরাসরি সম্বোধিত-ব্যাক্তি হিসাবে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা হলেন সাহাবায়েকেরাম। নবীজী তাদেরকে মৌখিকভাবেও শিখিয়েছেন এবং নিয়মিত তাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করেছেন। এরপর সাহাবায়ে কেরাম থেকে তাবেয়ীন, তাবেয়ীন থেকে তাবে তাবেয়ীন, এভাবে প্রত্যেক উত্তর প্রজন্ম  পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছে যা নবীজী সাহাবায়েকেরামকে শিখিয়েছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে- ইনশাআল্লাহ।

দুই. صلوا كما رأيتموني أصلي ‘তোমরা সেভাবেই নামায আদায় কর যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখ।’ নবীজীর একথার প্রথম সম্বোধিত-ব্যাক্তি যাঁরা অথাৎ সাহাবায়েকেরাম তাঁরা সকলেই যে সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন—এমন নয়। বরং কিছু  সাহাবী এমনও ছিলেন, যাঁরা ইসলামগ্রহণের পর এক দুই বার মদীনায় নবীজীর কাছে এসেছেন এবং কিছুদিন অবস্থান করে নিজ এলাকায় ফিরে গিয়েছেন। আবার মদীনার সাহাবীরাও সবাই নবীজীর সমান সাহচর্য পেয়েছেন-এমন নয়। কিছু সাহাবী সার্বক্ষণিক সাহচর্য লাভ করেছেন। তাঁরা খুব কমই অনুপস্থিত থাকতেন। এঁদের মধ্যে প্রবীণ সাহাবীগণ যাঁদেরকে ‘সাবিকীনে আওয়ালীন’ ও বদরী মুজাহিদীনের মধ্যে গণ্য করা হয় তাঁরা ছিলেন নবীজীর সবিশেষ আস্থার পাত্র। সাধারণত তাঁরাই নবীজীর পিছনে প্রথম কাতারে নামায আদায় করতেন। স্বয়ং নবীজীর নির্দেশও ছিল- ليلني منكم أولوا الأحلام والنهى ‘তোমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার অধিকারী তাঁরা আমার নিকটে দাঁড়াবে।’ এ নির্দেশ অনুযায়ী এঁরা নামাযে নবীজীর নিকটে দাঁড়াতেন।

এই বিশিষ্ট সাহাবীদের মধ্যে খোলাফায়ে রাশেদীন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদসহ আরো অনেকে শামিল ছিলেন। এখানে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি সফরে-হযরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম ছিলেন। হাদীস ও তারীখে তাঁর উপাধী ‘ছাহিবুল না’লাইন ওয়াল বিসাদ ওয়াল মিতহারা’ অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাদুকা, তাকিয়া ও অযুর পাত্র-বহনকারী। (সহীহ বুখারী ৩৯৬১)

হযরত আবু মূসা আশআরী রা. বলেন, আমরা অনেক দিন পর্যন্ত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও তার মাতাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘আহলে বাইত’ (পরিবারের সদস্য) মনে করতাম। কেননা নবীজীর গৃহে তাদের আসা-যাওয়া ছিল খুব বেশি। (সহীহ বুখারী  ৩৭৬৯, ৪৩৮৪)

তিন. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর যখন ইসলামী খেলাফতের পরিধি বিস্তৃত হতে লাগল এবং নতুন নতুন অঞ্চল বিজিত হল তখন সাহাবায়ে কেরাম দ্বীন ও ঈমানের তালীমের জন্য দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়লেন। খলীফায়ে রাশেদ হযরত উমর ফারূক রা. বড় বড় সাহাবীকে সাধারণত মদীনার বাইরে যেতে দিতেন না। তবে কাদেসিয়্যা (ইরাক) জয়ের পর যখন কুফা নগরীর গোড়াপত্তন হল তখন সে অঞ্চলে দ্বীন ও শরীয়ত এবং কুরআন ও সুন্নাহর তা’লীমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.কে পাঠালেন। তিনি কূফাবাসীকে পত্র লিখলেন যে, আমি আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে (রা.) তোমাদের আমীর হিসেবে এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে (রা.) উযীর ও মুয়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করছি। এঁরা দুজনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনীষী সাহাবীদের অন্যতম এবং বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। তোমরা তাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং তাদের অনুসরণ করবে। মনে রাখবে, আবদুল্লাহকে আমার নিজের প্রয়োজন ছিল কিন্তু আমি তোমাদের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য তাকে পছন্দ করেছি। (আততবাকাতুল কুবরা, ইবনে সা’দ, ৬/৩৬৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা ১/৪৮৬)

এই দুই ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কুফাতেই আরো পনেরো শ’ সাহাবী অবস্থান করছিলেন। যাঁদের মধ্যে সত্তর জন ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা., সায়ীদ ইবনে যায়েদ রা., হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রা., সালমান ফারেসী রা., আবু মূসা আশআরী রা., প্রমুখ বিখ্যাত সাহাবী সবাই কূফাতেই ছিলেন। হাদীস ও তারীখের ইমাম আবুল হাসান ইজলী রাহ. ‘তারীখ’ গ্রন্থে লিখেছেন যে, কুফাতে দেড় হাজার সাহাবী এসে বসতি স্থাপন করেন। (ফতহুল কাদীর ইবনুল হুমাম ১/ ৯১)

খলীফায়ে রাশেদ হযরত আলী ইবনে আবী তালেব রা. তো একে তাঁর দারুল খিলাফা বানিয়েছিলেন।

কূফায় অবস্থানকারী সাহাবীদের নিকট থেকে কূফার অধিবাসীরা দ্বীন ও ঈমান গ্রহণ করেছেন। কুরআন ও হাদীসের ইলম অর্জন করেছেন। নামায, রোযা, হজ্ব-যাকাত ইত্যাদি সকল ইবাদতের নিয়ম-কানূন শিক্ষা লাভ করেছেন। কূফার অধিবাসীরা হজ্ব-ওমরা ও যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদীনায় যেতেন এবং সেখানকার সাহাবীদের নিকট থেকেও ইলম অর্জন করতেন। লক্ষ করার বিষয় এই যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ও অন্যান্য সাহাবী যেভাবে কূফাবাসীকে নামায পড়তে শিখিয়েছেন তাঁরা মক্কা-মদীনায় গিয়েও সেভাবেই নামায পড়তেন, কিন্তু খলীফা হযরত উমর রা. থেকে নিয়ে হারামাইনের কোনো সাহাবী বা কোনো তাবেয়ী তাদের নামাযকে নবীজীর নামাযের খেলাফ বলেছেন-এমন একটি দৃষ্টান্তও ইতিহাস থেকে দেখানো যাবে না।

হানাফী-নামায কি নবীজীর নামায নয়?

এই কূফানগরীতে ইমাম আবু হানীফা রাহ. জন্ম গ্রহণ করেন ৮০ হিজরীতে এবং সেখানেই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হন। সে সময় ইসলামী বিশ্বে অনেক সাহাবী জীবিত ছিলেন। কূফাতেও কয়েকজন সাহাবী ছিলেন। আর এটা প্রমাণিত  যে, আবু হানীফা রাহ. একাধিক সাহাবীর সাক্ষাত এবং তাদের থেকে রেওয়ায়েতের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। এজন্য আবু হানীফা রাহ. তাবেয়ীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এমন অনেক মনীষী এর স্বীকৃতি দিয়েছেন যাদের ফিকহী-মাসলাক হানাফী নয়। এছাড়া ইমাম ছাহেব বিপুল সংখ্যক তাবেয়ী-মনীষীর সাহচর্য পেয়েছিলেন যাঁরা অসংখ্য সাহাবী কিংবা তাদের সমসাময়িক প্রবীণ তাবেয়ীদের সাহচর্য পেয়েছিলেন। এজন্য একথা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, ‘আমলে মুতাওয়ারাছ’ অর্থাৎ কর্মগত ধারায় চলে আসা নবী-নামাযকে যতটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ তাঁর হয়েছিল ততটা হাদীস ও ফিকহের অন্য ইমামদের হয়নি। কেননা, তাঁরা সবাই তার পরের যুগের ছিলেন। (ইমাম ইবনু মাজাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনান ৫০-৫৭ ও ৬৭-৭১; ফিকহু আহলিল ইরাক ওয়া হাদীছুহুম ৫১-৫৫; ইবনে মাজা আওর ইলমে হাদীস ৩৬-৪৩ ও ১১৬-১১৯; আততা‘আমুল)

সুতরাং প্রশ্নকারী ভাই, আশা করি বুঝেছেন, যারা বলে হানাফী-নামায নবীজীর নামায নয়; তাদের দাবী কতটা অসার ও ভিত্তিহীন! কেননা, যদি তাদের দাবী সত্য হয় তাহলে প্রশ্ন আসে, তবে কি ইরাকে অবস্থানকারী দেড় হাজারেরও অধিক সাহাবীর নামায  নবীজীর নামায ছিল না? এই উপমহাদেশে যে সকল দায়ী ইলাল্লাহ, মুজাহিদীন, মুয়াল্লিমীন ও আওলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে ইসলামের ব্যাপক প্রচার হয়েছে তারা ফিকহে হানাফী অনুযায়ী নামায আদায় করতেন, তাদের নামাযও কি সুন্নাহ-বিরোধী  ছিল? এই প্রশ্ন আসে এজন্য যে, কেননা এই অঞ্চলে নামাযের ওই পদ্ধতি প্রচলিত হয়েছে যা ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর ফকীহ ও মুহাদ্দিস শাগরিদগণ ফিকহের গ্রন্থাদিতে সংকলন করেছেন, যার ভিত্তি হল কুরআন ও সুন্নাহ, এপর হাদীস ও আছার এবং যার ভিত্তি হল ওই ‘আমলে মুতাওয়ারাছ’ ব্যাপক কর্মধারা, যা ইরাকে অবস্থানকারী দেড় হাজারেরও অধিক সাহাবায়ে কেরামের সূত্রে তাঁদের কাছে পৌঁছেছিল।

প্রশ্নেল্লেখিত কয়েকটি হাদীস : মৌলিক জবাব

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, এবার আসা যাক প্রশ্নেল্লেখিত হাদীসগুলো প্রসঙ্গে। এই বিষয়ে উল্লেখিত হাদীসগুলোর গ্রহনযোগ্যতা,তথ্যসূত্র,মান ইত্যাদি সম্পর্কে পর্যালোচনা না করে মৌলিক জবাব দেয়াটাই সমীচীন মনে করছি। তাহল; নামায প্রসঙ্গে হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থ যাদের খোলার অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারা অবশ্যই জানেন যে, অনেক বিষয়েই হাদীস শরীফে বাহ্যত বিরোধ পরিলক্ষিত হয়। অথচ হাদীসের উৎস হল ওহী আর ওহীর ইলমের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শিক্ষায় স্ববিরোধিতা থাকা একেবারেই অসম্ভব। অতএব প্রকৃত বিষয়টা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার।

দেখা যায়, এক রেওয়ায়েতে আমীন আস্তে বলার কথা আছে, আবার কোথাও জোরে বলার কথা আছে। কোথাও তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া অন্য কোথাও রাফয়ে ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তোলন) না-করার কথা আছে তো অপর হাদীসে আরো দুই স্থানে তা করার কথা এসেছে। কোনো কোনো হাদীসেএসেছে আরো অধিক স্থানে করার কথা। অনুরূপভাবে হাত বাঁধার হাদীসগুলোতেও রয়েছে কিছু বাহ্যিক বিরোধ ও বৈচিত্র্য।

তো প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে যারা ওয়াকিফহাল নন তারা কখনও কখনও দিশেহারা বোধ করে থাকেন। আর এটাই স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞরা জানেন যে, এখানে বাহ্যত যে বিরোধগুলো দেখা যাচ্ছে তা এজন্য সৃষ্টি হয়নি যে, -নাউযুবিল্লাহ-ওহীর শিক্ষাতেই কোনো বৈপরিত্য ও স্ববিরোধিতা রয়েছে। কিংবা রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে স্ববিরোধী নির্দেশনা দিয়েছেন! না, কক্ষনও না। বরং ওই বাহ্যিক বিরোধগুলোর প্রকৃত পরিচয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই :

১. সুন্নাহর বিভিন্নতা। অর্থাৎ অনেক বিষয়ে একাধিক মাসনূন তরীকা রয়েছে। এই হাদীসে যে পন্থাটা এসেছে সেটাও মাসনূন এবং অন্য হাদীসে যা এসেছে তা-ও মাসনূন। যেমন ছানাতে ‘সুবহানাকা …’ পড়াও সুন্নাহ, আবার ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী ওয়াজজাহতু …’ পড়াও সুন্নাহ। কুনূতে ‘আল্লাহুম্মাহ্দিনী …’ পড়াও সুন্নাহ আবার ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা …’ পড়াও সুন্নাহ।

২. বহু বিরোধ এমন রয়েছে যেখানে দুটো বিষয়ই হাদীস কিংবা কোনো শরয়ী দলীলের দ্বারা প্রমাণিত। অর্থাৎ দুটোরই উৎস সুন্নাহ, কিন্তু বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে কোনো ফকীহ  তাদের একটিকে উত্তম ও অগ্রগণ্য মনে করেন আর অন্যটিকে মনে করেন বৈধ ও অনুমোদিত। আবার অন্য ফকীহ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। এটাও মূলত ‘সুন্নাহর বিভিন্নতা’রই অন্তর্ভুক্ত। আস্তে কিংবা জোরে আমীন (আপনার প্রশ্নেল্লেখিত যার সিরিয়াল নং-২), রাফয়ে ইয়াদাইন (আপনার প্রশ্নেল্লেখিত যার সিরিয়াল নং-৩)  ইত্যাদি বিষয়গুলো এই শ্রেণীর।

৩. কিছু দৃষ্টান্ত এমনও রয়েছে যে, প্রথমে একটা বিষয় ‘মাসনূন’ বা ‘মুবাহ’ ছিল পরে তা মানসূখ (রহিত) হয়ে যায়। এর স্থলে অন্য একটি পদ্ধতি প্রদান করা হয় আর প্রথম পদ্ধতি পরিত্যাগ করা হয় বা সেটা ‘মাসনূনে’র পর্যায় থেকে ‘মুবাহ’ বা ‘বৈধতা’র পর্যায়ে নেমে আসে। পরিভাষায় একে নাসিখ-মানসূখ বলে। যেমন ইসলামের প্রথম যুগে নামাযে সালামের জওয়াব দেওয়া যেত। এটা  বৈধ ছিল। তখন প্রয়োজনীয় কথা বলারও অবকাশ ছিল। কিন্তু পরে তা মানসূখ হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-إن الله يحدث من أمره ما شاء، وإن مما أحدث أن لا نكلوا في الصلاة.(সহীহ বুখারী : তাওহীদ, পরিচ্ছেদ : ৪২; সুনানে আবু দাউদ ৯২০)

৪. কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে একটি পদ্ধতি হল সুন্নাহ আর অন্যটি করা হয়েছিল ওজরবশত। কিন্তু কেউ কেউ একেও সুন্নাহ মনে করলেন। যেমন শেষ বৈঠকে বসার একটি মাসনূন পদ্ধতি রয়েছে যা কারো অজানা নয়। আরেকটি পদ্ধতি হল (আপনার প্রশ্নেল্লেখিত যার সিরিয়াল নং-৪) যেটা মহিলাদের জন্য মাসনূন। কোনো কোনো বর্ণনায় চারজানু হয়েও বসার কথা এসেছে। কিন্তু প্রাসঙ্গিক সকল হাদীস সামনে রাখলে এবং নামাযের পদ্ধতি প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রীতি ও ধারা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলে বোঝা যায় যে, পুরুষের জন্য ওই প্রসিদ্ধ পদ্ধতিটাই মাসনূন তরীকা। অন্য পদ্ধতিগুলোও কখনো কখনো অনুসরণ করা হয়েছিল ওজরবশত কিংবা শুধু বৈধতা বোঝানোর জন্য।

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, এবার চিন্তা করুন : এই বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রকৃত অবস্থা উদঘাটন করা যে, কোনটা সুন্নাহর বিভিন্নতা আর কোনটা উত্তম-অনুত্তমের পার্থক্য আর কোথায় সুন্নাহ বনাম ওজরের প্রসঙ্গ-এইসব বিষয়ে সমাধান কারা দিতে পারেন? কোনো সন্দেহ নেই যে, এটা ফিকহে ইসলামী ও ফুকাহায়ে উম্মতেরই কাজ। এজন্যই হাদীস মোতাবেক নামায পড়ার জন্য ফুকাহায়ে উম্মতের ওই নির্দেশনা গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই।

এ ধরনের বিষয়ে উম্মাহর যে নীতি ‘খাইরুল কুরূন’ তথা সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন-এর যুগ থেকে অনুসৃত তা সংক্ষেপে এই :

যে অঞ্চলে যে সুন্নাহ প্রচলিত সেখানে তা-ই চলতে দেওয়া উচিত। এর উপর আপত্তি করা ভুল। কেননা আপত্তি ওই বিষয়ে করা হয়, যা বিদআত বা সুন্নাহর পরিপন্থী। কিন্তু এক সুন্নাহর উপর এজন্য আপত্তি করা যায় না যে, এটা আরেক সুন্নাহ মোতাবেক নয়।

এ প্রসঙ্গে ইসমাঈল শহীদ রাহ.-এর ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য। তিনি একবার রুকু ইত্যাদিতে ‘রাফয়ে ইয়াদাইন’ করতে আরম্ভ করেছিলেন। অথচ সে সময় গোটা ভারতবর্ষের সর্বত্র (ক্ষুদ্র কিছু অঞ্চল ব্যতিক্রম ছিল, যেখানে ফিকহে শাফেয়ী অনুযায়ী আমল হত) নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোনো স্থানে রাফয়ে ইয়াদাইন না-করার সুন্নতটি প্রচলিত ছিল। শাহ শহীদ রাহ.-এর বক্তব্য এই ছিল যে, মৃত সুন্নত জীবিত করার ছওয়াব অনেক বেশি। হাদীস শরীফে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে- من تمسك بسنتي عند فساد أمتي فله أجر مئة شهيد ‘উম্মতের ফাসাদের মুহূর্তে যে আমার সুন্নাহকে ধারণ করে সে একশত শহীদের মর্যাদা পাবে।’

তখন তাঁর চাচা হযরত মাওলানা আবদুল কাদের দেহলবী রাহ. (শাহ ওয়ালিউল্লাহ রাহ.-এর পুত্র, তাফসীরে মূযিহুল কুরআন-এর রচয়িতা) তার এই ধারণা সংশোধন করে দেন। তিনি বলেন, ‘‘মৃত সুন্নাহকে জীবিত করার ফযীলত যে হাদীসে এসেছে সেখানে বলা হয়েছে যে, উম্মাহর ফাসাদের যুগে যে ব্যক্তি সুন্নাহকে ধারণ করে তার জন্য এই ফযীলত। আর একথা বলাই বাহুল্য যে, কোনো বিষয়ে যদি দু’টো পদ্ধতি থাকে এবং দু’টোই মাসনূন (সুন্নাহভিত্তিক) হয় তাহলে এদের কোনো একটিকেও ‘ফাসাদ’ বলা যায় না। সুন্নাহর বিপরীতে শিরক ও বিদআত হল ফাসাদ,কিন্তু দ্বিতীয় সুন্নাহ কখনও ফাসাদ নয়। কেননা, দু’টোই সুন্নাহ। অতএব রাফয়ে ইয়াদাইন না-করাও যখন সুন্নাহ, তো কোথাও এ সুন্নাহ অনুযায়ী আমল হতে থাকলে সেখানে রাফয়ে ইয়াদাইনের সুন্নাহ ‘জীবিত’ করে উপরোক্ত ছওয়াবের আশা করা ভুল। এটা ওই হাদীসের ভুল প্রয়োগ। কেননা এতে পরোক্ষভাবে দ্বিতীয় সুন্নাহকে ফাসাদ বলা হয়, যা কোনো মতেই সঠিক নয়।’(মালফূযাতে হাকীমুল উম্মত  ১/৫৪০-৫৪১, মালফুয :১১১২ )

সালাফের উক্ত নীতির কারণেই উলামায়ে কেরাম এসব অঞ্চলে অন্য কোনো পন্থা প্রচার করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কিন্তু কিছু অপরিণামদর্শী মানুষ, দ্বীনের সাধারণ রুচি ও মেযাজের সঙ্গে যাদের পরিচয় ছিল না,  তারা এই সূক্ষ্ম বিষয়টা অনুধাবন করতে পারেননি। তাই তারা এক মাসনূন তরীকাকে অন্য মাসনূন তরীকার দ্বারা, এক মুবাহ তরীকাকে অন্য মুবাহ তরীকার দ্বারা এবং এক মুজতাহাদ ফীহ মতকে অন্য মুজতাহাদ ফীহ মতের  দ্বারা খন্ডন করার মধ্যে ছওয়াব অন্বেষণ করেছেন। তদ্রূপ অন্য মতটিকে (যার ভিত্তিও  দলীলের উপর) বাতিল বলে দেওয়াকে ছওয়াবের কাজ বলে মনে করেছেন। ফলে বিবাদ-বিসংবাদের সূত্রপাত হয়েছে যা নিশ্চিতভাবে হারাম। আর ইংরেজ শাসক গোষ্ঠী এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে, যার বিষফল আজও মুসলমানদেরকে ভুগতে হচ্ছে। অথচ আমরা এ থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করিনি।

এরা ফেতনাবাজ

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, ব্যক্তি ও সমাজের সংস্কার-সংশোধনের জন্য করণীয় বিষয় ছিল বেনামাযীদেরকে উৎসাহ দিয়ে নামাযী বানানো এবং অজ্ঞতা বা উদাসীনতার কারণে যারা এমন সব ভুল করেন যার কারণে নামায মাকরূহ বা খেলাফে সুন্নত হয়ে যায় বরং কখনও কখনও ওয়াজিব পর্যন্ত ছুটে যায় এমন লোকদের সংশোধনের চেষ্টা করা। আমাদের পূর্বসূরীরা এদিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের ওই বন্ধুদের চিন্তা ও মনোযোগের সিংহভাগ ব্যয় হয় নামাযীদেরকে বিরক্ত করার কাজে। দোয়া করি, আপনি এদের কথায় যেন ভড়কে না যান।

মনে রাখবেন, এরা রফয়ে ইয়াদাইন,জোরে আমীন, বুকে হাত বাঁধা ইত্যাদি এজন্য আরম্ভ করেনি যে, এগুলোও মাসনূন বা  মোবাহ; বরং তারা মনে করে যে, এটাই সুন্নাহ এবং বাকি সব সুন্নাহর পরিপন্থী। এমনকি তারা এই ধারণাও পোষণ করেন যে, নাউযুবিল্লাহ, মুজতাহিদ ইমামরা হাদীস জানতেন না এবং এ অঞ্চলের আলিমরা হয়তো কুরআন-হাদীসের কোনো জ্ঞান রাখে না কিংবা মাযহাবকে হাদীসের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে!

দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত বন্ধুরাই এই সব ভ্রান্ত ধারণা গ্রহণ এবং এই ভুল পথ অবলম্বনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী। হাদীসের দু’চারটি কিতাবের অনুবাদ পড়ে তারা ভাবতে থাকে যে, তারা হাদীস ও সুন্নাহর সুপন্ডিত হয়ে গেছেন। অতএব গবেষণার যোগ্যতাও তাদের অর্জিত হয়েছে এবং অন্যদেরকে অজ্ঞ ও জাহিল আখ্যা দেওয়ারও অধিকার তারা অর্জন করেছে। তারা যদি শুধু এটুকুও চিন্তা করত যে, আমি সম্পূর্ণরূপে অনুবাদের উপর নির্ভর করছি। আমার তো এটুকুও বোঝার যোগ্যতা নেই যে, এই অনুবাদটা যিনি করেছেন তিনি কি সঠিক করেছেন না ভুল করেছেন। আর যেসব কিতাবের অনুবাদ হয়নি সেসব কিতাবের হাদীস সম্পর্কে আমার কীইবা জানা আছে। অনুদিত গ্রন্থগুলোও কি আদ্যোপান্ত পড়ে ফেলেছি? এক বিষয়ের সকল তথ্য কি সংগ্রহ করেছি? সংগ্রহ করলেও শুধু সেগুলোর তরজমা জানাই কি সঠিক বিষয় অনুধাবন ও আমলের জন্য যথেষ্ট?

এদের প্রতি অামার অভিযোগ

এই ব্যক্তিদের প্রতি আমার অভিযোগ এই যে, এই অসম্পূর্ণ জানার উপর ভিত্তি করে আপনারা ‘সিদ্ধান্ত’ দেন কীভাবে? তদ্রূপ ‘তাকলীদী ইলম’ অর্থাৎ যে জ্ঞানের ক্ষেত্রে আপনি সম্পূর্ণরূপে অন্যের উপর নির্ভরশীল তার ভিত্তিতে গবেষণাসুলভ বা মুজতাহিদসুলভ সিদ্ধান্ত দেন কীভাবে? আপনি এত অসংখ্য উলামা-মাশায়েখের বিপরীতে এক নতুন দাওয়াতে এত সহজে সাড়া দিয়ে দিলেন, তাদের প্রতি আপনার এত আস্থা তাহলে আজ পর্যন্ত যাদের কাছ থেকে আপনি দ্বীন শিখেছেন, কিংবা যাদেরকে দেখে আপনি নামায শিখেছেন তাদের প্রতিই বা এত মন্দ ধারণা কেন? তাদের মধ্যে কি এটুকু ঈমানী জযবাও নেই যতটুকু আপনার মধ্যে আছে? এতটুকুও নবীপ্রেম নেই যতটুকু আপনার মনে আছে?! আপনি কি কখনও তাদের কাছে নামাযের পদ্ধতি সম্পর্কে কুরআন-হাদীসের দলীল জানার চেষ্টা করেছেন, যাকে আপনি ভুল ঘোষণা দিচ্ছেন?

এই ভাইদের কাছে আমার শেষ কথা এই যে, আপনি যে প্রথম পদ্ধতিটা পরিত্যাগ করেছেন কেন পরিত্যাগ করেছেন? সেটা কি ভুল ছিল? ভুল হওয়ার দলীল কী? কিংবা উভয়টাই সঠিক? তাহলে একটা ছেড়ে অন্যটা ধরার কী অর্থ? কিংবা একটির তুলনায় অন্যটি কি অগ্রগণ্য? প্রশ্ন হল, কীসের ভিত্তিতে আপনি এটা চিহ্নিত করলেন?

আপনাদের প্রতি পরামর্শ

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, যদি আপনাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে উলামা-মাশায়েখের আমলের বিপরীত কোনো দাওয়াত পৌঁছে তাহলে তাদের জন্য যা করণীয় তা এই যে, তারা পরিষ্কার বলে দিবেন যে, ভাই, আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের নিজেদের পক্ষে গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব নয়, তোমাদের কথা যদি মানতে হয় তাহলে তোমাদের উপরই নির্ভর করে মানতে হবে, সেক্ষেত্রে ওলামা-মাশায়েখের কথার উপর নির্ভর করতে অসুবিধা কী?

আর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল, আপনি তাকে হিকমতের সঙ্গে কোনো বিশেষজ্ঞ আলিমের কাছে নিয়ে যাবেন, যার হাদীস ও সীরাতের কিতাবসমূহের উপর এবং ফিকহে মুদাল্লাল ও ফিকহে মুকারানের কিতাবসমূহের উপর দৃষ্টি রয়েছে। ইনশাআল্লাহ সকল ভুল ধারণার অবসান ঘটবে এবং কটুকথা, নিন্দা-সমালোচনার ধারাও বন্ধ হয়ে যাবে। সমস্যা এই যে, আমাদের এই বন্ধুরা শুধু সাধারণ মানুষকেই ‘হেদায়েত’ করে থাকেন, আলিমদের কাছে যান না। এটা তো ঠিক না। আলিমদের কাছেই তো আগে যাওয়া উচিত। কেননা, তাদেরকেই তো ‘হেদায়েত’ করার প্রয়োজন বেশি। তারা হেদায়েত পেলে গোটা জাতির হেদায়েতের সম্ভাবনা!

কথা দীর্ঘ হয়ে গেল। কিন্তু কী করা!

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

ন্তব্য

  1. 1.রব্বানা লাকাল হামদ বলার পর কেও যদি এ দোয়া পারে তা হলে বলবে *হামদান কাছিরন তইয়িবান মুবারাকান ফিহ।
    অথ্র:অফুরন্ত প্রশংসা, পবিত্রিতা আল্লাহু জন্যে তিনি বরকতময় করেছেন এ নামাযকে।

    2.দুই সিজদাহের মধ্যব্রতী তে কেও যদি পারে এ দোয়া করবে।
    *আল্লহুম্মাগফিরলী ওয়ার হামনী,ওয়াহদিনী,ওয়া ফিনী, ওয়ার ঝুকিনী
    অথ্র: হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করো, রহম করো, আমাকে হিদায়েত দান করো,আমাকে করুনা করো এবং আমাকে রিজিক দান করো।।।
    Will we do above two things for Sunnat & Faroz namaz?

    • আসসালামু আলাইকুম
      সরাসরি যদি ওয়াটস অ্যাপে শেয়ার করা যেত তাহলে অনেককেই দেখাতে পারতাম।

  2. আসসালামু- আলাইকুম মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী ভাই।আপনার জবাব পড়ে অনেক ভাল লাগলো। আমিও একই confusion এ পড়েছি। আপনার উত্তরের অর্থ হলো প্রত্যেক মাযহাবই সঠিক। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো এখন প্রসিদ্ধ যে চারটি মাযহাব প্রচলিত আছে, সেখানে কিছু কিছু নিয়ম চার রকম এটা কেন? আর একটি প্রশ্ন হলো চারজন মাযহাবেরই ইমাম বলেছেন “যদি দেখ আমার কোন ফতুয়া আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের বিরুদ্ধে যাচ্ছে তাহলে তা দেয়ালে ছুড়ে মার অর্থাৎ পরিত্যাগ কর “।তাহলে তাদের কোন সংশয় ছিল বিধায় তারা এ কথা বলে গেছেন নিশ্চয়? আর এখনকার সময়ের একজন বিঙ্গ বলতে জাকির নায়েক কে বলাটা নিশ্চয় ভুল হবেনা? এবং তিনিও কিন্তু এই হাত বাধা, হাত তুলে রুকুতে যাওয়া ইত্যাদির নিয়ম ইমাম শাড়ির নিয়মকে সমর্থন করেছেন। তাহলে এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন? তাছাড়াও মক্কাবাসিরা হলেন প্রত্যখ্ব মুসলিম তাহলে তাদের নিয়ম টাও ফেলে দেয় কি করে?আশা করি আপনার মূল্যবান মতামত জানিয়ে উপকৃত করবেন।আল্লাহ হাফেজ।

    • যে অঞ্চলে যে সুন্নাহ প্রচলিত সেখানে তা-ই চলতে দেওয়া উচিত। এর উপর আপত্তি করা ভুল। কেননা আপত্তি ওই বিষয়ে করা হয়, যা বিদআত বা সুন্নাহর পরিপন্থী। কিন্তু এক সুন্নাহর উপর এজন্য আপত্তি করা যায় না যে, এটা আরেক সুন্নাহ মোতাবেক নয়।

  3. সরাসরি যদি ওয়াটস আপে শেয়ার করা যেত,
    তাহলে অনেককেই শেয়ার করে দেখাতে পারতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =