জিজ্ঞাসা–১৯৩৭ : ঋণের কারণে, অভাবের দায়ে পতিতাবৃত্তি বা দেহ ব্যবসা বা পরপুষের সাথে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার চুক্তিতে জিনায় লিপ্ত হওয়া। কোনো পুরুষ অভিভাবকহীন নারী যদি এমন ঋণের দায়ে পড়ে যায় যে, যার কারণে তার দুইটি রাস্তা খোলা থাকে ১) আত্মহত্যা করা। ২) পতিতাবৃত্তি করা। ঠিক এরকমের কঠিন পরিস্থিতিতে ওই নারীর জন্য হুকুম কি? এবং ঐ মহিলা ঋণ শোধ করার জন্য যদি নিজের কন্যা সন্তানকেও এই কাজ করতে বলে তখন তার কন্যা সন্তানের করণীয় কি? এবং তার কন্যা সন্তান যদি এই কাজটা করা শুরু করে দেয় তার করণীয় কি?—আব্দুল করীম।
জবাব : যদি কোনো নারী পুরুষ অভিভাবকহীন অবস্থায় এমন ঋণ ও সংকটে পড়ে যান যে তার সামনে আত্মহত্যা বা পতিতাবৃত্তি—এই দুইটি পথই খোলা মনে হয়, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে এ দুটোর কোনোটিই বৈধ নয়। ইসলাম মানুষের কষ্ট, দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বকে বিবেচনা করে; কিন্তু হারামকে হালাল করে দেয় না। বরং এমন অবস্থায় ধৈর্য, তওবা, দোয়া, হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং মানুষের সাহায্য গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
আত্মহত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا
তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। [সূরা নিসা : ২৯]
আর ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ। [সূরা ইসরা : ৩২]
এছাড়া কুরআনে বিশেষভাবে নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ
তোমরা তোমাদের নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করো না। [সূরা নূর : ৩৩]
অতএব, কোনো মা যদি ঋণ শোধের জন্য নিজের মেয়েকেও এ কাজে বাধ্য করতে চান, তাহলে তা হারাম, জুলুম এবং মারাত্মক গুনাহ। মেয়ের জন্য এ আদেশ মানা বৈধ নয়। কারণ ইসলামে আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কারো আনুগত্য করা যায় না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
فَإِنْ أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ، فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَةَ
অসৎকাজে আনুগত্য নয় ;আনুগত্য কেবলমাত্র সৎকাজের ক্ষেত্রেই হতে হবে। (সহিহ বুখারী : ৭১৪৫]
তাই কন্যা সন্তানের করণীয় হলো—
-
এ কাজ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা,
- নিরাপদ কোনো আত্মীয়, আলেম, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া,
- নিজেকে নিরাপদ পরিবেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা,
-
হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের পথ খোঁজা।
আর যদি কোনো মেয়ে ইতিমধ্যে এ কাজে জড়িয়ে পড়ে থাকে, তাহলে তার জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ নয়। সে অবিলম্বে এ কাজ ছেড়ে দেবে, আন্তরিকভাবে তওবা করবে, হারাম সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং হালাল জীবিকার দিকে ফিরে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ
বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। [সূরা যুমার : ৫৩]
ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে শেখায় না। যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক, হারাম পথের পরিবর্তে হালাল পথ খোঁজার চেষ্টা করতে হবে এবং আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখতে হবে।