কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?

জিজ্ঞাসা–১৮৯৩ কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?—নাসরিন, গাজীপুর।

জবাব : প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর কুরবানী ওয়াজিব, যদি সে ১০ যিলহজের ফজর থেকে ১২ যিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়।

কুরবানীর নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, অতিরিক্ত জমি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য এবং অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র হিসাব করা হবে। তবে বসবাসের জন্য ব্যবহৃত বাড়ি, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খোরাকির সামগ্রী নেসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

নেসাব হলো— স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি স্বর্ণ, রৌপ্যের ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রৌপ্য। আর টাকা-পয়সা ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে হিসাব হবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্যের বর্তমান বাজারমূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকা।

কোনো ব্যক্তির কাছে পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য বা নগদ অর্থ না থাকলেও, যদি একাধিক সম্পদ একত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্যের মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। যেমন— কারো কাছে কিছু স্বর্ণ ও কিছু নগদ টাকা আছে; আলাদাভাবে কোনোটিই নেসাব পূর্ণ করে না, কিন্তু উভয়ের মোট মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্যের সমান হয়, তাহলে তার উপরও কুরবানী ওয়াজিব হবে। [আল-মুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫]

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। [সূরা আল-কাউসার : ২]

এছাড়া হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন

مَنْ وَجَدَ سَعَةً لِأَنْ يُضَحِّيَ فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا

যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। [মুসনাদে আহমদ : ২/৩২১]

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন