জিজ্ঞাসা–১৯২৩ : আমার একটি মেয়েকে পছন্দ । সেই মেয়ের একবার ডিভোর্স হয়েছে, তাই আমার মা সে মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে রাজি নয় । এখন আমার করনীয় কি?—Mohammad Ali
এক. প্রথমে বিষয়টি শুধু আবেগ দিয়ে নয়; বরং শান্তভাবে কয়েকটি দিক থেকে মূল্যায়ন করুন।
প্রথমে বিষয়টি শুধু আবেগ দিয়ে নয়; বরং শান্তভাবে কয়েকটি দিক থেকে মূল্যায়ন করুন। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেও তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা নারীদের বিয়ে করেছেন। সাহাবিদের সমাজেও এটি স্বাভাবিক ছিল। তাই ‘ডিভোর্স হয়েছে’—এটিকে এককভাবে নেতিবাচক মানদণ্ড বানানো শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ
তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের বিবাহ দাও…। [সূরা নূর : ৩২]
দুই. তবে একইসঙ্গে মায়ের সন্তুষ্টি ও পরিবারের বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যদি আপনি আশঙ্কা করেন যে ভবিষ্যতে এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক অশান্তি তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় আপনার করণীয় হতে পারে—
- প্রথমে নিজের অনুভূতি ও সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে যাচাই করুন। এটা কি সাময়িক আবেগ, নাকি বাস্তব বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত?
- মেয়েটির দ্বীন, চরিত্র, আখলাক, মানসিকতা ও ভবিষ্যৎ জীবনের উপযোগিতা দেখুন।
- তার আগের বিবাহ ভাঙার কারণ নিরপেক্ষভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। শুধু ‘ডিভোর্সি’ পরিচয় দিয়ে কাউকে বিচার করবেন না।
- মায়ের সাথে ঝগড়া বা চাপ প্রয়োগ না করে ধীরে, সম্মান বজায় রেখে কথা বলুন।
- পরিবারের কোনো বুঝদার মাহরাম, বড় ভাই, চাচা, আলেম বা মধ্যস্থতাকারী থাকলে সাহায্য নিতে পারেন।
অনেক সময় বাবা-মায়ের আপত্তি আসে সামাজিক ভয়, মানুষের কথা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে। তাই ধৈর্য ও হিকমাহর সঙ্গে কথা বললে অবস্থান নরমও হতে পারে।
তিন. তবে এখানে ভারসাম্য জরুরি। শুধু পরিবারের চাপে একজন ভালো দ্বীনদার মানুষকে ছেড়ে দেওয়াও সবসময় সঠিক নয়। আবার পরিবারকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেও সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রজ্ঞাপূর্ণ নাও হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ
নারীকে চার কারণে বিয়ে করা হয়—তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীনের কারণে। অতএব তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও। [সহীহ বুখারী : ৫০৯০]
যদি মেয়েটি দ্বীনদার ও উত্তম চরিত্রের হন, এবং আপনি বাস্তবভাবে মনে করেন তার সঙ্গে স্থিতিশীল সংসার করা সম্ভব, তাহলে শুধু ‘ডিভোর্সি’ হওয়ার কারণে তাকে অযোগ্য মনে করার প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে ইস্তিখারা করুন, দোয়া করুন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেগের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিন।