জিজ্ঞাসা–১৮৭৮: আমি ৫,০০০ দিয়ে জুয়া খেলে ১২,০০০ জিতেছি। এখন আমার মনে হয় এটা হারাম। তারপর আমি এই ১২,০০০ দিয়ে একটি বিশুদ্ধ হালাল ব্যবসা শুরু করি। এখন আমার মোট মূল্য ৫০,০০০। এখন বুঝলাম এটা জঘন্য কবিরাহ পাপ। এখন কি করলে এই মহাপাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এখন আমি যদি তওবা করে আমার এই ৫০,০০০ টাকা থেকে ১২,০০০ টাকা কোনো পুন্য বা লাভের আশা ছাড়া ই দান করে দেই তাহলে কি আমার বাকি টাকা হালাল হবে?—মেহেদী হাসান।
জবাব: নিসন্দেহে জুয়া কুরআনে সরাসরি হারাম ঘোষিত বড় কবিরা গুনাহগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ … رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ
হে ঈমানদারগণ! মদ ও জুয়া—এগুলো শয়তানের অপবিত্র কাজ। (সূরা মায়িদা ৯০)
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, এখন আপনার টাকার বিষয়টা সহজভাবে বুঝি—আপনি ৫,০০০ টাকা দিয়ে জুয়া খেলে ১২,০০০ জিতেছেন। পরে সেটা দিয়ে ব্যবসা করে ৫০,০০০ হয়েছে। সুতরাং জুয়া থেকে আসা মূল লাভ (১২,০০০) আপনার জন্য হালাল নয়। কিন্তু সেটা দিয়ে করা ব্যবসার পর যে অতিরিক্ত লাভ হয়েছে, সেটার ব্যাপারে ফুকাহারা বলেন—তা আলাদা হয়ে যায়, কারণ সেটা ‘পরিশ্রম ও ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত’।
অতএব, যদি আপনি শুধু নিজেকে হারাম থেকে মুক্ত করার নিয়তে ১২,০০০ টাকা আলাদা করে কোনো সওয়াবের নিয়ত না করে গরিব-মিসকিনকে দিয়ে দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ তোমার বাকি টাকা (৫০,০০০-এর বাকি অংশ) হালাল হিসেবে গণ্য হবে, কারণ সেটা ব্যবসার মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু সাথে আরেকটা জরুরি শর্ত আছে—আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে খাঁটি তওবা করা, ভবিষ্যতে জুয়ার কাছে না যাওয়া।
রাসূল ﷺ হারাম সম্পদের বিষয়ে বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا
আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না। (সহীহ মুসলিম ১০১৫)