জিজ্ঞাসা–১৯৬৬ : আমার সাড়ে ৪ মাস এর বাচ্চা আল্লাহ গর্ভে থাকতেই নিয়ে গেছেন ওনার কাছে। আমার প্রশ্ন হলো, এই বাচ্চার তো সম্পূর্ণ বড় রুপে শরীর গঠন হয় নি, সে কি জান্নাতে যাবে? তার বাবা মায়ের জন্য সুপারিশ করবে? তাকে কি সম্পুর্ন জানাযা পড়িয়ে দাফন করতে হবে? জান্নাতে ত সবার বয়স একই থাকবে, তাকে ও কি বড় করে দেয়া হবে?—জাজাকাল্লাহ খাইরান।—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
এক. প্রিয় বোন, আল্লাহ আপনার সন্তানকে কবুল করুন, আপনার এই কষ্টকে নাজাত ও সওয়াবের মাধ্যম বানান এবং আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।
গর্ভের সন্তান যদি চার মাস পূর্ণ হওয়ার পর মারা যায়, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সন্তান মুসলিম পিতা-মাতার সন্তান হলে আল্লাহর রহমতের আশা করা যায় এবং সে আখিরাতে তার পিতা-মাতার জন্য উপকারের কারণ হবে।
রাসূল ﷺ বলেছেন
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ السِّقْطَ لَيَجُرُّ أُمَّهُ بِسَرَرِهِ إِلَى الْجَنَّةِ إِذَا احْتَسَبَتْهُ
গর্ভপাত হওয়া সন্তানও তার পিতা-মাতাকে নাভির নাড়ি ধরে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে, যদি তারা সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে। [সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬০৮]
আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল ﷺ বলেছেন
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ السِّقْطَ لَيَجُرُّ أُمَّهُ بِسَرَرِهِ إِلَى الْجَنَّةِ إِذَا احْتَسَبَتْهُ
অপূর্ণাঙ্গ (গর্ভপাত হওয়া) সন্তান তার রবের সঙ্গে ঝগড়া করতে থাকবে, যতক্ষণ না তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬০৯]
তাই আশা করা যায়, আপনার সন্তান আল্লাহর রহমতে আপনার জন্য সুপারিশকারী হবে।
দুই. জানাজার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, যদি চার মাস পূর্ণ হওয়ার পর গর্ভের সন্তান মৃত অবস্থায় বের হয়, তাহলে তাকে গোসল দেওয়া হবে, পবিত্র কাপড়ে জড়ানো হবে। তারপর দাফন করা হবে। তবে তার নামাজে জানাজা পড়া হবে না। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
الطِّفْلُ لاَ يُصَلَّى عَلَيْهِ وَلاَ يَرِثُ وَلاَ يُورَثُ حَتَّى يَسْتَهِلَّ
জন্মের পর কেঁদে না উঠা পর্যন্ত শিশুর জানাযা নেই। আর সে কারো ওয়ারিছ হবে না এবং তার থেকেও কেউ ওয়ারিছ হবে না। [ তিরমিযী : ১০৩২]
তিন. জান্নাতে তার বয়স কেমন হবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে জান্নাতে কোনো কষ্ট, অপূর্ণতা বা শিশুসুলভ অসহায় অবস্থা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা তাকে পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর অবস্থায় রাখবেন। জান্নাতের নেয়ামত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَلَهُمْ فِيهَا مَا يَشْتَهُونَ
সেখানে তারা যা চাইবে তাই পাবে। [সূরা আন-নাহল : ৩১]
সুতরাং, আপনার সন্তানের ব্যাপারে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং একজন মুমিনের জন্য আশা হলো—সে আল্লাহর রহমতে আছে এবং কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতার জন্য সুপারিশের কারণ হতে পারে।
আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য দান করুন এবং জান্নাতে আপনাদের পুনর্মিলন ঘটান। আমীন।