বয়স্ক ও অসুস্থ মায়ের পাশে ঘুমানোর বিধান

জিজ্ঞাসা–১৯০১ : আমার আব্বা মারা গেছেন ২০০৭ সালে। আমার মা বয়স্কা এবং অসুস্থ। ইদানিং আমার মনে হচ্ছে আমার মা রাতে একা ঘুমাতে ভয় পান। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। এই জন্য আমি আমার মার বিছানার এক কোনায় আড়াআড়ি ভাবে শুই। এতে মনে হয় উনি সাহস পান। প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কি এই ভাবে আমার মার সাথে শুতে পারব?—মোঃ সাইদুল ইসলাম।

জবাব : প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই! মায়ের খেদমত, দেখাশোনা ও তাকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেওয়া সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং বড় নেক আমল। আপনার মা যেহেতু বয়স্ক ও অসুস্থ, আর রাতে একা ভয় পান—এ অবস্থায় তাকে সাহস ও সঙ্গ দেওয়ার জন্য একই বিছানার এক পাশে বা আড়াআড়িভাবে শোয়া জায়েয হবে, ইনশাআল্লাহ; এতে কোনো গুনাহ নেই।

কারণ মা ও ছেলে পরস্পরের মাহরাম। শরীয়তে মাহরামদের ক্ষেত্রে সাধারণ সহাবস্থান, সেবা-যত্ন ও প্রয়োজনীয় নৈকট্যের অনুমতি রয়েছে, যতক্ষণ না কোনো ফিতনা বা অনৈতিক বিষয়ের আশঙ্কা থাকে। বিশেষত অসুস্থতা, বার্ধক্য ও সেবার প্রয়োজন হলে বিষয়টি আরও প্রশস্ত।

আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের ব্যাপারে ইরশাদ করেন,

وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ

দয়া ও মমতায় তাদের সামনে নম্রতার ডানা অবনত করে দাও। [সূরা ইসরা : ২৪]

আরও ইরশাদ হয়েছে

وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا

দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর। [সূরা লুকমান : ১৫]

ফুকাহায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন, মাহরাম আত্মীয়দের মধ্যে প্রয়োজনীয় সেবা, সহায়তা ও কাছাকাছি থাকা বৈধ। বিশেষ করে বার্ধক্য ও অসুস্থতার সময় সন্তানের জন্য পিতা-মাতার খেদমত করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

তবে আদবের দিক থেকে শরীর ঢেকে রাখা, শালীনতা বজায় রাখা এবং সম্ভব হলে আলাদা কম্বল বা স্বাভাবিক দূরত্ব বজায় রাখা উত্তম।

সুতরাং আপনার মাকে সাহস ও সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এভাবে পাশে শোয়া জায়েয এবং এটি মায়ের খেদমতের অন্তর্ভুক্ত একটি উত্তম কাজ।

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন