তোমাকে ছেড়ে দিলাম বললে কি তালাক হবে?

জিজ্ঞাসা–১৯৫৩ :মহিলা রাগান্বিত অবস্থায় তার স্বামীকে বলেছে, আমাকে যদি তোমার ভালো না লাগে তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে দাও। তখন স্বামী বলেছে, তোমাকে ছেড়ে দিলাম। এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এখন আমার জানার বিষয় হলো, এর দ্বারা ঐ মহিলার উপর কোনো তালাক পতিত হয়েছে কিনা? তালাক পতিত হলে, তালাকে রজঈ পতিত হবে, না তালাকে বায়েন? জানিয়ে বাধিত করবেন।—রেজাউল কারীম।

‎‎জবাব : ইসলামী ফিকহের আলোকে ‘ছেড়ে দিলাম’ শব্দটি মূলত কিনায়া শব্দের অন্তর্ভুক্ত। তবে কোনো ভাষা বা সমাজে যদি এ শব্দ তালাকের অর্থে ব্যাপকভাবে প্রচলিত (উর্ফে আম) হয়ে যায়, তাহলে তা সারীহ তালাকের হুকুম লাভ করে। বর্তমান বাংলাদেশে ‘তোমাকে ছেড়ে দিলাম’ কথাটি সাধারণত বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই স্বামী স্ত্রীকে এ কথা বললে, নিয়ত থাকুক বা না থাকুক, তালাক সংঘটিত হবে।

বিশেষত প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় স্ত্রী নিজেই স্বামীকে বলেছেন, ‘আমাকে যদি তোমার ভালো না লাগে তাহলে আমাকে ছেড়ে দাও।’ এর উত্তরে স্বামী বলেছেন, ‘তোমাকে ছেড়ে দিলাম।’ সুতরাং কথোপকথনের প্রেক্ষাপটও স্পষ্টভাবে তালাকের অর্থকে নির্দেশ করে।

এ বিষয়ে ফাতাওয়া হিন্দিয়া-তে এসেছে,

ولو قال الرجل لامرأته تراجنك باز داشتم أو بهشتم أو يله كردم ترا أو بأي كشاده كردم ترا فهذا كله تفسير قوله طلقتك عرفا حتى يكون رجعيا ويقع بدون النية

অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে বলে, ‘আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম’, ‘মুক্ত করে দিলাম’ ইত্যাদি, তাহলে প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী এগুলো ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’-এরই সমার্থক বলে গণ্য হবে। ফলে এর দ্বারা এক তালাকে রজঈ সংঘটিত হবে এবং নিয়তের প্রয়োজন হবে না। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৪৪৭] 

অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনার দ্বারা এক তালাকে রজঈ পতিত হয়েছে।

তবে প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। শরিয়ত অনুযায়ী একজন স্বামীর হাতে সর্বোচ্চ তিন তালাকের অধিকার রয়েছে। তাই ঘটনাটি মোট কতবার ঘটেছে এবং প্রতিবারের পর ইদ্দতের মধ্যে রুজু হয়েছে কি না—তার ওপর বর্তমান বৈবাহিক অবস্থার হুকুম নির্ভর করবে।

  • যদি এ ঘটনা মোট একবার বা দুইবার ঘটে থাকে, তাহলে এক বা দুই তালাকে রজঈ সংঘটিত হয়েছে। ইদ্দতের মধ্যে রুজু করে থাকলে দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকবে।

  • আর যদি তিনবার এ ধরনের তালাক সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর জন্য চূড়ান্তভাবে হারাম হয়ে গেছেন। নতুন আকদ করেও পুনরায় একত্রে বসবাস বৈধ হবে না, যতক্ষণ না শরিয়তসম্মতভাবে অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ, সহবাস এবং পরবর্তীতে বৈধ বিচ্ছেদ সংঘটিত হয়।

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন