নাবালেগের ইমামতি কি জায়েয?

জিজ্ঞাসা–১৯০৯ : আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। হযরত আমার এলাকায় দেখছি ১০/১২ বছরের হাফেজ ছেলেদের দ্বারা তারাবি এবং ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়ায়। এদের পিছনে নামাজ আদায় করলে নামাজ সহীহ হবে কিনা?

বিঃদ্র: আমি জানতাম বালেক হওয়ার আলামত প্রকাশ না পেলে ১৫ বছর হলে নামাজ পড়াতে পারবে। কিন্তু এখন তো দেখি ব্যতিক্রম। যদি বিস্তারিত বুঝিয়ে দিতেন, উপকৃত হতাম।—মুহাম্মাদ রাজীব মোল্লা।

জবাব : وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

নাবালেগের ইমামতি সহিহ নয় এবং নির্ভরযোগ্য মতানুসারে , নাবালেগের পিছনে তারাবীহ নামাযও পড়া যাবে না। [রদ্দুল মুহতার : ১/৫৭৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/১৪৬]

কেননা

১. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

إنما جُعِلَ الإمامُ ليُؤتمَّ به؛ فلا تختلفوا عليه

অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নির্ধারণ করা হয়। কাজেই তার ভিন্ন হয়ো না। [সহীহ বুখারী : ৭২২]
বলা বাহুল্য, বালেগ আর আর নাবালেগের নামাযের বিধান এক নয়; বরং ভিন্ন। সুতরাং নাবালেগ ছেলে বালেগ ব্যক্তিদের ইমামতি করতে পারবে না।

২. হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

 رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنْ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبَرَ وَعَنْ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ أَوْ يُفِيقَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فِي حَدِيثِهِ وَعَنْ الْمُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ

তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে- ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়। অধস্তন রাবী আবূ বাকর রহ.-এর বর্ণনায় আছে, বেহুঁশ ব্যক্তি যতক্ষণ না সে হুঁশ ফিরে পায়। [ইবন মাজাহ : ২০৪১]
হাদিসটিতে বলা হয়েছে, নাবালেগ যতক্ষণ না সে বালেগ হয়, তার থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে। সুতরাং যার থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে, তার ইমামতি জায়েয নয়, যেমন পাগলের ইমামতি জায়েয নয়।

৩. হযরত আতা ও উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিততাঁরা বলেন, 

لاَ يَؤُمُّ الْغُلاَمُ قَبْلَ أَنْ يَحْتَلِمَ فِي الْفَرِيضَةِ وَلاَ غَيْرِهَا

নাবালেগ বাচ্চা ফরয-নফল কোনো নামাযেই ইমামতি করবে না। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৩৫২৪]